ইরানের অবরোধ রুখতে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের নতুন কৌশল
- আপডেট সময় : ১০:৫৬:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

ইরানের ড্রোন হামলা ও দীর্ঘমেয়াদি নৌ অবরোধের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলো নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে। এই নতুন কৌশলের আওতায় মার্কিন নৌবাহিনীর পাহারায় মধ্যপ্রাচ্যের তেলবাহী সুপারট্যাংকারগুলো রাতে হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় জাহাজগুলো নিজেদের স্বয়ংক্রিয় ট্র্যাকিং সংকেত বা এআইএস ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রাখছে, যা ইরানের দীর্ঘস্থায়ী পরিকল্পনাকে অনেকাংশে ব্যর্থ করে দিচ্ছে।
পারস্য উপসাগরীয় তেলবাহী জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালিতে পৌঁছানোর আগেই রাডার নজরদারি এড়াতে নিজেদের ট্র্যাকিং সংকেত বন্ধ করে দিচ্ছে। এরপর ওমান উপসাগরে নিরাপদ দূরত্বে পৌঁছে বড় জাহাজে সরাসরি তেল স্থানান্তর বা শিপ-টু-শিপ ট্রান্সফার সম্পন্ন করছে। কাজ শেষে খালি ট্যাংকারগুলো পুনরায় সংকেত বন্ধ রেখে নিজেদের বন্দরে ফিরে যাচ্ছে। গ্রিসের মালিকানাধীন সুপারট্যাংকার ‘কিকু’ সাম্প্রতিক সময়ে এই কৌশলে সফলভাবে তেল পরিবহন করেছে। মার্কিন জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এই কৌশলের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি দিয়ে দৈনিক ৮০ থেকে ৯০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবাহিত হচ্ছে, যা স্যাটেলাইট ট্র্যাকিংয়ের পূর্বাভাসের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি।
সংঘাতপূর্ণ জলসীমা এড়াতে সৌদি আরবও বিকল্প পথ গ্রহণ করেছে। দেশটি প্রতিদিন প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল তেল পারস্য উপসাগরের বদলে নিজস্ব ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ পাইপলাইনের মাধ্যমে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে পাঠিয়ে দিচ্ছে। এছাড়া ব্রাজিল, গায়ানা ও ভেনিজুয়েলা থেকে প্রতিদিন অতিরিক্ত ১০ লাখ ব্যারেল তেল বাজারে আসছে। একইসঙ্গে সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের জরুরি মজুদ থেকে ৪০ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছেড়েছে এবং চীন তাদের নিজস্ব মজুদ ব্যবহার করে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাচ্ছে।
তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা এই ব্যবস্থাকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয় বলে সতর্ক করেছেন। টানা ছয় মাস ধরে চলা সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৯০ কোটি ব্যারেল তেলের জরুরি মজুদ শেষ হয়ে গেছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্য, রাশিয়া ও ইউরোপের প্রধান শোধনাগারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ডিজেল ও জেট ফুয়েলের তীব্র ঘাটতি দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নতুন অর্থনৈতিক অবরোধের ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম পুনরায় ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে, যা বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে।


























