মক্কা জোটে নতুন দেশ যুক্ত হওয়ার পথ খোলা রয়েছে: পাকিস্তান
- আপডেট সময় : ০৮:৩৮:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে (এমজেডিএ) নতুন কোনো দেশের অন্তর্ভুক্তির পথ উন্মুক্ত রয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান। তবে জোটটিতে যোগ দেওয়ার জন্য কোনো দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করলে, তা সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে পরামর্শ সাপেক্ষে বিবেচনা করা হবে বলে স্পষ্ট করেছে দেশটি।
বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি। ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক বাংলাদেশের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সূত্র ধরে জানতে চান, বাংলাদেশ এই জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে কি না। একই সঙ্গে সিরিয়া ও ইরানের মতো দেশের আগ্রহ এবং এই জোটে পাকিস্তান কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন করা হয়।
জবাবে তাহির আন্দ্রাবি বলেন, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি মূলত আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও শান্তি রক্ষার উদ্দেশ্যে গঠিত একটি প্রতিরক্ষামূলক কাঠামো। একটি উদীয়মান নিরাপত্তাবলয় হিসেবে এই জোটের দরজা সেসব দেশের জন্য খোলা, যারা অভিন্ন নিরাপত্তাস্বার্থ ও যৌথ বাধ্যবাধকতা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে তিনি সুনির্দিষ্টভাবে ইরান, সিরিয়া বা অন্য কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি এবং জানান যে চুক্তিটি কার্যকরের প্রক্রিয়াটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।
এদিকে মক্কা জোটে বাংলাদেশের যোগদানের বিষয়টি নিয়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। গত সপ্তাহে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ আরব নিউজকে জানান, এ বিষয়ে এখনো কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে আলোচনা চলছে। আরেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরও সোমবার সাংবাদিকদের জানান, মক্কা বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে বিশেষ স্থান জুড়ে আছে। তাই পশ্চিম এশিয়ার ইসলামিক দেশগুলোর কোনো নিরাপত্তা চুক্তিতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ অস্বাভাবিক নয় এবং বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবেই দেখা হচ্ছে।
বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছাড়াও জাতীয় সংসদে আলোচনা হয়েছে। সংসদে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানান, মক্কা জোটের সদস্য দেশগুলোর কাছ থেকে বাংলাদেশ যদি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পায়, তবে সরকার তা ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে। তবে এখন পর্যন্ত এমন কোনো প্রস্তাব আসেনি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, গত ৭ আগস্ট মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান এই যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সামরিক উত্তেজনা ও যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তিন দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করাই এর মূল লক্ষ্য। এই চুক্তির আওতায় যেকোনো একটি সদস্যরাষ্ট্রের ওপর সশস্ত্র হামলাকে সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করে সম্মিলিত প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া এতে যৌথ সামরিক মহড়া, রাজনৈতিক ও সামরিক সমন্বয় এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।





























