সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের রক্ষণাত্মক কৌশলের মাশুল, আর্জেন্টিনার দাপটে বিদায়
- আপডেট সময় : ১০:৪৬:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
সেমিফাইনালে গোল করার পর ইংল্যান্ডের আক্রমণাত্মক ফুটবল থমকে যায়। আর্জেন্টিনার কাছে ১-২ ব্যবধানে হেরে বিদায় নেওয়ার পেছনে কোচ টমাস টুখেলের রক্ষণাত্মক কৌশল ও পাসিং পরিসংখ্যানের ব্যর্থতা সামনে এসেছে।

বিশ্বকাপ ফুটবলের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার জয়ের নেপথ্যে ছিল দুই দলের খেলার ধরনে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। ম্যাচের পরিসংখ্যান বলছে, অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে ইংল্যান্ড এগিয়ে যাওয়ার আগে থেকেই পাসিংয়ের দিক থেকে আর্জেন্টিনা এগিয়ে ছিল। তবে গোল পাওয়ার পর ইংলিশদের আক্রমণাত্মক ফুটবল যেন পুরোপুরি থমকে যায়। বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের নিজেদের অর্ধে খেলার জন্য এক প্রকার আমন্ত্রণই জানিয়েছিল ইংল্যান্ড।
ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোবো’র ডাটা পার্টনার ‘ফুটস্ট্যাটস’র হিসাব অনুযায়ী, দ্বিতীয়ার্ধের ৫৫ মিনিটে গর্ডনের গোল থেকে শুরু করে ৯২ মিনিটে লাউতারো মার্টিনেজের জয়সূচক গোল পর্যন্ত ৩৬ মিনিটের ব্যবধানে ইংল্যান্ড মাত্র ২০টি সফল পাস দিতে পেরেছিল এবং শট নিয়েছিল স্রেফ ৩টি। ঠিক সেই একই সময়ে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা দারুণ আধিপত্য বজায় রেখে ২৫৫টি সফল পাস দেওয়ার পাশাপাশি ৯ বার শটের চেষ্টা চালায়, যার মধ্যে দুটি গোলও আসে। পুরো ম্যাচে ইংল্যান্ড কেবল শেষ ১০ মিনিটে আর্জেন্টিনার চেয়ে বেশি পাস আদান-প্রদান করতে পেরেছিল, যখন তারা পিছিয়ে পড়েছিল। তবে সেই সময়েও টুখেলের শিষ্যরা লক্ষ্যে একটিও শট নিতে পারেনি।
ম্যাচ চলাকালীন কোচ টমাস টুখেলের কৌশল নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। ইংল্যান্ড এগিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধের ৭২ থেকে ৮২ মিনিটের মধ্যে তিনি তিনটি রক্ষণাত্মক পরিবর্তন আনেন। তিনি উইঙ্গার অ্যান্থনি গর্ডন, মিডফিল্ডার ডেক্লান রাইস এবং রাইট-ব্যাক রিস জেমসকে তুলে নিয়ে সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার কোনসা, ফুল-ব্যাক নিকো ও‘রাইলি এবং ডিফেন্ডার ড্যানিয়েল বার্নকে মাঠে নামান। অর্থাৎ আক্রমণ ও মাঝমাঠের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের বদলে তিনি রক্ষণভাগ শক্তিশালী করার চেষ্টা করেন।
আর্জেন্টিনা যখন ম্যাচে এগিয়ে যায়, তখন ৯৬ মিনিটে টুখেল তড়িঘড়ি করে ডিফেন্ডার স্টোনস ও স্পেন্সকে তুলে নিয়ে স্ট্রাইকার রাশফোর্ড ও ইভান টোনিকে নামান। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ১-২ ব্যবধানের হারে মাঠ ছাড়তে হয় থ্রি লায়ন্সদের।
























