ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের মুখোমুখি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু
- আপডেট সময় : ১০:২৮:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬ ৩২ বার পড়া হয়েছে

ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করতে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর এটি হবে দুই নেতার প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ। যদিও যুদ্ধ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রকাশ্যে মতবিরোধের ঘটনা ঘটেছে, তবে সাম্প্রতিক সময়ে উভয়ই উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা করছেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবারের এই বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় হবে ইরান যুদ্ধ। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে এই সংঘাতের সূচনা হয়। বর্তমানে ওয়াশিংটন আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সুযোগ দিতে আগ্রহী। চলতি মাসের শুরুতে এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর সংঘর্ষ নতুন করে শুরু হলেও, সাম্প্রতিক লড়াইয়ে ইসরায়েল সরাসরি অংশ নেয়নি। গত বছর ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর এটি তাদের অষ্টম বৈঠক।
সফরের আগে নেতানিয়াহু জানান, আলোচনার সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের মধ্যে ইরানই শীর্ষে রয়েছে। তিনি বলেন, ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শান্তির পরিধি বাড়ানোই তাদের লক্ষ্য। এ সময় তিনি জটিল সময়ে প্রজ্ঞা ও দৃঢ়তার সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দেন। এর আগে এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার সময় ট্রাম্প প্রকাশ্যে নেতানিয়াহুর সমালোচনা করেছিলেন এবং তাকে ‘খুবই কঠিন একজন ব্যক্তি’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। তবে নেতানিয়াহু এসব ঘটনাকে কেবল ‘কৌশলগত মতপার্থক্য’ হিসেবেই দেখছেন এবং যুদ্ধের মূল লক্ষ্য নিয়ে তাদের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই বলে দাবি করেন।
মঙ্গলবারের বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত মাসে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি কাঠামোগত চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে, যদিও মাঠপর্যায়ে সেই চুক্তি কার্যকর করা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া গাজা পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনি অঞ্চলটির পুনর্গঠন শুরু করতে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বর্তমানে কার্যত স্থবির অবস্থায় রয়েছে। ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর প্রায় তিন বছর পরও গাজার মানবিক পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ। ইসরায়েল নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে এবং তাদের দাবি, এসব হামলার লক্ষ্য সশস্ত্র যোদ্ধারা।
জেরুজালেমের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ইয়োনাতান ফ্রিম্যানের মতে, এই সফরের প্রধান উদ্দেশ্য হলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্পর্ক দুর্বল হয়ে পড়েছে এমন ধারণা দূর করা। তিনি এএফপিকে বলেন, প্রধান উদ্দেশ্য হলো বিশ্বকে, ইরানকে, এমনকি লেবাননসহ অন্য দেশগুলোকেও দেখানো যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে কোনো ভাঙন বা বড় ধরনের মতবিরোধ নেই। ফ্রিম্যানের মতে, দুই নেতার মধ্যে মতবিরোধের চেয়ে মিলই অনেক বেশি। তিনি মনে করেন, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর পার্থক্য মূলত যুদ্ধ পরিচালনার কৌশল নিয়ে—যেমন সময়সূচি, হামলার তীব্রতা এবং তাৎক্ষণিক লক্ষ্য। কিন্তু যুদ্ধের চূড়ান্ত উদ্দেশ্য নিয়ে তাদের অবস্থান প্রায় একই।
বিশ্লেষকদের ধারণা, ট্রাম্পের মূল মনোযোগ থাকবে ইরান এবং আব্রাহাম চুক্তি সম্প্রসারণের ওপর, যেখানে গাজাকে তিনি তুলনামূলক কম অগ্রাধিকার দেন। আব্রাহাম চুক্তি হলো ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত একাধিক সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ চুক্তি। অন্য বিশ্লেষকদের মতে, বৈঠকে লেবানন, সিরিয়া ও গাজায় ইসরায়েলের সামরিক উপস্থিতি ধীরে ধীরে কমানোর বিষয়েও আলোচনা হতে পারে। নেতানিয়াহুর এই সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন ইসরায়েলে জাতীয় নির্বাচন আর কয়েক মাস বাকি। সাম্প্রতিক জনমত জরিপে তিনি জনপ্রিয়তায় পিছিয়ে রয়েছেন, কারণ ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা ঠেকাতে তার সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে জনগণের ক্ষোভ এখনো পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি।





























