ঢাকা ০৮:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পীরগাছায় নকল সার কারখানায় অভিযানে ৭২ বস্তা সার জব্দ পুরান ঢাকায় বর্ণিল শোভাযাত্রা, উদযাপিত হলো ঢাকার ৪১৬ বছর ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা নিরসনে সংলাপই একমাত্র পথ: বেইজিং আশা ভোঁসলের শেষ রেকর্ড করা গান মুক্তি পাবে জন্মদিনে নেপালে হিমবাহধসে ভয়াবহ বন্যা: নিহত ৫৪৭, নিখোঁজ সহস্রাধিক নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসে সহযোগিতা, হুঁশিয়ারি ইরানের জীবিত থাকতেই নিজের চল্লিশার আয়োজন, দাওয়াত ৬ হাজার মানুষকে নেপালে আকস্মিক বন্যায় ৩২০ ভারতীয় নাগরিক নিখোঁজ আবাসন সংকটে ২০তম এশিয়ান গেমস, বিপাকে আয়োজক জাপান নারীদের স্বাবলম্বী করতে পারলে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বদলাবে: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

জীবিত থাকতেই নিজের চল্লিশার আয়োজন, দাওয়াত ৬ হাজার মানুষকে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:১৫:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের বীর হাজীপুর গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম (৬২) মৃত্যুর আগেই নিজের চল্লিশার আয়োজন করেছেন। আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর নিজ বাড়ির পাশে বীর হাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে হাজারো মানুষের জন্য এই ‘গণমেজবানের’ আয়োজন করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রফিকুল এলাকায় একজন বিত্তশালী হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি সরকারি রাস্তা নির্মাণের জন্য তাঁর দোকান ও জমির একটি বড় অংশ অধিগ্রহণ করা হয়। সেই বাবদ পাওয়া টাকা থেকেই তিনি এই বিশাল আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর চাচাতো ভাই আবদুস সালাম জানিয়েছেন, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেই এই আয়োজন চূড়ান্ত করা হয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে রফিকুল স্থানীয় গ্রামগুলোতে দাওয়াত দিয়েছেন। বাড়িতে শামিয়ানা টানিয়ে বাবুর্চির মাধ্যমে রান্না করা হয়েছে এবং আগের রাতেই বেশ কয়েকটি গরু ও খাসি জবাই করা হয়।

খাবার খেতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা নূরুল ইসলাম বলেন, সাধারণ রীতি অনুযায়ী মৃত্যুর ৪০ দিন পর চল্লিশার আয়োজন করা হয়। তবে রফিকুল ইসলাম জীবিত থাকতেই এই আয়োজন করেছেন কারণ তিনি আশঙ্কা করছেন, তাঁর মৃত্যুর পর স্বজনেরা হয়তো এমন বড় করে সবাইকে খাওয়ানোর আয়োজন করতে পারবেন না। এই আয়োজনে প্রায় ৬ হাজার মানুষের খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মেনুতে ভাত, খিচুড়ি, গরু ও খাসির মাংস এবং মাছসহ বিভিন্ন পদ রাখা হয়েছে।

নিজের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সম্পর্কে রফিকুল ইসলাম বলেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছেন। পরিবারের সদস্যরা নিজেদের অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত। তিনি বলেন, আমি মারা যাওয়ার পর হয়তো আমার স্বজনেরা সবাইকে ডেকে এভাবে খাওয়ানোর আয়োজন না–ও করতে পারেন। তাই নিজের ইচ্ছায় জীবিত অবস্থাতেই আয়োজনটি করেছি।

