ঢাকা ১১:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নিউইয়র্কে গেটস ফাউন্ডেশনের সিইও মার্ক সুজম্যানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক মাদারগঞ্জে অনিয়মের দায়ে দুই ফার্মেসিকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা নেত্রকোনা-১ আসনের সাবেক এমপি মোশতাক আহমেদ রুহী গ্রেপ্তার নিউ ইয়র্কে নামছে না নেতানিয়াহুর উড়োজাহাজ মূল্যস্ফীতির চাপে নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখল কেন্দ্রীয় ব্যাংক টাকায় আন্তর্জাতিক লেনদেন সহজ করতে নতুন নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংকের পাকিস্তান–চীন নতুন সীমান্ত চুক্তি নিয়ে ভারতের তীব্র প্রতিক্রিয়া গুলশানে ককটেল বিস্ফোরণ মামলায় ১৫ আসামির ৩ দিনের রিমান্ড ক্ষমতার পাঁচ মাসে কেন হতাশ পশ্চিমবঙ্গের মানুষ, কী বলছে পরিস্থিতি মাদরাসা প্রধানদের ইআইআইএনভিত্তিক সিম কার্ড সচল রাখার নির্দেশ

অর্থনীতির তিন সংকটে উদ্বেগ জানিয়ে নতুন ঋণের আলোচনা শুরু আইএমএফের

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১১:৩১:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬ ৩৮ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধের প্রেক্ষিতে নতুন একটি ঋণ কর্মসূচি নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। তবে এই আলোচনার পাশাপাশি সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে যে, দেশের অর্থনীতি বর্তমানে রাজস্ব ঘাটতি, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির মতো তিনটি বড় সংকটের চাপে রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, ভর্তুকি যৌক্তিকীকরণ, কঠোর মুদ্রানীতি অনুসরণ এবং ব্যাংকিং খাতের ব্যাপক সংস্কারের ওপর জোর দিয়েছে আইএমএফ।

আইএমএফের মিশন প্রধান আইভো ক্রজনারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ১২ থেকে ১৬ জুলাই ঢাকা সফর করেন। সফরের শেষদিন বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানায়, এটি একটি তথ্য-সংগ্রহমূলক সফর ছিল, যেখানে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও আর্থিক খাতের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়েছে। নতুন ঋণ কর্মসূচির আকার, পরিধি এবং সংস্কারের প্রতিশ্রুতি নিয়ে আগামী কয়েক মাসে বিস্তারিত আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

আইএমএফের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি বাংলাদেশের বিদ্যমান রাজস্ব, আর্থিক খাত ও মূল্যস্ফীতিজনিত চ্যালেঞ্জকে আরও তীব্র করেছে। বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন মূল্যস্ফীতির চাপকে বাড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া ভর্তুকি ব্যয় বৃদ্ধি সরকারের সীমিত রাজস্ব সক্ষমতার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। অন্যদিকে, উচ্চ আমদানি ব্যয়ের কারণে বৈদেশিক খাতে ভারসাম্য রক্ষায় চাপ অব্যাহত থাকলেও প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধি শক্তিশালী রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংস্থাটি ২০২৫ সালের আর্টিকেল-৪ পরামর্শ প্রতিবেদনের নীতিগত অগ্রাধিকারকে ভিত্তি ধরে আলোচনার কথা জানিয়েছে। এর মধ্যে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি ও সামাজিক সুরক্ষা ব্যয় নিশ্চিত করার জন্য ভর্তুকি ব্যবস্থা যৌক্তিক করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সহায়তা কর্মসূচি জোরদার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পুনর্গঠনের জন্য কঠোর মুদ্রানীতি ও সতর্ক রাজস্বনীতি বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে ২০২৫ সালে চালু হওয়া ‘ক্রলিং পেগ’ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ব্যাংকিং খাতের বিষয়ে আইএমএফ বলেছে, একটি বিশ্বাসযোগ্য ও সমন্বিত কৌশলের আওতায় এই খাতের পুনর্গঠন জরুরি, যা সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে। সংস্থাটির প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন না হলে ২০২৭ অর্থবছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে। আর কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে মধ্যমেয়াদে প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশের নিচে নেমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। সবশেষে, সফরকালে বাংলাদেশ সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর গঠনমূলক আলোচনার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে আইএমএফ প্রতিনিধি দল।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

অর্থনীতির তিন সংকটে উদ্বেগ জানিয়ে নতুন ঋণের আলোচনা শুরু আইএমএফের

আপডেট সময় : ১১:৩১:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধের প্রেক্ষিতে নতুন একটি ঋণ কর্মসূচি নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। তবে এই আলোচনার পাশাপাশি সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে যে, দেশের অর্থনীতি বর্তমানে রাজস্ব ঘাটতি, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির মতো তিনটি বড় সংকটের চাপে রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, ভর্তুকি যৌক্তিকীকরণ, কঠোর মুদ্রানীতি অনুসরণ এবং ব্যাংকিং খাতের ব্যাপক সংস্কারের ওপর জোর দিয়েছে আইএমএফ।

আইএমএফের মিশন প্রধান আইভো ক্রজনারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ১২ থেকে ১৬ জুলাই ঢাকা সফর করেন। সফরের শেষদিন বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানায়, এটি একটি তথ্য-সংগ্রহমূলক সফর ছিল, যেখানে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও আর্থিক খাতের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়েছে। নতুন ঋণ কর্মসূচির আকার, পরিধি এবং সংস্কারের প্রতিশ্রুতি নিয়ে আগামী কয়েক মাসে বিস্তারিত আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

আইএমএফের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি বাংলাদেশের বিদ্যমান রাজস্ব, আর্থিক খাত ও মূল্যস্ফীতিজনিত চ্যালেঞ্জকে আরও তীব্র করেছে। বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন মূল্যস্ফীতির চাপকে বাড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া ভর্তুকি ব্যয় বৃদ্ধি সরকারের সীমিত রাজস্ব সক্ষমতার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। অন্যদিকে, উচ্চ আমদানি ব্যয়ের কারণে বৈদেশিক খাতে ভারসাম্য রক্ষায় চাপ অব্যাহত থাকলেও প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধি শক্তিশালী রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংস্থাটি ২০২৫ সালের আর্টিকেল-৪ পরামর্শ প্রতিবেদনের নীতিগত অগ্রাধিকারকে ভিত্তি ধরে আলোচনার কথা জানিয়েছে। এর মধ্যে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি ও সামাজিক সুরক্ষা ব্যয় নিশ্চিত করার জন্য ভর্তুকি ব্যবস্থা যৌক্তিক করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সহায়তা কর্মসূচি জোরদার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পুনর্গঠনের জন্য কঠোর মুদ্রানীতি ও সতর্ক রাজস্বনীতি বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে ২০২৫ সালে চালু হওয়া ‘ক্রলিং পেগ’ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ব্যাংকিং খাতের বিষয়ে আইএমএফ বলেছে, একটি বিশ্বাসযোগ্য ও সমন্বিত কৌশলের আওতায় এই খাতের পুনর্গঠন জরুরি, যা সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে। সংস্থাটির প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন না হলে ২০২৭ অর্থবছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে। আর কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে মধ্যমেয়াদে প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশের নিচে নেমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। সবশেষে, সফরকালে বাংলাদেশ সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর গঠনমূলক আলোচনার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে আইএমএফ প্রতিনিধি দল।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin