ঢাকা ০৪:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চূড়ান্ত হলো ২০২৬ ব্যালন ডি’অর নির্বাচনের ভোটাভুটি নারায়ণগঞ্জে বিসিকের চাকরি মেলায় ৬৩৯টি পদের সুযোগ একনেকে ১৫ হাজার ৮২৩ কোটি টাকার ১৩ উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দুই মাসে ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ সাড়ে ১৬ হাজার কোটি টাকা শাড়িকাণ্ড নিয়ে মুখ খুললেন তানজিন তিশা, অভিযোগ করলেন সম্মানহানির ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণই মূল লক্ষ্য: মমতা ভারতে ভিনিসিয়ুসের প্রথম সফর: গোয়ায় খেলেছিলেন অনূর্ধ্ব-১৭ টুর্নামেন্ট ইরান সংঘাত দ্রুত শেষ হবে, তেলের দাম কমবে: ট্রাম্প গঙ্গা পানি চুক্তি নিয়ে কারিগরি পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত: জয়সোয়াল সরকারের প্রতি জনগণের অনাস্থা ঢাকতে বিশৃঙ্খলা করা হচ্ছে: গোলাম পরওয়ার

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে নেতিবাচক ধারা অব্যাহত

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৬:১২:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬ ২০ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



বিশ্বের সর্ববৃহৎ পোশাকের বাজার যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ে নেতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের বস্ত্র ও পোশাক দপ্তর (ওটেক্সা)-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) মার্কিন বাজারে বাংলাদেশ থেকে পোশাক রপ্তানি আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫.৭৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। গত বছর এই রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৪.২৫ বিলিয়ন ডলার, যা বর্তমানে কমে ৪.০১ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। এই পরিসংখ্যান আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান দুর্বল হওয়ার একটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ওটেক্সার তথ্যানুযায়ী, আলোচ্য সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে দেশটির সার্বিক পোশাক আমদানি ৮.০৪ শতাংশ কমে ৩৫.০৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা ২০২৫ সালের একই সময়ে ছিল ৩৮.১৫ বিলিয়ন ডলার। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা হ্রাস পাওয়াকে এই আমদানির নিম্নমুখী ধারার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশের রপ্তানি কমলেও একই বাজারে ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো প্রতিযোগী দেশগুলো ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। ভিয়েতনাম ১.০৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে ৭.৮৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি নিয়ে শীর্ষ সরবরাহকারীর অবস্থান সুদৃঢ় করেছে। এছাড়া কম্বোডিয়া ১২.৩২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে ২.১৩ বিলিয়ন ডলার এবং ইন্দোনেশিয়া ৩.৪০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে ২.৩৩ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পোশাক রপ্তানি করেছে।

সেন্ট্রাল ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন জানান, বৈশ্বিক অর্থনীতির চাপের মুখে ক্রেতারা সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে ক্রেতারা এখন বড় অর্ডারের পরিবর্তে ছোট ও স্বল্পমেয়াদি অর্ডার দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

বিকেএমইএ’র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, দেশে গ্যাস-বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে পণ্য সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তার মতে, ক্রেতারা সরবরাহ ব্যবস্থার ঝুঁকি কমাতে বিভিন্ন দেশে অর্ডার ভাগ করে দিচ্ছেন, যার সরাসরি সুফল পাচ্ছে কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামের মতো দেশগুলো। খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বৈশ্বিক চাহিদার ধীরগতি, উচ্চ উৎপাদন খরচ, মার্কিন শুল্কনীতির অনিশ্চয়তা, জ্বালানি সংকট এবং সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিবন্ধকতা এই নেতিবাচক ধারার পেছনের প্রধান কারণ। বাংলাদেশে এই ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে বাজার হিস্যা হারানোর ঝুঁকি আরও বাড়বে। তাই উৎপাদন খরচ কমাতে লজিস্টিক সাপোর্ট বাড়ানো এবং গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করছেন তারা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে নেতিবাচক ধারা অব্যাহত

আপডেট সময় : ০৬:১২:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

বিশ্বের সর্ববৃহৎ পোশাকের বাজার যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ে নেতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের বস্ত্র ও পোশাক দপ্তর (ওটেক্সা)-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) মার্কিন বাজারে বাংলাদেশ থেকে পোশাক রপ্তানি আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫.৭৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। গত বছর এই রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৪.২৫ বিলিয়ন ডলার, যা বর্তমানে কমে ৪.০১ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। এই পরিসংখ্যান আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান দুর্বল হওয়ার একটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ওটেক্সার তথ্যানুযায়ী, আলোচ্য সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে দেশটির সার্বিক পোশাক আমদানি ৮.০৪ শতাংশ কমে ৩৫.০৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা ২০২৫ সালের একই সময়ে ছিল ৩৮.১৫ বিলিয়ন ডলার। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা হ্রাস পাওয়াকে এই আমদানির নিম্নমুখী ধারার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশের রপ্তানি কমলেও একই বাজারে ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো প্রতিযোগী দেশগুলো ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। ভিয়েতনাম ১.০৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে ৭.৮৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি নিয়ে শীর্ষ সরবরাহকারীর অবস্থান সুদৃঢ় করেছে। এছাড়া কম্বোডিয়া ১২.৩২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে ২.১৩ বিলিয়ন ডলার এবং ইন্দোনেশিয়া ৩.৪০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে ২.৩৩ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পোশাক রপ্তানি করেছে।

সেন্ট্রাল ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন জানান, বৈশ্বিক অর্থনীতির চাপের মুখে ক্রেতারা সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে ক্রেতারা এখন বড় অর্ডারের পরিবর্তে ছোট ও স্বল্পমেয়াদি অর্ডার দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

বিকেএমইএ’র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, দেশে গ্যাস-বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে পণ্য সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তার মতে, ক্রেতারা সরবরাহ ব্যবস্থার ঝুঁকি কমাতে বিভিন্ন দেশে অর্ডার ভাগ করে দিচ্ছেন, যার সরাসরি সুফল পাচ্ছে কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামের মতো দেশগুলো। খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বৈশ্বিক চাহিদার ধীরগতি, উচ্চ উৎপাদন খরচ, মার্কিন শুল্কনীতির অনিশ্চয়তা, জ্বালানি সংকট এবং সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিবন্ধকতা এই নেতিবাচক ধারার পেছনের প্রধান কারণ। বাংলাদেশে এই ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে বাজার হিস্যা হারানোর ঝুঁকি আরও বাড়বে। তাই উৎপাদন খরচ কমাতে লজিস্টিক সাপোর্ট বাড়ানো এবং গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করছেন তারা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin