ঢাকা ১১:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দিনাজপুরের বিরলে সাবেক স্ত্রীকে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে হত্যা, স্বামী আটক আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলায় আপিল বিভাগে শুনানি চলছে হার্দিক পান্ডিয়াকে অন্য দলে বিক্রির খবর ওড়াল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স রাজবাড়ীতে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ পালিত, সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান চট্টগ্রামে তীব্র গ্যাস-সংকট, রান্না শেষ করতে লাগছে বিকেল যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহোতে শপিং সেন্টারে বন্দুক হামলায় নিহত ৩ মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় রেকর্ড মুনাফা মার্কিন জ্বালানি জায়ান্টদের ইরানে সামরিক হামলার পরিকল্পনা বাতিল করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প শুটিং সেটে গুরুতর আহত রাশমিকা, চিকিৎসকের পরামর্শে ছয় সপ্তাহের বিশ্রাম মেসির প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে ইন্টার মায়ামির ড্র

ইরানে পরিকল্পিত সামরিক হামলা সাময়িক স্থগিত করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১৯:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

ইরানে চালানোর পরিকল্পিত সামরিক হামলা আপাতত স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তিনি জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে দ্রুত একটি সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হলেই এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে। দীর্ঘদিনের যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার মধ্যে সামরিক সংঘাতের পরিবর্তে এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নতুন করে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

রবিবার (২ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, সম্ভাব্য চুক্তির মৌলিক কাঠামো নিয়ে আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছে এবং এই উদ্যোগে ইসরায়েলেরও সমর্থন রয়েছে। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, ওয়াশিংটন ইরানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় ধরনের সামরিক শক্তি প্রয়োগের প্রস্তুতি নিয়েছিল। তবে ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের অনুরোধের পাশাপাশি কূটনৈতিক আলোচনায় অগ্রগতির কারণে তিনি এই সামরিক পদক্ষেপ থেকে আপাতত সরে এসেছেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি স্থায়ী বাতিল নয়, বরং আলোচনার জন্য সময় দেওয়ার একটি কৌশল।

সম্ভাব্য এই চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার বিষয়টি সামনে এনেছেন ট্রাম্প। তিনি মনে করেন, সমঝোতা হলে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি পরিবহনপথটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এছাড়া ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও দুই দেশের মধ্যে বড় ধরনের বিরোধ রয়েছে। ওয়াশিংটন তেহরানের পারমাণবিক সক্ষমতাকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে করলেও ইরান এটিকে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি হিসেবে দাবি করে আসছে। চুক্তিতে পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের প্রবেশাধিকার এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিলের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ট্রাম্পের জন্য ইরানকে ঘিরে সামরিক পদক্ষেপ স্থগিত করার ঘোষণা নতুন নয়। চলতি বছরের মে, এপ্রিল এবং জুন মাসেও বিভিন্ন সময়ে আলোচনার সুযোগ দিতে তিনি সামরিক অভিযান স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছিলেন। এর মাধ্যমে ওয়াশিংটন একদিকে যেমন কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ রাখছে, অন্যদিকে সামরিক চাপ ও অবরোধও অব্যাহত রেখেছে।

এদিকে সম্ভাব্য মার্কিন হামলা নিয়ে কঠোর সতর্কতা দিয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্ট সদস্য ও জাতীয় নিরাপত্তা এবং পররাষ্ট্রনীতি কমিশনের সদস্য এব্রাহিম রেজায়ি হুশিয়ারি দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্ররা ইরানে হামলা চালালে তেহরানের পাল্টা জবাব শুধু ইরানের ভূখণ্ড বা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকবে না। যেসব সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করে হামলা চালানো হবে, সেগুলোও ইরানের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন।

মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশগুলো এই সংঘাতের সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে রয়েছে। সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলো সরাসরি যুদ্ধ এড়িয়ে কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ওমান, কাতার ও পাকিস্তানের মতো মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোও দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ ও আলোচনার সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখছে। তবে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো সহজ নয়, কারণ দুই দেশের মধ্যে গভীর অবিশ্বাসের পাশাপাশি পারমাণবিক কর্মসূচি ও সার্বভৌমত্বের বিষয়ে বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে। এই সংকটময় মুহূর্তে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তকে স্থায়ী শান্তির চেয়ে একটি কূটনৈতিক সুযোগ হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

ইরানে পরিকল্পিত সামরিক হামলা সাময়িক স্থগিত করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

আপডেট সময় : ১০:১৯:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬
print news

ইরানে চালানোর পরিকল্পিত সামরিক হামলা আপাতত স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তিনি জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে দ্রুত একটি সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হলেই এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে। দীর্ঘদিনের যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার মধ্যে সামরিক সংঘাতের পরিবর্তে এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নতুন করে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

রবিবার (২ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, সম্ভাব্য চুক্তির মৌলিক কাঠামো নিয়ে আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছে এবং এই উদ্যোগে ইসরায়েলেরও সমর্থন রয়েছে। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, ওয়াশিংটন ইরানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় ধরনের সামরিক শক্তি প্রয়োগের প্রস্তুতি নিয়েছিল। তবে ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের অনুরোধের পাশাপাশি কূটনৈতিক আলোচনায় অগ্রগতির কারণে তিনি এই সামরিক পদক্ষেপ থেকে আপাতত সরে এসেছেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি স্থায়ী বাতিল নয়, বরং আলোচনার জন্য সময় দেওয়ার একটি কৌশল।

সম্ভাব্য এই চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার বিষয়টি সামনে এনেছেন ট্রাম্প। তিনি মনে করেন, সমঝোতা হলে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি পরিবহনপথটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এছাড়া ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও দুই দেশের মধ্যে বড় ধরনের বিরোধ রয়েছে। ওয়াশিংটন তেহরানের পারমাণবিক সক্ষমতাকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে করলেও ইরান এটিকে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি হিসেবে দাবি করে আসছে। চুক্তিতে পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের প্রবেশাধিকার এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিলের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ট্রাম্পের জন্য ইরানকে ঘিরে সামরিক পদক্ষেপ স্থগিত করার ঘোষণা নতুন নয়। চলতি বছরের মে, এপ্রিল এবং জুন মাসেও বিভিন্ন সময়ে আলোচনার সুযোগ দিতে তিনি সামরিক অভিযান স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছিলেন। এর মাধ্যমে ওয়াশিংটন একদিকে যেমন কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ রাখছে, অন্যদিকে সামরিক চাপ ও অবরোধও অব্যাহত রেখেছে।

এদিকে সম্ভাব্য মার্কিন হামলা নিয়ে কঠোর সতর্কতা দিয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্ট সদস্য ও জাতীয় নিরাপত্তা এবং পররাষ্ট্রনীতি কমিশনের সদস্য এব্রাহিম রেজায়ি হুশিয়ারি দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্ররা ইরানে হামলা চালালে তেহরানের পাল্টা জবাব শুধু ইরানের ভূখণ্ড বা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকবে না। যেসব সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করে হামলা চালানো হবে, সেগুলোও ইরানের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন।

মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশগুলো এই সংঘাতের সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে রয়েছে। সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলো সরাসরি যুদ্ধ এড়িয়ে কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ওমান, কাতার ও পাকিস্তানের মতো মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোও দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ ও আলোচনার সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখছে। তবে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো সহজ নয়, কারণ দুই দেশের মধ্যে গভীর অবিশ্বাসের পাশাপাশি পারমাণবিক কর্মসূচি ও সার্বভৌমত্বের বিষয়ে বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে। এই সংকটময় মুহূর্তে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তকে স্থায়ী শান্তির চেয়ে একটি কূটনৈতিক সুযোগ হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh