সোনিয়া গান্ধীর স্মৃতিকথা প্রকাশ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক ও প্রকাশকের ব্যাখ্যা
- আপডেট সময় : ১২:৫৬:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে

সোনিয়া গান্ধীর বহুল প্রতীক্ষিত স্মৃতিকথা ‘বিলংগিং: এ জার্নি অব লাভ’ ভারতে প্রকাশ না করার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতাদের অভিযোগ, বইটির কিছু নির্দিষ্ট অংশ, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) এবং মোদি সরকারের আমলে চীনের ভারতীয় ভূখণ্ড দখলের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো বাদ দেওয়ার জন্য প্রকাশনা সংস্থা পেঙ্গুইন র্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়ার (পিআরএইচআই) ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল। রাজস্থানের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট এবং মধ্যপ্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী কমল নাথ এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রকাশকের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।
তবে এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে নাকচ করেছে পেঙ্গুইন র্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়া। সোমবার (৩১ আগস্ট) দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বইটি প্রকাশ না করার পেছনে কোনো ধরনের ‘বাইরের চাপ’ ছিল না। পিআরএইচআইয়ের মুখপাত্র পল্লবী নারায়ণ জানিয়েছেন, তারা বইটি প্রকাশের ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন এবং এটি তাদের জন্য একটি ‘কষ্টসাধ্যভাবে অর্জিত অধিগ্রহণ’ ছিল। তাদের ভাষ্যমতে, পাণ্ডুলিপিটি স্বাভাবিক সম্পাদকীয় প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় কিছু বিষয়ে লেখকের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সমঝোতা সম্ভব হয়নি।
প্রকাশনা সংস্থাটি জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে লেখকের পক্ষ পরিবর্তনের ব্যাপারে সম্মত হলেও একটি বিশেষ বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে অচলাবস্থা তৈরি হয়। এরপর লেখকের দলই প্রকাশনার প্রক্রিয়া থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নেয়, যা প্রকাশক সম্মান জানিয়েছে। চুক্তিগত বাধ্যবাধকতা এবং লেখকের গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে সেই বিতর্কিত বিষয়টি কী ছিল, তা প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে পেঙ্গুইন।
পিআরএইচআই আরও স্পষ্ট করেছে যে, একজন প্রকাশক হিসেবে পাণ্ডুলিপি যাচাই, তথ্য পরীক্ষা এবং স্বাধীন সম্পাদকীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া তাদের দায়িত্বের অংশ। তারা দাবি করেছে, বইটির বিষয়বস্তু প্রকাশের আগে থেকেই গোপনীয় ছিল এবং বাইরের চাপের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।
এদিকে, এই বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে যখন জানা গেছে যে, পেঙ্গুইন র্যান্ডম হাউসেরই একটি ইমপ্রিন্ট ‘আলফ্রেড এ. নফ’ আগামী ১০ নভেম্বর বিশ্বব্যাপী বইটি প্রকাশের ঘোষণা দিয়েছে। সোনিয়া গান্ধীর শৈশবের ইতালি, রাজীব গান্ধীর সঙ্গে বিয়ে, নেহরু-গান্ধী পরিবারের জীবন এবং স্বামীর হত্যাকাণ্ডের পর তার রাজনীতিতে আসার মতো গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলো এই স্মৃতিকথায় স্থান পাওয়ার কথা রয়েছে।





























