ঢাকা ০৮:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পীরগাছায় নকল সার কারখানায় অভিযানে ৭২ বস্তা সার জব্দ পুরান ঢাকায় বর্ণিল শোভাযাত্রা, উদযাপিত হলো ঢাকার ৪১৬ বছর ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা নিরসনে সংলাপই একমাত্র পথ: বেইজিং আশা ভোঁসলের শেষ রেকর্ড করা গান মুক্তি পাবে জন্মদিনে নেপালে হিমবাহধসে ভয়াবহ বন্যা: নিহত ৫৪৭, নিখোঁজ সহস্রাধিক নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসে সহযোগিতা, হুঁশিয়ারি ইরানের জীবিত থাকতেই নিজের চল্লিশার আয়োজন, দাওয়াত ৬ হাজার মানুষকে নেপালে আকস্মিক বন্যায় ৩২০ ভারতীয় নাগরিক নিখোঁজ আবাসন সংকটে ২০তম এশিয়ান গেমস, বিপাকে আয়োজক জাপান নারীদের স্বাবলম্বী করতে পারলে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বদলাবে: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

নেপালে বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯, নিখোঁজ দেড় হাজার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১৬:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নেপাল ও তিব্বত সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখনো প্রায় দেড় হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেক মানুষ আটকে থাকার আশঙ্কা থাকায় মৃতের সংখ্যা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। শুক্রবার নেপাল পুলিশের দেওয়া তথ্যের বরাতে রয়টার্স এ সংবাদ জানিয়েছে।

গত বুধবার হিমালয় সংলগ্ন নেপাল-তিব্বত সীমান্ত এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও কাদার স্রোত নেমে আসে। মুহূর্তের মধ্যে ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ভেসে যায়। পাহাড়ি নদীগুলোতে পানির প্রবল স্রোতের সঙ্গে বিপুল পরিমাণ বরফ, পাথর ও কাদা নেমে আসায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়েছে।

দুর্যোগের পর থেকেই নেপাল ও চীনের উদ্ধারকারী দল যৌথভাবে নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান চালাচ্ছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ চলছে। হেলিকপ্টারের মাধ্যমে দুর্গত এলাকায় খাদ্য, ওষুধ ও জরুরি সামগ্রী সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে সড়ক ও সেতু ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় এবং বিপুল পরিমাণ কাদা জমে থাকায় উদ্ধারকাজে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে। উদ্ধারকারী দলগুলো প্রশিক্ষিত কুকুর ও আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জাম ব্যবহার করছে।

চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং বৃহস্পতিবার বিকেলে তিব্বতের ক্ষতিগ্রস্ত ভূমিধস এলাকা পরিদর্শন করেন এবং দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা জোরদারের নির্দেশ দেন। তিব্বতের নিয়ন্ত্রিত গিরং এলাকায়ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং সেখানেও অনেক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের তালিকায় বিদেশি পর্যটক ও তীর্থযাত্রীরাও রয়েছেন।

এই বিপর্যয়ের কারণ সম্পর্কে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কম্পন নয়, বরং বিশাল ভূমিধস ও বরফ-পাথরের ধস থেকে ভূকম্পনসদৃশ সংকেত তৈরি হয়েছিল। হিমবাহের একটি বড় অংশ ভেঙে নদীতে বরফ, পাথর ও মাটি জমা হওয়ার ফলে এই আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

উদ্ধার অভিযান চলার মধ্যেই নতুন করে বন্যার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। ভূমিধসের কারণে কয়েকটি স্থানে পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে প্রাকৃতিক জলাধার তৈরি হয়েছে। এসব পানি হঠাৎ বেরিয়ে এলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে উদ্ধারকারীদের একদিকে নিখোঁজদের সন্ধান এবং অন্যদিকে নতুন বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলায় কাজ করতে হচ্ছে। দুর্গম ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোতে উদ্ধারকারী দল পৌঁছালে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও স্পষ্ট হবে বলে ধারণা করছে নেপাল সরকার।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) নেপাল পুলিশের বরাত দিয়ে রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

নেপালে বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯, নিখোঁজ দেড় হাজার

আপডেট সময় : ১০:১৬:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

নেপাল ও তিব্বত সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখনো প্রায় দেড় হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেক মানুষ আটকে থাকার আশঙ্কা থাকায় মৃতের সংখ্যা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। শুক্রবার নেপাল পুলিশের দেওয়া তথ্যের বরাতে রয়টার্স এ সংবাদ জানিয়েছে।

গত বুধবার হিমালয় সংলগ্ন নেপাল-তিব্বত সীমান্ত এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও কাদার স্রোত নেমে আসে। মুহূর্তের মধ্যে ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ভেসে যায়। পাহাড়ি নদীগুলোতে পানির প্রবল স্রোতের সঙ্গে বিপুল পরিমাণ বরফ, পাথর ও কাদা নেমে আসায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়েছে।

দুর্যোগের পর থেকেই নেপাল ও চীনের উদ্ধারকারী দল যৌথভাবে নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান চালাচ্ছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ চলছে। হেলিকপ্টারের মাধ্যমে দুর্গত এলাকায় খাদ্য, ওষুধ ও জরুরি সামগ্রী সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে সড়ক ও সেতু ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় এবং বিপুল পরিমাণ কাদা জমে থাকায় উদ্ধারকাজে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে। উদ্ধারকারী দলগুলো প্রশিক্ষিত কুকুর ও আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জাম ব্যবহার করছে।

চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং বৃহস্পতিবার বিকেলে তিব্বতের ক্ষতিগ্রস্ত ভূমিধস এলাকা পরিদর্শন করেন এবং দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা জোরদারের নির্দেশ দেন। তিব্বতের নিয়ন্ত্রিত গিরং এলাকায়ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং সেখানেও অনেক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের তালিকায় বিদেশি পর্যটক ও তীর্থযাত্রীরাও রয়েছেন।

এই বিপর্যয়ের কারণ সম্পর্কে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কম্পন নয়, বরং বিশাল ভূমিধস ও বরফ-পাথরের ধস থেকে ভূকম্পনসদৃশ সংকেত তৈরি হয়েছিল। হিমবাহের একটি বড় অংশ ভেঙে নদীতে বরফ, পাথর ও মাটি জমা হওয়ার ফলে এই আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

উদ্ধার অভিযান চলার মধ্যেই নতুন করে বন্যার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। ভূমিধসের কারণে কয়েকটি স্থানে পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে প্রাকৃতিক জলাধার তৈরি হয়েছে। এসব পানি হঠাৎ বেরিয়ে এলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে উদ্ধারকারীদের একদিকে নিখোঁজদের সন্ধান এবং অন্যদিকে নতুন বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলায় কাজ করতে হচ্ছে। দুর্গম ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোতে উদ্ধারকারী দল পৌঁছালে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও স্পষ্ট হবে বলে ধারণা করছে নেপাল সরকার।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) নেপাল পুলিশের বরাত দিয়ে রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh