উখিয়ার রিসোর্টে ভয়াবহ আগুনে শিশুসহ ১০ জনের মৃত্যু, একই পরিবারের ৮
- আপডেট সময় : ০৪:৪৫:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজারের উখিয়ায় ইনানী পাটোয়ারটেক সমুদ্রসৈকত সংলগ্ন ‘টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্ট’-এ অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ ১০ জন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের মধ্যে ৮ জনই একই পরিবারের সদস্য। পুরোপুরি কাঠ ও বাঁশে তৈরি তিনতলা বিশিষ্ট রিসোর্ট ভবনটি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এ ঘটনায় দগ্ধ ও আহত আরও অন্তত সাতজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে এই অগ্নিকাণ্ডের সূচনা হয়। প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সকালে হঠাৎ বিকট শব্দ শোনার পর মুহূর্তেই আগুন পুরো রিসোর্টে ছড়িয়ে পড়ে। রিসোর্টের এসি এবং গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে আগুনের তীব্রতা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর ভবনটি থেকে ১০ জনের লাশ উদ্ধার করেন।
অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছয়জনের পরিচয় জানা গেছে। তাঁরা হলেন—মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন (৩১), তাঁর স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাঠ দিয়ে নির্মিত ৯টি রুমের এই তিনতলা রিসোর্টটির নিচতলায় ছিল রেস্তোরাঁ ও রান্নাঘর, আর ওপরের দোতলা ও তিনতলায় পর্যটকদের থাকার ঘর ছিল। রান্নাঘরের চুল্লি কিংবা বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। কাঠ ও অন্যান্য দাহ্য পদার্থের উপস্থিতির পাশাপাশি নিকটতম ফায়ার স্টেশন থেকে দুর্ঘটনাস্থলের দূরত্ব ২২ কিলোমিটার হওয়ায় আগুন দ্রুতই ভয়াবহ রূপ নেয়।
অগ্নিকাণ্ডের পর জানা গেছে, পর্যটন এলাকার এই রিসোর্টটি কোনো ধরনের বৈধ লাইসেন্স বা অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হয়ে আসছিল। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ জানান, গত জুনে পরিদর্শন শেষে রিসোর্টটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে সতর্ক নোটিশ দেওয়া সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষ অবৈধভাবে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিল।
দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান, হতাহতদের সবাই পর্যটক। অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ ও ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।





























