ঢাকা ০৭:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ত্রিশালে সড়ক দুর্ঘটনায় জন্ম নেয়া ফাতেমার চতুর্থ জন্মদিন পালন ডিএনসিসির ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট: ৪ হাজার ৫২৭ কোটি টাকার প্রস্তাব জুলাই গণঅভ্যুত্থান সফল, তবে পূর্ণতা পেতে আরও কাজ বাকি: বক্তারা প্রতিশ্রুতি রক্ষা ও ইসলাম: গুরুত্ব ও দায়বদ্ধতার স্বরূপ শহীদ আবু সাঈদের কবরের পাশে এখনো অঝোরে কাঁদেন মা মনোয়ারা বেগম ২০২৮ ইউরো পর্যন্ত ইংল্যান্ডের কোচ থাকছেন টমাস টুখেল নৌবাহিনীর নতুন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেলেন খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম বোয়ালখালীতে লবণ কারখানায় সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, দগ্ধ ১০ শ্রমিক ২২ জুলাই ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকিতে মুক্তি পাচ্ছে শাকিবের ‘রকস্টার’ ইসরো থেকে বিজ্ঞানীদের গণপদত্যাগ: বেসরকারি স্টার্টআপে যোগ দেওয়ার হিড়িক

শহীদ আবু সাঈদের কবরের পাশে এখনো অঝোরে কাঁদেন মা মনোয়ারা বেগম

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:০১:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

জুলাই বিপ্লবের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের মা মনোয়ারা বেগম এখনো ছেলের ছবি হাতে কবরের পাশে গিয়ে অঝোরে কাঁদেন। প্রিয় সন্তানের মায়াভরা মুখ প্রতিনিয়ত তার স্মৃতিতে ভেসে ওঠে, যা পরিবারের সদস্যদের জন্যও এক গভীর বেদনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মেধাবী আবু সাঈদকে নিয়ে পরিবারের অনেক স্বপ্ন ছিল, কিন্তু ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকারের পেটোয়া বাহিনী ও তৎকালীন পুলিশের গুলিতে সেই স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে যায়।

আবু সাঈদের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও আদালতের রায় কার্যকরের দাবি জানানো হয়েছে। পরিবারের মতে, আবু সাঈদের স্বপ্ন ও চাওয়াগুলো বাস্তবায়িত না হলে জুলাই আন্দোলনের সফলতা ম্লান হয়ে যাবে। শহীদ আবু সাঈদের বড় ভাই ও মামলার বাদী রমজান আলী জানান, কয়েকজনের মৃত্যুদণ্ড হলেও রায় কার্যকর না হওয়ায় তারা বিচার পাচ্ছেন না। মা মনোয়ারা বেগম ও বাবা মকবুল হোসেনও তাদের ছেলের হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার কার্যকর করার আকুল আবেদন জানিয়েছেন।

আবু সাঈদের সহযোদ্ধা সুমন, ইমরান ও ইমতিসহ সহপাঠীরা জানান, আবু সাঈদ ছিল জুলাই আন্দোলনের আইডল। তার আত্মত্যাগ সারা দেশের যোদ্ধাদের সাহস জুগিয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, হত্যাকাণ্ডের রায়ে আশার প্রতিফলন ঘটেনি। যারা এই হত্যাকাণ্ডে প্ররোচনা দিয়েছে, তাদেরও কঠিন শাস্তির আওতায় আনতে হবে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত শহীদ পরিবারের মনে শান্তি ফিরবে না বলে তারা মনে করেন।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সংলগ্ন মডার্ন মোড়ের বাসিন্দা আখতার হোসেন ও ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম জানান, আবু সাঈদ অত্যন্ত ভদ্র ও মার্জিত ছেলে ছিল। তারা বর্তমান সরকারের কাছে মামলার রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানান। এদিকে, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের তাজহাট থানার ওসি আতাউর রহমান জানান, বিষয়টি ট্রাইব্যুনালে হয়েছে এবং তাদের কাছে এখন পর্যন্ত কোনো ওয়ারেন্ট আসেনি। ট্রাইব্যুনালের নির্দেশনা অনুযায়ী তারা কাজ করবেন।

