নেপালের বিদ্যুৎকেন্দ্রের সুড়ঙ্গে আটকা শতাধিক, উদ্ধারকাজ জোরদার
- আপডেট সময় : ০৯:১১:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

হিমবাহ ধসে সৃষ্ট বিধ্বংসী বন্যা ও ভূমিধসে নেপালের রসুয়া জেলায় অবস্থিত ‘ত্রিশূলী ৩এ’ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে শতাধিক মানুষ আটকা পড়েছেন। ভয়াবহ এই বন্যার তিন দিন পার হলেও তাদের জীবিত উদ্ধারের জন্য নিরলসভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন নেপালের সেনাসদস্যরা। উদ্ধার অভিযানের অংশ হিসেবে শনিবার থেকে খননযন্ত্র ব্যবহার করে সুড়ঙ্গের প্রবেশমুখ পরিষ্কার ও খননের কাজ জোরদার করা হয়েছে। নেপালের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সরকার সুড়ঙ্গে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
নেপালের দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিআরআরএমএ) তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার সকালে নদীগুলোতে আকস্মিক পানির প্রবল স্রোত নেমে আসে। এতে বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত ৯৩৩ কর্মী নিখোঁজ হন, যাদের মধ্যে সুড়ঙ্গে আটকা পড়া কর্মীরাও রয়েছেন। সংস্থাটি বৃহস্পতিবার জানিয়েছিল, অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও সেনাবাহিনী ৩৫০ জনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। তবে এখনো শতাধিক মানুষ সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকা পড়ে আছেন। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অন্যান্য জলবিদ্যুৎ প্রকল্পেও একই ধরনের উদ্ধারকাজ চলমান রয়েছে।
প্রতিকূল আবহাওয়া ও অত্যন্ত জটিল পরিস্থিতি সত্ত্বেও উদ্ধার অভিযান পুরোদমে চলছে বলে জানিয়েছেন জ্বালানিমন্ত্রী বিরাজ ভক্ত শ্রেষ্ঠ। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যালয়ের প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, উদ্ধারকর্মীরা কাদা মাড়িয়ে এবং পানির তোড়ে ভেসে আসা বড় বড় পাথর সরিয়ে সুড়ঙ্গের ভেতরে পথ তৈরির চেষ্টা করছেন। নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, ভারতের ১১ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল ইতিমধ্যে সুড়ঙ্গে উদ্ধারকাজ শুরু করেছে। এছাড়া চীনের পক্ষ থেকে পাঠানো উদ্ধারকাজে দক্ষ পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দলও হেলিকপ্টারে করে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, আটকে পড়া মানুষদের অবস্থান শনাক্ত করতে উন্নত প্রযুক্তি এবং ভারী ধ্বংসাবশেষ সরানোর জন্য ড্রোন প্রয়োজন। নেপাল সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, উদ্ধারকারীরা সুড়ঙ্গের বাইরের অংশ শনাক্ত করতে খননযন্ত্রসহ বিশেষ সরঞ্জাম ব্যবহার করছেন। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্যমতে, বুধবার চীন-নেপাল সীমান্তে হিমবাহ ধসের কারণেই এই ভয়াবহ দুর্যোগের সৃষ্টি হয়, যার ফলে পানির সঙ্গে বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ তীব্র বেগে নেমে আসে। এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ৬৩৩ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং প্রায় তিন হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।





























