মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভাঙতে ইরান যেভাবে রাশিয়ার কৌশল গ্রহণ করেছে
- আপডেট সময় : ০৬:২৩:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে

জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের সাম্প্রতিক হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার ঘটনায় এটি স্পষ্ট যে, পেন্টাগনের বিপুল ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থার বিপরীতে তেহরান তাদের যুদ্ধের কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করতে রাশিয়া যেভাবে ব্যালিস্টিক, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে, ইরান এখন ঠিক একই কৌশল অনুসরণ করছে। তারা একক কোনো অস্ত্রের ওপর নির্ভর না করে একসঙ্গে ড্রোন ও বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের সমন্বিত ব্যবহার করছে।
টানা পাঁচ দিন ধরে জর্ডানে মার্কিন তিনটি ঘাঁটি লক্ষ্য করে দফায় দফায় হামলা চালায় ইরান। এর মূল লক্ষ্য ছিল ওয়াশিংটনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করা এবং তাদের প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারে বাধ্য করা। ইরান এমন কিছু ক্ষেপণাস্ত্রও ব্যবহার করেছে যা হঠাৎ দিক পরিবর্তন করতে সক্ষম, ফলে সেগুলোকে শনাক্ত করে ভূপাতিত করা মার্কিন বাহিনীর জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। যদিও প্রথম চার দিন মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে পেরেছিল, তবে ১৭ জুলাই একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ভেদ করে মার্কিন ঘাঁটির অস্থায়ী আবাসনে আঘাত হানে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, প্রায় সব ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা সম্ভব হলেও একটি ফাঁক গলে ঢুকে পড়েছিল। এই হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহত এবং শতাধিক আহত হন। এছাড়া একই সপ্তাহে জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে কয়েকটি বিমানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পেন্টাগনের অস্ত্র মজুত সম্পর্কে জ্ঞাত ব্যক্তিদের মতে, চলমান যুদ্ধে পেন্টাগন ১ হাজার ৫০০টির বেশি প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করে ফেলেছে এবং বর্তমানে তাদের হাতে ১ হাজার ৭০০টিরও কম ইন্টারসেপ্টর অবশিষ্ট রয়েছে।
সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিভাগের প্রেসিডেন্ট সেথ জি. জোন্স বলেন, বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন একসঙ্গে ব্যবহার করে ইরান আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল করে তুলছে। তিনি মনে করেন, ইউক্রেন যুদ্ধের কৌশল ইরানকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। এর আগে যুদ্ধের প্রথম পাঁচ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বেশ কয়েকটি ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছিল যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কিন্তু ইরান দ্রুতই স্থাপনাগুলো পুনরুদ্ধার করে পুনরায় হামলা শুরু করে।
বর্তমানে ইরান তাদের সামরিক সরঞ্জাম ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে সুরক্ষিত রাখতে ভূগর্ভস্থ ও গোপন অবস্থান ব্যবহারের ওপর জোর দিচ্ছে। এমনকি দেশটির শীর্ষ সেনা কর্মকর্তারাও বিভিন্ন গোপন আশ্রয়স্থলে অবস্থান পরিবর্তন করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ নামে পরিচিত একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ স্থাপনা রয়েছে, যা পাহাড়ের ৩০০ ফুটেরও বেশি গভীরে অবস্থিত বলে ধারণা করা হয়। এসব কারণে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ক্রমেই আরও জটিল হয়ে উঠছে।
প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০২৬, ১৮: ১২আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২৬, ১৮: ১৬





