এদিকে, জীবিত অবস্থায় এভাবে চল্লিশার আয়োজন করা নিয়ে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশ্ন উঠেছে। কিশোরগঞ্জের মুফতি মাওলানা খলিলুর রহমান জানান, ইসলামে জীবিত অবস্থায় নিজের চল্লিশা করার কোনো নিয়ম নেই। তিনি বলেন, মানুষের মৃত্যু কখন হবে তা আগে বলা সম্ভব নয় এবং মৃত্যুর ৪০ দিন পর চল্লিশা পালন করাও বাধ্যতামূলক কোনো বিধান নয়। তাঁর মতে, অসহায় মানুষকে খাওয়ানো প্রশংসনীয় হলেও ঢাকঢোল পিটিয়ে জীবিত অবস্থায় নিজের চল্লিশা পালন করা ইসলাম সমর্থন করে না।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

জীবিত থাকতেই নিজের চল্লিশার আয়োজন, দাওয়াত ৬ হাজার মানুষকে

আপডেট সময় : ০৭:১৫:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের বীর হাজীপুর গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম (৬২) মৃত্যুর আগেই নিজের চল্লিশার আয়োজন করেছেন। আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর নিজ বাড়ির পাশে বীর হাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে হাজারো মানুষের জন্য এই ‘গণমেজবানের’ আয়োজন করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রফিকুল এলাকায় একজন বিত্তশালী হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি সরকারি রাস্তা নির্মাণের জন্য তাঁর দোকান ও জমির একটি বড় অংশ অধিগ্রহণ করা হয়। সেই বাবদ পাওয়া টাকা থেকেই তিনি এই বিশাল আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর চাচাতো ভাই আবদুস সালাম জানিয়েছেন, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেই এই আয়োজন চূড়ান্ত করা হয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে রফিকুল স্থানীয় গ্রামগুলোতে দাওয়াত দিয়েছেন। বাড়িতে শামিয়ানা টানিয়ে বাবুর্চির মাধ্যমে রান্না করা হয়েছে এবং আগের রাতেই বেশ কয়েকটি গরু ও খাসি জবাই করা হয়।

খাবার খেতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা নূরুল ইসলাম বলেন, সাধারণ রীতি অনুযায়ী মৃত্যুর ৪০ দিন পর চল্লিশার আয়োজন করা হয়। তবে রফিকুল ইসলাম জীবিত থাকতেই এই আয়োজন করেছেন কারণ তিনি আশঙ্কা করছেন, তাঁর মৃত্যুর পর স্বজনেরা হয়তো এমন বড় করে সবাইকে খাওয়ানোর আয়োজন করতে পারবেন না। এই আয়োজনে প্রায় ৬ হাজার মানুষের খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মেনুতে ভাত, খিচুড়ি, গরু ও খাসির মাংস এবং মাছসহ বিভিন্ন পদ রাখা হয়েছে।

নিজের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সম্পর্কে রফিকুল ইসলাম বলেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছেন। পরিবারের সদস্যরা নিজেদের অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত। তিনি বলেন, আমি মারা যাওয়ার পর হয়তো আমার স্বজনেরা সবাইকে ডেকে এভাবে খাওয়ানোর আয়োজন না–ও করতে পারেন। তাই নিজের ইচ্ছায় জীবিত অবস্থাতেই আয়োজনটি করেছি।

এদিকে, জীবিত অবস্থায় এভাবে চল্লিশার আয়োজন করা নিয়ে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশ্ন উঠেছে। কিশোরগঞ্জের মুফতি মাওলানা খলিলুর রহমান জানান, ইসলামে জীবিত অবস্থায় নিজের চল্লিশা করার কোনো নিয়ম নেই। তিনি বলেন, মানুষের মৃত্যু কখন হবে তা আগে বলা সম্ভব নয় এবং মৃত্যুর ৪০ দিন পর চল্লিশা পালন করাও বাধ্যতামূলক কোনো বিধান নয়। তাঁর মতে, অসহায় মানুষকে খাওয়ানো প্রশংসনীয় হলেও ঢাকঢোল পিটিয়ে জীবিত অবস্থায় নিজের চল্লিশা পালন করা ইসলাম সমর্থন করে না।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo