থাইল্যান্ডে ১৪ বছরের কিশোরের গুলিতে শিক্ষকসহ নিহত ৭

- আপডেট সময় : ০৭:০৯:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের উপকণ্ঠে একটি বাড়ি ও বিদ্যালয়ে ১৪ বছর বয়সি এক কিশোরের ভয়াবহ গুলিবর্ষণের ঘটনায় সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২৩ জন। স্থানীয় সময় সকাল ১০টার কিছু সময় পর এই হামলার ঘটনা ঘটে।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, হামলাকারী কিশোরটি ননথাবুরির দেবসিরিন স্কুলের শিক্ষার্থী ছিল। সে প্রথমে নিজের বাড়িতে ঢুকে তার দাদা ও দাদিকে গুলি করে হত্যা করে। এরপর সে তার নিজের বিদ্যালয়ে গিয়ে আরও পাঁচজন শিক্ষককে গুলি করে হত্যা করার পর নিজেই আত্মহত্যা করে। পুলিশ জানিয়েছে, আত্মহত্যার সময়ও ওই কিশোরের কাছে ৩০টিরও বেশি তাজা গুলি অবশিষ্ট ছিল। এ ঘটনায় আহতদের মধ্যে নয়জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে。
তদন্তকারী পুলিশ ও ফরেনসিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলাটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ছিল এবং হামলাকারী কিশোর অত্যন্ত নিখুঁত নিশানা বজায় রেখে লক্ষ্যবস্তুতে গুলি চালিয়েছিল। হামলার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ এখনও প্রকাশ করেনি পুলিশ। তবে প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল উল্লেখ করেছেন, পড়াশোনার অতিরিক্ত চাপের কারণে ওই কিশোর তীব্র মানসিক অবসাদে ভুগছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হামলার প্রত্যক্ষদর্শী দেবসিরিন স্কুলের সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রী জানায়, ঘটনার সময় সে তার শিক্ষিকার ঠিক সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছিল। হঠাৎ করেই ওই বন্দুকধারী কিশোর এসে শিক্ষিকাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এই আকস্মিক হামলায় আতঙ্কিত হয়ে শিক্ষার্থীরা আত্মরক্ষার্থে স্কুলের দেয়াল টপকে পালিয়ে যায়, আবার অনেকেই শ্রেণিকক্ষের ভেতর লুকিয়ে জীবন বাঁচায়। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর ওই এলাকার আশপাশের স্কুলগুলোতে সাময়িকভাবে ক্লাস বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং আহতদের চিকিৎসায় জরুরিভিত্তিতে রক্তদানের আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
থাইল্যান্ডে বেসামরিক নাগরিকদের অস্ত্র রাখার ব্যাপারে কঠোর আইন থাকলেও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় সেখানে ব্যক্তিগত পর্যায়ে অস্ত্র রাখার হার বেশ বেশি। এই লোমহর্ষক ঘটনার পর দেশটিতে বন্দুক নিয়ন্ত্রণ আইন আরও কঠোর করার জন্য সরকারের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল ঘোষণা দিয়েছেন, নতুন প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী এখন থেকে কেবল দায়িত্ব পালনরত সরকারি কর্মকর্তাদেরই অস্ত্র বহনের অনুমতি দেওয়া হবে।


























