ঢাকা ১২:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অভাবের অন্ধকার পেরিয়ে শিলার শিক্ষিকা হওয়ার অনুপ্রেরণামূলক গল্প প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৪ হাজার ৩৮৪ শিক্ষকের যোগদান ১ অক্টোবর কলাবাগানে পারিবারিক কলহে জামাইয়ের ছুরিকাঘাতে মা ও মেয়ে নিহত জ্বালানি স্থাপনায় হামলা হলে কঠোর জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানের দিনাজপুরের বিরলে সাবেক স্ত্রীকে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে হত্যা, স্বামী আটক আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলায় আপিল বিভাগে শুনানি চলছে হার্দিক পান্ডিয়াকে অন্য দলে বিক্রির খবর ওড়াল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স রাজবাড়ীতে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ পালিত, সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান চট্টগ্রামে তীব্র গ্যাস-সংকট, রান্না শেষ করতে লাগছে বিকেল যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহোতে শপিং সেন্টারে বন্দুক হামলায় নিহত ৩

চট্টগ্রামে তীব্র গ্যাস-সংকট, রান্না শেষ করতে লাগছে বিকেল

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:১৯:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

কক্সবাজারের মহেশখালীর একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর থেকে চট্টগ্রামজুড়ে গ্যাস-সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। চাহিদার তুলনায় মাত্র ৬৬ শতাংশ গ্যাস সরবরাহ পাওয়ায় আবাসিক ও শিল্পকারখানায় গ্যাসের চাপ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে সাধারণ গ্রাহকদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। অনেক এলাকায় সকালের পর থেকে বিকেল পর্যন্ত চুলায় আগুন জ্বলে না, ফলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

কর্ণফুলী গ্যাস বিতরণ কোম্পানির (কেজিডিসিএল) তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত চট্টগ্রামে গ্যাসের চাহিদা ছিল প্রায় ৩৫ কোটি ঘনফুট, বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া গেছে মাত্র ২৩ কোটি ঘনফুট। প্রায় ১২ কোটি ঘনফুটের এই ঘাটতির কারণে নগরের হালিশহর, আগ্রাবাদ, বহদ্দারহাট ও পতেঙ্গাসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ অত্যন্ত কম। হালিশহরের বাসিন্দা শিরিন আক্তারের মতো অনেকেই অভিযোগ করেছেন, সকালের নাস্তা বা দুপুরের রান্না শেষ করতে বিকেল গড়িয়ে যাচ্ছে। গ্যাস এলেও চাপ এতটাই কম থাকে যে পানি ফুটাতেই দীর্ঘ সময় ব্যয় হচ্ছে।

জ্বালানি সংশ্লিষ্টরা জানান, চট্টগ্রামের গ্যাস সরবরাহ মূলত মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের ওপর নির্ভরশীল, যার একটি পরিচালনা করে মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি এবং অন্যটি সামিট এলএনজি টার্মিনাল। গত ২১ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে আগুন লাগার পর থেকে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ ১০০-১০৫ কোটি ঘনফুট থেকে কমে ৫০ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমে এসেছে। এই পরিস্থিতির প্রভাব সরাসরি পড়ছে চট্টগ্রামে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, টার্মিনালটি পুরোপুরি সচল করতে ১০ আগস্ট পর্যন্ত সময় চেয়েছে এক্সিলারেট এনার্জি।

পেট্রোবাংলার পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনালের অক্ষত বয়লারটি দ্রুত চালুর জন্য বিদেশি কারিগরি দল ও দেশীয় প্রকৌশলীরা কাজ করছেন। এটি চালু করা সম্ভব হলে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক অতিরিক্ত ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা যাবে। তবে বর্তমানে টার্মিনাল পুরোপুরি সচল না হওয়া পর্যন্ত এই সংকট অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে, গ্রাহকদের অভিযোগ, এই সংকটকালীন সময়ে কেজিডিসিএলের ওয়েবসাইটে কোনো বিজ্ঞপ্তি নেই এবং কোন এলাকায় কখন গ্যাসের চাপ কম থাকবে বা গ্রাহকদের কী প্রস্তুতি নেওয়া উচিত—এসব বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি, ফলে গ্যাস চলে যাওয়ার পরই বিষয়টি জানতে পারছেন গ্রাহকেরা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে তীব্র গ্যাস-সংকট, রান্না শেষ করতে লাগছে বিকেল

আপডেট সময় : ১১:১৯:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬
print news

কক্সবাজারের মহেশখালীর একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর থেকে চট্টগ্রামজুড়ে গ্যাস-সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। চাহিদার তুলনায় মাত্র ৬৬ শতাংশ গ্যাস সরবরাহ পাওয়ায় আবাসিক ও শিল্পকারখানায় গ্যাসের চাপ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে সাধারণ গ্রাহকদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। অনেক এলাকায় সকালের পর থেকে বিকেল পর্যন্ত চুলায় আগুন জ্বলে না, ফলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

কর্ণফুলী গ্যাস বিতরণ কোম্পানির (কেজিডিসিএল) তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত চট্টগ্রামে গ্যাসের চাহিদা ছিল প্রায় ৩৫ কোটি ঘনফুট, বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া গেছে মাত্র ২৩ কোটি ঘনফুট। প্রায় ১২ কোটি ঘনফুটের এই ঘাটতির কারণে নগরের হালিশহর, আগ্রাবাদ, বহদ্দারহাট ও পতেঙ্গাসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ অত্যন্ত কম। হালিশহরের বাসিন্দা শিরিন আক্তারের মতো অনেকেই অভিযোগ করেছেন, সকালের নাস্তা বা দুপুরের রান্না শেষ করতে বিকেল গড়িয়ে যাচ্ছে। গ্যাস এলেও চাপ এতটাই কম থাকে যে পানি ফুটাতেই দীর্ঘ সময় ব্যয় হচ্ছে।

জ্বালানি সংশ্লিষ্টরা জানান, চট্টগ্রামের গ্যাস সরবরাহ মূলত মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের ওপর নির্ভরশীল, যার একটি পরিচালনা করে মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি এবং অন্যটি সামিট এলএনজি টার্মিনাল। গত ২১ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে আগুন লাগার পর থেকে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ ১০০-১০৫ কোটি ঘনফুট থেকে কমে ৫০ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমে এসেছে। এই পরিস্থিতির প্রভাব সরাসরি পড়ছে চট্টগ্রামে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, টার্মিনালটি পুরোপুরি সচল করতে ১০ আগস্ট পর্যন্ত সময় চেয়েছে এক্সিলারেট এনার্জি।

পেট্রোবাংলার পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনালের অক্ষত বয়লারটি দ্রুত চালুর জন্য বিদেশি কারিগরি দল ও দেশীয় প্রকৌশলীরা কাজ করছেন। এটি চালু করা সম্ভব হলে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক অতিরিক্ত ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা যাবে। তবে বর্তমানে টার্মিনাল পুরোপুরি সচল না হওয়া পর্যন্ত এই সংকট অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে, গ্রাহকদের অভিযোগ, এই সংকটকালীন সময়ে কেজিডিসিএলের ওয়েবসাইটে কোনো বিজ্ঞপ্তি নেই এবং কোন এলাকায় কখন গ্যাসের চাপ কম থাকবে বা গ্রাহকদের কী প্রস্তুতি নেওয়া উচিত—এসব বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি, ফলে গ্যাস চলে যাওয়ার পরই বিষয়টি জানতে পারছেন গ্রাহকেরা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo