সৌদিতে হুতি হামলার পরও কেন সক্রিয় হলো না মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি?
- আপডেট সময় : ০৯:৩৫:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১: ২৪ (16 September 2026, 21:24)
সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হুতি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা সত্ত্বেও দেশগুলোর মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ কেন সক্রিয় করা হয়নি, তা নিয়ে নানা বিশ্লেষণ চলছে। গত আগস্ট মাসে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে এই যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যার অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল—কোনো এক সদস্য দেশের ওপর হামলা হলে তা সবার ওপর হামলা বলে গণ্য হবে। তবে সাম্প্রতিক উত্তেজনার মাঝেও জোটের শরিকদের পক্ষ থেকে কোনো সামরিক পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, চলতি সেপ্টেম্বর মাসে হুতিদের ছোঁড়া একটি ড্রোন পবিত্র মক্কা নগরীর দিকে আসছিল। তবে সেটি আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ভূপাতিত করতে সক্ষম হয় সৌদি প্রতিরক্ষা বাহিনী। অবশ্য হুতি বিদ্রোহীরা মক্কাকে লক্ষ্যবস্তু করার এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। উল্টো তাদের দাবি, তারা সৌদি আরবের একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে
এর বাইরেও সৌদি আরবের কিং খালিদ এয়ারবেস এবং লোহিত সাগরের সঙ্গে সংযুক্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘ইস্ট-ওয়েস্ট অয়েল পাইপলাইন’ সহ বেশ কয়েকটি স্থাপনায় হুতিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রমাণ মিলেছে। বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে হুতিদের ক্রমবর্ধমান প্রভাব আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের তেল সরবরাহ লাইনে এই আঘাতের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়া এবং মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
এমন পরিস্থিতিতেও মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি সক্রিয় না হওয়ার পেছনে কয়েকটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছেন বিশ্লেষকেরা। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, ত্রিপক্ষীয় এই জোটটি কোনো আক্রমণাত্মক জোট নয়, বরং এটি একটি রক্ষণাত্মক বা ডিফেন্সিভ প্রকৃতির চুক্তি। ফলে কোনো সদস্য আক্রান্ত হলেই সরাসরি পাল্টা আক্রমণে যাওয়ার বাধ্যবাধকতা এতে নেই।
পাশাপাশি, diplomaticভাবে উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা চলছে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান পরিস্থিতি আরও জটিল না করে উভয় পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, আঙ্কারা সরাসরি ইয়েমেন যুদ্ধে জড়িয়ে নতুন কোনো ফ্রন্ট খুলতে একেবারেই আগ্রহী নয়। তুরস্ক মূলত সৌদি আরবকে প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত সহযোগিতা দেওয়ার বিষয়টিতেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, সরাসরি সামরিক সংঘাতের জড়াতে নয়।





