বেরোবি উপাচার্য শওকত আলী বলেন, আবু সাঈদের আত্মত্যাগের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় আজ অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। তার স্মৃতি ধরে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নানা উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি আরও বলেন, আবু সাঈদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্মকে জানানো হবে যে, তার কারণেই বাংলাদেশ নতুন করে আলোর মুখ দেখেছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

শহীদ আবু সাঈদের কবরের পাশে এখনো অঝোরে কাঁদেন মা মনোয়ারা বেগম

আপডেট সময় : ০৬:০১:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
print news

জুলাই বিপ্লবের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের মা মনোয়ারা বেগম এখনো ছেলের ছবি হাতে কবরের পাশে গিয়ে অঝোরে কাঁদেন। প্রিয় সন্তানের মায়াভরা মুখ প্রতিনিয়ত তার স্মৃতিতে ভেসে ওঠে, যা পরিবারের সদস্যদের জন্যও এক গভীর বেদনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মেধাবী আবু সাঈদকে নিয়ে পরিবারের অনেক স্বপ্ন ছিল, কিন্তু ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকারের পেটোয়া বাহিনী ও তৎকালীন পুলিশের গুলিতে সেই স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে যায়।

আবু সাঈদের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও আদালতের রায় কার্যকরের দাবি জানানো হয়েছে। পরিবারের মতে, আবু সাঈদের স্বপ্ন ও চাওয়াগুলো বাস্তবায়িত না হলে জুলাই আন্দোলনের সফলতা ম্লান হয়ে যাবে। শহীদ আবু সাঈদের বড় ভাই ও মামলার বাদী রমজান আলী জানান, কয়েকজনের মৃত্যুদণ্ড হলেও রায় কার্যকর না হওয়ায় তারা বিচার পাচ্ছেন না। মা মনোয়ারা বেগম ও বাবা মকবুল হোসেনও তাদের ছেলের হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার কার্যকর করার আকুল আবেদন জানিয়েছেন।

আবু সাঈদের সহযোদ্ধা সুমন, ইমরান ও ইমতিসহ সহপাঠীরা জানান, আবু সাঈদ ছিল জুলাই আন্দোলনের আইডল। তার আত্মত্যাগ সারা দেশের যোদ্ধাদের সাহস জুগিয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, হত্যাকাণ্ডের রায়ে আশার প্রতিফলন ঘটেনি। যারা এই হত্যাকাণ্ডে প্ররোচনা দিয়েছে, তাদেরও কঠিন শাস্তির আওতায় আনতে হবে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত শহীদ পরিবারের মনে শান্তি ফিরবে না বলে তারা মনে করেন।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সংলগ্ন মডার্ন মোড়ের বাসিন্দা আখতার হোসেন ও ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম জানান, আবু সাঈদ অত্যন্ত ভদ্র ও মার্জিত ছেলে ছিল। তারা বর্তমান সরকারের কাছে মামলার রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানান। এদিকে, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের তাজহাট থানার ওসি আতাউর রহমান জানান, বিষয়টি ট্রাইব্যুনালে হয়েছে এবং তাদের কাছে এখন পর্যন্ত কোনো ওয়ারেন্ট আসেনি। ট্রাইব্যুনালের নির্দেশনা অনুযায়ী তারা কাজ করবেন।

বেরোবি উপাচার্য শওকত আলী বলেন, আবু সাঈদের আত্মত্যাগের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় আজ অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। তার স্মৃতি ধরে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নানা উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি আরও বলেন, আবু সাঈদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্মকে জানানো হবে যে, তার কারণেই বাংলাদেশ নতুন করে আলোর মুখ দেখেছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh