ঢাকা ১১:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিল ক্লিনটনের অভিশংসন ও নীল পোশাকের সেই আলোড়ন সৃষ্টিকারী ইতিহাস যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন ফি ও বিধিনিষেধের প্রস্তাব এমপি মালিকের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে ফের লাইভে ইউপি চেয়ারম্যান ওলিদ খুলনায় ছেলেকে হত্যার ৫০ দিন পর বাবাকেও গুলি করে হত্যা এল নিনোর প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে সহায়তায় প্রস্তুত আইএমএফ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ৩৩০ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন হবিগঞ্জের রতনপুর-ছাতিয়াইন সড়কে খানাখন্দ, দুর্ভোগে ৩ উপজেলার মানুষ ভঙ্গুর অর্থনীতি সামলাতে নিজস্ব সংস্কার কৌশলে এগোচ্ছে সরকার দুর্গাপূজায় ৫ দিনের ছুটি, ঐচ্ছিক নিলে মিলবে ৭ দিন গৌরীপুরে ভয়াবহ আগুনে পুড়ল শতবর্ষী ঐতিহাসিক ‘ঝলমল সিনেমা হল’

শান্তিতে নোবেল পুরস্কার আমারই পাওয়া উচিত: ডোনাল্ড ট্রাম্প

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৩:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ও চলমান সংঘাতের মাঝেই তিনি দাবি করেছেন, এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারটি তারই পাওয়া উচিত। তবে নরওয়ের নোবেল কমিটি তাকে এই পুরস্কার দেবে কি না, তা নিয়ে ট্রাম্প নিজেই কিছুটা সংশয় প্রকাশ করেছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীর নাম আগামী শুক্রবার ঘোষণা করবে নরওয়ের নোবেল কমিটি। এর আগে গত বুধবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, তারা কী সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে, তা তিনি জানেন না। নোবেল কমিটির সুনাম রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, হয়তো তার মতো মানুষকে তারা পুরস্কার না-ও দিতে পারে। তবে দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকেই ট্রাম্প নিজেকে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কারের যোগ্য বলে দাবি করে আসছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, "এখন সেই সময় এসেছে।"

নিজের দাবির সপক্ষে ট্রাম্প বলেন, গতবার পরোক্ষভাবে এই পুরস্কার পেয়ে তিনি অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করেছেন। মূলত ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী ভেনিজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো তার পদকটি ট্রাম্পকে উৎসর্গ করেছিলেন। গত জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিয়ে ভেনিজুয়েলায় রাজনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করার সময় তিনি ওই পদক ট্রাম্পের হাতে তুলে দেন। ট্রাম্প সম্ভবত এটিকেই পরোক্ষভাবে পুরস্কার পাওয়া হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এছাড়া দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর আটটি সংঘাতে হস্তক্ষেপ করেছেন দাবি করে ট্রাম্প বলেন, এসব কারণে নোবেল শান্তি পুরস্কার তার পাওয়া উচিত। কম্বোডিয়া, ইসরাইল ও পাকিস্তানের নেতারা তাকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দিয়েছেন বলে ট্রাম্প জানালেও এর সত্যতা যাচাই করা যায়নি।

তবে ট্রাম্পের এই দাবির বিপরীতে রয়েছে ব্যাপক সমালোচনা ও অমীমাংসিত সংঘাতের দীর্ঘ তালিকা। শান্তিতে নোবেল পাওয়ার আশা করলেও ইরানের সঙ্গে এখনও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত চলছে। দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার প্রথম দিনেই ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিলেও সেই সংঘাতের অবসান ঘটাতে পারেননি তিনি। এছাড়া ট্রাম্পের বেশ কিছু বিতর্কিত পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে সমালোচিত হয়েছে। তিনি লেক অব টরন্টোকে নিজের মতো করে ‘লেক অব আমেরিকা’ নামকরণ করেছেন, কানাডা দখল করে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম রাজ্য বানানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন এবং গ্রিনল্যান্ড দখল করার হুমকি দিয়েছেন। এমনকি গাজা দখল করে সেখানে ‘রিভেরা’ বানানোর পরিকল্পনাও জানিয়েছেন তিনি।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ট্রাম্পের অন্যান্য পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তার রাজধানী থেকে তুলে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া, কিউবার ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে অতিরিক্ত শুল্ক নির্ধারণ করা। এছাড়া ভেনিজুয়েলার তেলও কার্যত নিজের দখলে নিয়েছেন তিনি। ট্রাম্প যেসব সংঘাতের সমাধান করেছেন বলে দাবি করেন, ডেমোক্রেটিক请求 কঙ্গো এবং কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড সীমান্তের মতো বেশ কিছু অঞ্চলে আবারও লড়াই শুরু হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো তার কূটনৈতিক ভূমিকা নিয়ে আপত্তি তুলেছে।

