গৌরনদীতে ফ্যামিলি কার্ড উপকারভোগীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিময়
- আপডেট সময় : ০৫:৪৯:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির প্রকৃত চিত্র ও প্রভাব সম্পর্কে জানতে বরিশালের গৌরনদীতে ফ্যামিলি কার্ডধারী উপকারভোগী পরিবারগুলোর সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে গৌরনদীতে সকাল থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছিল। অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি এবং বিপুলসংখ্যক ফ্যামিলি কার্ডধারী উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় পর্বে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত নারীদের মধ্যে কয়েকজনের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার পর তাদের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন ও কর্মসূচির সুফল সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। উপকারভোগীরা জানান, এই কর্মসূচির ফলে তাদের সংসারে স্বস্তি ফিরেছে এবং সন্তানদের পড়াশোনা, চিকিৎসা ও দৈনন্দিন খরচ মেটাতে তারা অনেক বেশি সক্ষম হচ্ছেন।
সরিকল ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা পারুল আক্তার তার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার আগে সংসার চালানো ও সন্তানদের পড়াশোনার খরচ বহন করা অত্যন্ত কঠিন ছিল। অনেক সময় দুবেলা খাবার জোগাড় করাও অসম্ভব হয়ে পড়ত। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, আপনি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা বাস্তবে রূপ নিয়েছে। ভোট দেওয়ার পর হাতের কালি মোছার আগেই আমরা ফ্যামিলি কার্ড হাতে পেয়েছি। দেশের প্রথম দিকের উপকারভোগী হতে পেরে তিনি গর্ববোধ করেন। একই সঙ্গে তিনি ভাঙা থেকে বরিশাল পর্যন্ত ছয় লেন মহাসড়ক নির্মাণের দাবি জানান, যা দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ও অর্থনীতিতে গতি আনবে।
অন্য এক উপকারভোগী জানান, ফ্যামিলি কার্ডের সহায়তায় ওষুধের খরচ মেটানোর পাশাপাশি তিনি হাঁস-মুরগি পালন শুরু করেছেন, যা পরিবারের জন্য বাড়তি আয়ের পথ খুলে দিয়েছে। আরেক উপকারভোগী জানান, এই কার্ডের মাধ্যমে পাওয়া অর্থ তার সন্তানের পড়াশোনার খরচ জোগাতে বড় ভূমিকা রাখছে।
সবাইকে মনোযোগ দিয়ে শোনার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য কেবল আর্থিক সহায়তা প্রদান নয়, বরং প্রতিটি পরিবারকে আত্মনির্ভরশীল করে তোলা এবং নারীদের অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করা। তিনি উল্লেখ করেন, নারীর হাতে অর্থনৈতিক সক্ষমতা পৌঁছালে পরিবার ও সমাজ উভয়ই লাভবান হয়। তিনি আরও বলেন, এই কর্মসূচি প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তুলছে। পর্যায়ক্রমে এই কর্মসূচি দেশের আরও অনেক পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।




























