মধুপুরে আকস্মিক ঝড়ে ৫৩ হেক্টর কলা-পেঁপের বাগান লণ্ডভণ্ড
- আপডেট সময় : ০৪:৫৬:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

টাঙ্গাইলের মধুপুর পাহাড়ি এলাকার শোলাকুড়ী, ফুলবাগচালা, অরণখোলা, ভুটিয়া ও কুড়াগাছাসহ বিভিন্ন এলাকায় বুধবার দুপুরের আকস্মিক ঝোড়ো হাওয়ায় কৃষকদের স্বপ্ন ও বিনিয়োগ মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। দুপুর ১২টার দিকে শুরু হওয়া কয়েক মিনিটের প্রবল বাতাস ও ঝড়ে বাগানগুলোর বড় অংশ লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। কোথাও কলাগাছের মাজা ভেঙে গেছে, আবার কোথাও পুরো গাছ উপড়ে পড়েছে। কলাগাছের পাশাপাশি আনারস, পেঁপে ও বিভিন্ন ধরনের সবজির ক্ষেতও এই দুর্যোগে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মধুপুর উপজেলা কৃষি অফিসের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ওই এলাকাগুলোতে প্রায় ২৭ হেক্টর কলা এবং ২৬ হেক্টর পেঁপের বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মমতাজ বেগম জানিয়েছেন, মাঠপর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহের কাজ এখনো চলমান রয়েছে। প্রাথমিক এই হিসাবের বাইরেও আনারস ও বিভিন্ন সবজি বাগানের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দীর্ঘদিনের শ্রম, অর্থ ও পরিচর্যার পর বাগানগুলোতে ফসল ঘরে তোলার সময় ঘনিয়ে এসেছিল। অনেক কৃষক ধারদেনা ও সঞ্চয়ের টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন এই বাগানগুলোতে। কিন্তু আকস্মিক ঝড়ে এক নিমিষেই তাদের সেই বিনিয়োগ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। হরিণধরা গ্রামের কৃষক আবু সায়েম হোসেন বলেন, জীবনের প্রায় অর্ধেক পুঁজি তিনি আনারস ও কলাবাগানে ব্যয় করেছিলেন। ফসল ভালো হলে পরিবারের অনেক প্রয়োজন মেটানোর আশা ছিল তার, কিন্তু ঝড়ে সবকিছু মুহূর্তের মধ্যে শেষ হয়ে গেছে।
কৃষকদের ভাষ্যমতে, একটি কলাগাছ ভেঙে পড়া মানে কেবল একটি গাছের ক্ষতি নয়, বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে কৃষকের শ্রম, ঋণ, বিনিয়োগ, পরিবারের ব্যয় এবং ভবিষ্যতের প্রত্যাশা। ফলে বাগানের এই ব্যাপক ক্ষতি তাদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি করেছে। দিশেহারা কৃষকেরা দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির পাশাপাশি সরকারি সহায়তা এবং কৃষি বিভাগের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত সরকারি সহায়তা না পেলে এই ক্ষতি কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানো অনেক কৃষকের পক্ষেই কঠিন হয়ে পড়বে।



