এদিকে, ইরান ও ইসরাইলের মধ্যকার সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং গ্যাসের দাম বেড়েছে। আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রে এর রাজনৈতিক প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। উল্লেখ্য, এবারের নোবেল শান্তি পুরস্কারের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় পোপ লিও, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক বিশেষ র‌্যাপোর্টিয়ারের নাম রয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

শান্তিতে নোবেল পুরস্কার আমারই পাওয়া উচিত: ডোনাল্ড ট্রাম্প

আপডেট সময় : ০৯:৫৩:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ও চলমান সংঘাতের মাঝেই তিনি দাবি করেছেন, এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারটি তারই পাওয়া উচিত। তবে নরওয়ের নোবেল কমিটি তাকে এই পুরস্কার দেবে কি না, তা নিয়ে ট্রাম্প নিজেই কিছুটা সংশয় প্রকাশ করেছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীর নাম আগামী শুক্রবার ঘোষণা করবে নরওয়ের নোবেল কমিটি। এর আগে গত বুধবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, তারা কী সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে, তা তিনি জানেন না। নোবেল কমিটির সুনাম রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, হয়তো তার মতো মানুষকে তারা পুরস্কার না-ও দিতে পারে। তবে দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকেই ট্রাম্প নিজেকে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কারের যোগ্য বলে দাবি করে আসছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, "এখন সেই সময় এসেছে।"

নিজের দাবির সপক্ষে ট্রাম্প বলেন, গতবার পরোক্ষভাবে এই পুরস্কার পেয়ে তিনি অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করেছেন। মূলত ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী ভেনিজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো তার পদকটি ট্রাম্পকে উৎসর্গ করেছিলেন। গত জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিয়ে ভেনিজুয়েলায় রাজনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করার সময় তিনি ওই পদক ট্রাম্পের হাতে তুলে দেন। ট্রাম্প সম্ভবত এটিকেই পরোক্ষভাবে পুরস্কার পাওয়া হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এছাড়া দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর আটটি সংঘাতে হস্তক্ষেপ করেছেন দাবি করে ট্রাম্প বলেন, এসব কারণে নোবেল শান্তি পুরস্কার তার পাওয়া উচিত। কম্বোডিয়া, ইসরাইল ও পাকিস্তানের নেতারা তাকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দিয়েছেন বলে ট্রাম্প জানালেও এর সত্যতা যাচাই করা যায়নি।

তবে ট্রাম্পের এই দাবির বিপরীতে রয়েছে ব্যাপক সমালোচনা ও অমীমাংসিত সংঘাতের দীর্ঘ তালিকা। শান্তিতে নোবেল পাওয়ার আশা করলেও ইরানের সঙ্গে এখনও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত চলছে। দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার প্রথম দিনেই ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিলেও সেই সংঘাতের অবসান ঘটাতে পারেননি তিনি। এছাড়া ট্রাম্পের বেশ কিছু বিতর্কিত পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে সমালোচিত হয়েছে। তিনি লেক অব টরন্টোকে নিজের মতো করে ‘লেক অব আমেরিকা’ নামকরণ করেছেন, কানাডা দখল করে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম রাজ্য বানানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন এবং গ্রিনল্যান্ড দখল করার হুমকি দিয়েছেন। এমনকি গাজা দখল করে সেখানে ‘রিভেরা’ বানানোর পরিকল্পনাও জানিয়েছেন তিনি।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ট্রাম্পের অন্যান্য পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তার রাজধানী থেকে তুলে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া, কিউবার ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে অতিরিক্ত শুল্ক নির্ধারণ করা। এছাড়া ভেনিজুয়েলার তেলও কার্যত নিজের দখলে নিয়েছেন তিনি। ট্রাম্প যেসব সংঘাতের সমাধান করেছেন বলে দাবি করেন, ডেমোক্রেটিক请求 কঙ্গো এবং কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড সীমান্তের মতো বেশ কিছু অঞ্চলে আবারও লড়াই শুরু হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো তার কূটনৈতিক ভূমিকা নিয়ে আপত্তি তুলেছে।

এদিকে, ইরান ও ইসরাইলের মধ্যকার সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং গ্যাসের দাম বেড়েছে। আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রে এর রাজনৈতিক প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। উল্লেখ্য, এবারের নোবেল শান্তি পুরস্কারের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় পোপ লিও, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক বিশেষ র‌্যাপোর্টিয়ারের নাম রয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin