ঢাকা ০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গোমস্তাপুরে কৃষক দলের বার্ষিক বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত পিরোজপুরে মাছ ধরার বোটে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি জব্দ মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও আলতাফ মাহমুদ বলেছিলেন, ‘দেশ স্বাধীন হবেই’ সরবরাহ কমিয়ে বোতলজাত সয়াবিনের কৃত্রিম সংকট, বাজারে বাড়তি দাম মানুষ কষ্টে আছে, দেশে নিরাপত্তা নেই: জামায়াত আমীর নেশনস লিগে স্পেনের টানা তৃতীয় জয়, আবারও ঝলক ইয়ামালের চাঁপাইনবাবগঞ্জে সৎ ছেলের ছুরিকাঘাতে গৃহবধূর মৃত্যু ঢাকার গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরানোর উদ্যোগ ব্যর্থ: চাঁদাবাজি ও ভুল পরিকল্পনায় জিম্মি সড়ক শেখ হাসিনাকে অবতরণের অনুমতি দেওয়া ছাড়া বিকল্প ছিল না: ভারতীয় হাইকমিশনার গাজীপুরে পোশাক কারখানায় আগুন, ছাদে আটকা পড়া ৭০ জন উদ্ধার

তুরস্কের সামরিক প্রভাব রুখতে ইসরাইলের দিকে ঝুঁকছে সোমালিল্যান্ড

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০২:২৩:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



আফ্রিকার হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চলে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর ভূরাজনৈতিক সমীকরণ নতুন করে জটিল হয়ে উঠছে। ইসরাইলের সঙ্গে সোমালিল্যান্ডের সাম্প্রতিক ঘনিষ্ঠতাকে কেবল লোহিত সাগর পেরিয়ে ইয়েমেনের হুতিদের মোকাবিলার কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে না; এর পেছনে তুরস্কের ক্রমবর্ধমান সামরিক উপস্থিতি ঠেকানোর হিসাবও কাজ করছে বলে দাবি করছেন সোমালিল্যান্ডের কর্মকর্তারা।

আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি না পাওয়া সোমালিল্যান্ডের রাজধানী হারগেইসার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ইসরাইলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সিদ্ধান্তের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল প্রতিবেশী সোমালিয়ায় তুরস্কের সামরিক প্রভাব বাড়তে থাকা। মুসলিম ও আরব বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ এই সম্পর্কের সমালোচনা করলেও সোমালিল্যান্ড মনে করছে, নিজেদের কৌশলগত নিরাপত্তার স্বার্থে ইসরাইলের সঙ্গে সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সোমালিল্যান্ডের প্রেসিডেন্টের পররাষ্ট্রবিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মোহাম্মদ ওসমান ফাদাল জানান, তাদের একটি শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন। তার দাবি, সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিশুতে তুরস্কের এফ-১৬ যুদ্ধবিমান রয়েছে এবং সেখানে একটি ড্রোন ঘাঁটি তৈরির পরিকল্পনাও করছে আঙ্কারা। ফাদাল বলেন, ‘আমরা চাই, তুরস্কের বিরুদ্ধে ইসরাইল আমাদের সহযোগিতা করুক।’

একই সুর শোনা গেছে সোমালিল্যান্ডের পররাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আবদিরাহমান হাসানের কণ্ঠেও। তিনি বলেন, আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার বাস্তবতায় তাদের একটি পক্ষ বেছে নিতে হয়েছে। ১৯৯১ সালে স্বাধীনতা ঘোষণার পর থেকে তারা আরব ও মুসলিম দেশগুলোর কাছ থেকে স্বীকৃতি পাওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে এখন এই নতুন পথে হাঁটছেন। হাসান আরও জানান, সোমালিল্যান্ডের সেনাবাহিনী সক্ষম হলেও প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জাম ও উপকরণের ঘাটতি রয়েছে, যা তারা ইসরাইলের সহায়তায় পূরণ করতে চায়।

ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে সোমালিল্যান্ড এডেন উপসাগরের তীরে অবস্থিত এবং ইয়েমেনের বেশ কাছাকাছি। ফলে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব প্রণালির ওপর নজরদারি এবং ইয়েমেনের হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক তৎপরতায় সোমালিল্যান্ড ইসরাইলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে হুতিদের বিষয়ে সোমালিল্যান্ডের অবস্থান ইসরাইলের চেয়ে ভিন্ন। হাসান হুতিদের সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করার বিরোধিতা করে বলেন, আল-শাবাবের সঙ্গে তাদের এক কাতারে ফেলা যায় না। তারা ইয়েমেনে সামরিক সংঘাতের বদলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পক্ষে। সোমালিল্যান্ডের কর্মকর্তাদের কাছে মূলত তুরস্কই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী।

মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার হর্ন অঞ্চলে ইসরাইল ও তুরস্কের এই দ্বৈরথ নতুন মাত্রা পাচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সিরিয়ার পাশাপাশি হর্ন অব আফ্রিকাও তাদের প্রভাব বিস্তারের বড় ক্ষেত্র হয়ে উঠছে এবং সোমালিল্যান্ডে ইসরাইলের আগ্রহের পেছনে তুরস্কের উপস্থিতি বড় নিয়ামক। এই সমীকরণকে আরও জটিল করেছে সোমালিল্যান্ডের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) ঘনিষ্ঠতা। আমিরাত দেশটির বেরবেরা বন্দরে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি সেখানে বিমান ও নৌঘাঁটির সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। ইসরাইল ও আমিরাতের মধ্যকার নিরাপত্তা সহযোগিতার কারণে সোমালিল্যান্ড তাদের জন্য একটি স্বাভাবিক অংশীদার হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সাম্প্রতিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এই অঞ্চলে শক্তির ভারসাম্যে আরেকটি নতুন বলয় তৈরি করেছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

তুরস্কের সামরিক প্রভাব রুখতে ইসরাইলের দিকে ঝুঁকছে সোমালিল্যান্ড

আপডেট সময় : ০২:২৩:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

আফ্রিকার হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চলে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর ভূরাজনৈতিক সমীকরণ নতুন করে জটিল হয়ে উঠছে। ইসরাইলের সঙ্গে সোমালিল্যান্ডের সাম্প্রতিক ঘনিষ্ঠতাকে কেবল লোহিত সাগর পেরিয়ে ইয়েমেনের হুতিদের মোকাবিলার কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে না; এর পেছনে তুরস্কের ক্রমবর্ধমান সামরিক উপস্থিতি ঠেকানোর হিসাবও কাজ করছে বলে দাবি করছেন সোমালিল্যান্ডের কর্মকর্তারা।

আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি না পাওয়া সোমালিল্যান্ডের রাজধানী হারগেইসার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ইসরাইলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সিদ্ধান্তের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল প্রতিবেশী সোমালিয়ায় তুরস্কের সামরিক প্রভাব বাড়তে থাকা। মুসলিম ও আরব বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ এই সম্পর্কের সমালোচনা করলেও সোমালিল্যান্ড মনে করছে, নিজেদের কৌশলগত নিরাপত্তার স্বার্থে ইসরাইলের সঙ্গে সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সোমালিল্যান্ডের প্রেসিডেন্টের পররাষ্ট্রবিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মোহাম্মদ ওসমান ফাদাল জানান, তাদের একটি শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন। তার দাবি, সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিশুতে তুরস্কের এফ-১৬ যুদ্ধবিমান রয়েছে এবং সেখানে একটি ড্রোন ঘাঁটি তৈরির পরিকল্পনাও করছে আঙ্কারা। ফাদাল বলেন, ‘আমরা চাই, তুরস্কের বিরুদ্ধে ইসরাইল আমাদের সহযোগিতা করুক।’

একই সুর শোনা গেছে সোমালিল্যান্ডের পররাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আবদিরাহমান হাসানের কণ্ঠেও। তিনি বলেন, আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার বাস্তবতায় তাদের একটি পক্ষ বেছে নিতে হয়েছে। ১৯৯১ সালে স্বাধীনতা ঘোষণার পর থেকে তারা আরব ও মুসলিম দেশগুলোর কাছ থেকে স্বীকৃতি পাওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে এখন এই নতুন পথে হাঁটছেন। হাসান আরও জানান, সোমালিল্যান্ডের সেনাবাহিনী সক্ষম হলেও প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জাম ও উপকরণের ঘাটতি রয়েছে, যা তারা ইসরাইলের সহায়তায় পূরণ করতে চায়।

ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে সোমালিল্যান্ড এডেন উপসাগরের তীরে অবস্থিত এবং ইয়েমেনের বেশ কাছাকাছি। ফলে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব প্রণালির ওপর নজরদারি এবং ইয়েমেনের হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক তৎপরতায় সোমালিল্যান্ড ইসরাইলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে হুতিদের বিষয়ে সোমালিল্যান্ডের অবস্থান ইসরাইলের চেয়ে ভিন্ন। হাসান হুতিদের সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করার বিরোধিতা করে বলেন, আল-শাবাবের সঙ্গে তাদের এক কাতারে ফেলা যায় না। তারা ইয়েমেনে সামরিক সংঘাতের বদলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পক্ষে। সোমালিল্যান্ডের কর্মকর্তাদের কাছে মূলত তুরস্কই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী।

মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার হর্ন অঞ্চলে ইসরাইল ও তুরস্কের এই দ্বৈরথ নতুন মাত্রা পাচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সিরিয়ার পাশাপাশি হর্ন অব আফ্রিকাও তাদের প্রভাব বিস্তারের বড় ক্ষেত্র হয়ে উঠছে এবং সোমালিল্যান্ডে ইসরাইলের আগ্রহের পেছনে তুরস্কের উপস্থিতি বড় নিয়ামক। এই সমীকরণকে আরও জটিল করেছে সোমালিল্যান্ডের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) ঘনিষ্ঠতা। আমিরাত দেশটির বেরবেরা বন্দরে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি সেখানে বিমান ও নৌঘাঁটির সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। ইসরাইল ও আমিরাতের মধ্যকার নিরাপত্তা সহযোগিতার কারণে সোমালিল্যান্ড তাদের জন্য একটি স্বাভাবিক অংশীদার হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সাম্প্রতিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এই অঞ্চলে শক্তির ভারসাম্যে আরেকটি নতুন বলয় তৈরি করেছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh