ঢাকা ০৫:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিএনপির সব পরিকল্পনা ও কর্মসূচি জনবান্ধব: প্রধানমন্ত্রী আখাউড়ায় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেলেন ৪১ শিক্ষার্থী ফ্যাসিবাদ রুখতে ২০২৪ এর মতো ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক জামায়াত আমিরের ভঙ্গুর রাষ্ট্র পুনর্গঠনে এসডিজি বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিলেন প্রধানমন্ত্রী ইস্যু থাকবে, সমাধানও হবে: দীনেশ ত্রিবেদী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল অলি আহমদ ইসলামী ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ: সাহাবুদ্দিনসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ ৮২ হাজার ৬৫৬ মসজিদে সরকারি মাসিক সম্মানী দেবে সরকার যুক্তরাষ্ট্রে দাবানল নিয়ন্ত্রণে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, পাইলটসহ নিহত ২ বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী মোদি: দীনেশ ত্রিবেদী

গাজায় ৩০০ দিনের কথিত যুদ্ধবিরতিতে প্রাণ হারাল অন্তত ৩০০ শিশু

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:২৭:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, গাজায় কথিত যুদ্ধবিরতির প্রায় ৩০০ দিনে অন্তত ৩০০ শিশু নিহত হয়েছে। এর মানে হলো, এই দীর্ঘ সময়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় একজন শিশু প্রাণ হারিয়েছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে আরও শত শত শিশু আহত হয়েছে, যাদের অনেকের অবস্থাই অত্যন্ত গুরুতর।

ইউনিসেফের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক এদুয়ার বেইগবেদার বলেন, যে যুদ্ধবিরতিতে প্রতিদিন গড়ে একজন শিশু নিহত হয়, তা শিশুদের জন্য এক প্রকার ব্যর্থতা। তিনি আরও বলেন, গাজার শিশুরা এখনো সেই সহিংসতার অবসানের অপেক্ষায় রয়েছে, যার প্রতিশ্রুতি তাদের দেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটি যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতিকে বাস্তব পদক্ষেপে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানায়।

ইউনিসেফের তথ্যমতে, গাজার পরিবারগুলো বর্তমানে উপত্যকার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবন, ধ্বংসস্তূপ এবং অপসারণ না করা বর্জ্যের মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে তাদের। যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও শিশুরা তীব্র অপুষ্টি, রোগব্যাধি, অনিরাপদ পানি ও ক্ষতিগ্রস্ত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ইনকিউবেটরের তীব্র সংকটের কারণে অনেক অপরিণত নবজাতককে একই যন্ত্র ভাগ করে ব্যবহার করতে হচ্ছে।

অঞ্চলটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজার ৩০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। ইউনিসেফের হিসাবে, গাজায় ৫৮ হাজারের বেশি শিশু তাদের বাবা অথবা মা কিংবা উভয়কেই হারিয়েছে। প্রায় ১৭ হাজার শিশু পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন বা অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে। সংস্থাটি একে বিশ্বের অন্যতম বড় শিশু সুরক্ষা সংকট হিসেবে বর্ণনা করেছে। এছাড়া ১০ লাখের বেশি শিশুর সুরক্ষা ও মানসিক সহায়তা প্রয়োজন।

যুদ্ধের ভয়াবহতায় বহু পরিবার বারবার বাস্তুচ্যুত হচ্ছে। সেই সঙ্গে আয় হারানো, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার সীমিত সুযোগ এবং নিরাপত্তাহীনতা শিশুদের জীবনকে আরও কঠিন করে তুলেছে। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২ আগস্ট পশ্চিম গাজা সিটিতে এক হামলার পর ধ্বংসস্তূপ থেকে একটি অনাগত শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই একই হামলায় এক গর্ভবতী নারী, তার স্বামী এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সী সন্তান নিহত হন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy

নিউজটি শেয়ার করুন

গাজায় ৩০০ দিনের কথিত যুদ্ধবিরতিতে প্রাণ হারাল অন্তত ৩০০ শিশু

আপডেট সময় : ০২:২৭:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
print news

জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, গাজায় কথিত যুদ্ধবিরতির প্রায় ৩০০ দিনে অন্তত ৩০০ শিশু নিহত হয়েছে। এর মানে হলো, এই দীর্ঘ সময়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় একজন শিশু প্রাণ হারিয়েছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে আরও শত শত শিশু আহত হয়েছে, যাদের অনেকের অবস্থাই অত্যন্ত গুরুতর।

ইউনিসেফের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক এদুয়ার বেইগবেদার বলেন, যে যুদ্ধবিরতিতে প্রতিদিন গড়ে একজন শিশু নিহত হয়, তা শিশুদের জন্য এক প্রকার ব্যর্থতা। তিনি আরও বলেন, গাজার শিশুরা এখনো সেই সহিংসতার অবসানের অপেক্ষায় রয়েছে, যার প্রতিশ্রুতি তাদের দেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটি যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতিকে বাস্তব পদক্ষেপে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানায়।

ইউনিসেফের তথ্যমতে, গাজার পরিবারগুলো বর্তমানে উপত্যকার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবন, ধ্বংসস্তূপ এবং অপসারণ না করা বর্জ্যের মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে তাদের। যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও শিশুরা তীব্র অপুষ্টি, রোগব্যাধি, অনিরাপদ পানি ও ক্ষতিগ্রস্ত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ইনকিউবেটরের তীব্র সংকটের কারণে অনেক অপরিণত নবজাতককে একই যন্ত্র ভাগ করে ব্যবহার করতে হচ্ছে।

অঞ্চলটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজার ৩০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। ইউনিসেফের হিসাবে, গাজায় ৫৮ হাজারের বেশি শিশু তাদের বাবা অথবা মা কিংবা উভয়কেই হারিয়েছে। প্রায় ১৭ হাজার শিশু পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন বা অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে। সংস্থাটি একে বিশ্বের অন্যতম বড় শিশু সুরক্ষা সংকট হিসেবে বর্ণনা করেছে। এছাড়া ১০ লাখের বেশি শিশুর সুরক্ষা ও মানসিক সহায়তা প্রয়োজন।

যুদ্ধের ভয়াবহতায় বহু পরিবার বারবার বাস্তুচ্যুত হচ্ছে। সেই সঙ্গে আয় হারানো, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার সীমিত সুযোগ এবং নিরাপত্তাহীনতা শিশুদের জীবনকে আরও কঠিন করে তুলেছে। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২ আগস্ট পশ্চিম গাজা সিটিতে এক হামলার পর ধ্বংসস্তূপ থেকে একটি অনাগত শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই একই হামলায় এক গর্ভবতী নারী, তার স্বামী এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সী সন্তান নিহত হন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy