সিনিয়র অফিসারের ৯০৩ পদে চাকরি: এমসিকিউ পরীক্ষার প্রস্তুতি ও কৌশল
- আপডেট সময় : ০৫:২৪:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্যারিয়ার গড়তে তরুণ চাকরিপ্রার্থীদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। আকর্ষণীয় বেতন কাঠামো, ইনসেনটিভ বোনাস, লাঞ্চ ভাতা ও গৃহঋণসহ নানা সুযোগ-সুবিধার কারণে এই খাতে প্রতিযোগিতাও আগের চেয়ে অনেক তীব্র। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি সচিবালয় ৯টি ব্যাংক ও ২টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ৯ম গ্রেডের সিনিয়র অফিসার (জেনারেল) পদের ৯০৩টি শূন্য পদের এমসিকিউ পরীক্ষার জন্য প্রার্থীদের প্রবেশপত্র ডাউনলোডের নির্দেশ দিয়েছে। ২০২৬ সালের ২১ মে প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আওতায় এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী এই পদের মূল বেতন স্কেল ২২,০০০ থেকে ৫৩,০৬০ টাকা। এর সঙ্গে নিয়মানুযায়ী অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ও ভাতা দেওয়া হবে। চূড়ান্ত নিয়োগের প্রথম ধাপ হিসেবে প্রার্থীদের ১০০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। এই পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ইংরেজি ব্যাকরণ ও সাহিত্যে ২০, বাংলা ব্যাকরণ ও সাহিত্যে ২০, সাধারণ গণিতে ২০, ফিন্যান্সিয়াল ও ব্যাংকিং নলেজে ১০, অ্যানালিটিক্যাল স্কিলে ২০ এবং আইসিটির বেসিক নলেজে ১০ নম্বর বরাদ্দ থাকবে।
এই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সফল হতে প্রার্থীদের কিছু সুনির্দিষ্ট কৌশল অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনের সিনিয়র অফিসার রাজিব খান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগ থেকে বিবিএ ও এমবিএ সম্পন্ন করা এবং ব্যাংকিং প্রফেশনাল পরীক্ষার উভয় পর্ব (জেএআইবিবি ও এআইবিবি) উত্তীর্ণ এই কর্মকর্তার মতে, এমসিকিউ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হলে শুরুতেই ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি সচিবালয়ের নেওয়া পূর্ববর্তী বছরের সব নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন সমাধান করতে হবে। এছাড়া ১০০ নম্বরের পরীক্ষায় কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে বেশি জোর দিয়ে অন্য বিষয়কে অবহেলা করা যাবে না। বিশেষ করে ১০ নম্বরের ফিন্যান্সিয়াল ও ব্যাংকিং নলেজ অংশটি অনেকেই এড়িয়ে যান, যা পরীক্ষার হলে বড় বিপদের কারণ হতে পারে।
গণিত ও অ্যানালিটিক্যাল স্কিলের মোট ৪০ নম্বর পরীক্ষার ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে। তাই এই দুটি বিষয়ে দ্রুত সমস্যা সমাধানের দক্ষতা অর্জন করতে হবে। এমসিকিউ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে অন্তত ৭০ শতাংশ নম্বর পাওয়ার লক্ষ্য রাখা উচিত। নেগেটিভ মার্কিংয়ের বিষয়টি মাথায় রেখে ভুল উত্তর দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে, কারণ প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য শূন্য দশমিক ২৫ নম্বর কাটা যাবে। তাই সম্পূর্ণ অজানা প্রশ্নের উত্তর আন্দাজে দেওয়া যাবে না।
ঘরে বসে নিয়মিত প্রস্তুতি যাচাইয়ের জন্য স্টপওয়াচ ধরে প্রতিদিন অন্তত দুটি করে মডেল টেস্ট দেওয়া প্রয়োজন। এর জন্য বাজার থেকে ভালো মানের গাইড বই বা অনলাইন অ্যাপের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধান, সামিটের তারিখ ও মুদ্রার বিনিময় হারের মতো পরিবর্তনশীল তথ্যগুলোর নিয়মিত খোঁজখবর রাখতে হবে। পরীক্ষার হলে প্রথমে কমন পড়া ৫০ থেকে ৬০টি প্রশ্নের উত্তর ২০ থেকে ২৫ মিনিটের মধ্যে দিয়ে দেওয়া ভালো। এরপর দ্বিতীয় ধাপে মাথা ঠান্ডা রেখে কমনসেন্স খাটিয়ে কঠিন প্রশ্নগুলো সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। মনে রাখতে হবে, প্রিলিমিনারি বা এমসিকিউ পরীক্ষা মূলত লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার একটি বাছাই পর্ব মাত্র, চূড়ান্ত চাকরি নির্ধারিত হবে লিখিত ও ভাইভার নম্বরের ভিত্তিতে।
এবারের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মোট ১১টি প্রতিষ্ঠানে ৯০৩ জন জনবল নেওয়া হবে। এর মধ্যে রূপালী ব্যাংক পিএলসিতে ৪৭১টি, অগ্রণী ব্যাংক পিএলসিতে ২৪০টি, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে ৮০টি, কর্মসংস্থান ব্যাংকে ৩৯টি, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকে ৩২টি, বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনে ২০টি, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশে ১১টি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসিতে ৫টি, বেসিক ব্যাংক পিএলসিতে ২টি, আনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকে ২টি এবং প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকে ১টি শূন্য পদ রয়েছে।
নেগেটিভ মার্ক বাদ দেওয়ার পরেও আপনার ১০০ নম্বরের মধ্যে প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ নম্বর নিশ্চিত করতে পারলে, এমসিকিউ উত্তীর্ণ হয়ে লিখিত পরীক্ষায় অবতীর্ণ হওয়ার সুযোগ পাবেন।.বিনা মূল্যে এআই প্রশিক্ষণ, দিনে ভাতা ২০০, যাঁরা আবেদনের যোগ্য .৫.





























