ঢাকা ০৫:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সমালোচকদের কড়া জবাব দিলেন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার রদ্রিগো ডি পল রাবি শিক্ষার্থী হেনস্তার প্রতিবাদে ৮ ঘণ্টা পর রেল অবরোধ প্রত্যাহার পরীক্ষা ব্যবস্থা নির্ভুল করার আহ্বান মোদির, মিছিল স্থগিত আন্দোলনকারীদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ মেজর (অব.) মোজাফফরকে সুনামগঞ্জে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে যুবকের আত্মহত্যা সবুজবাগে ৯৯ বোতল ভারতীয় মদসহ আটক ১ সুন্দরবনের নলিয়ানে ৩০ কেজি হরিণের মাংসসহ ব্যবসায়ী আটক ইয়ামালকে চ্যাম্পিয়ন হতে দিতে চান না মেসি, জানালেন পরিকল্পনা টেকনাফে অনুপ্রবেশের সময় মিয়ানমারের সেনা ও পুলিশ সদস্য আটক সাইবার বুলিং দমনে বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করবে সরকার: তথ্য উপদেষ্টা

গাজায় স্পেনের পক্ষে ফুটবলপ্রেমীদের জোয়ার, আর্জেন্টিনার পাশে নেতানিয়াহু

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:২৭:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

বিশ্বফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট কার মাথায় উঠছে, তা নির্ধারণে আজ নিউ জার্সিতে মুখোমুখি হচ্ছে স্পেন ও আর্জেন্টিনা। এই হাইভোল্টেজ ম্যাচকে ঘিরে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে দেখা গেছে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা। গাজার সিংহভাগ সমর্থকই স্পেনের পক্ষ নিয়েছেন। তাদের এই সমর্থনের পেছনে রয়েছে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রতি স্পেনের রাজনৈতিক ও মানবিক অবস্থান।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের মে মাসে স্পেন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়। সেই সময় স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ জানিয়েছিলেন, এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য ছিল ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাতের দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানকে এগিয়ে নেওয়া, গাজার মানবিক সংকট দূর করা, যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা এবং সেখানে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া।

রাজনৈতিক অবস্থানের পাশাপাশি স্প্যানিশ জাতীয় দলের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় ও কোচও গাজার মানুষের প্রতি বিভিন্ন সময়ে সংহতি জানিয়েছেন। বার্সেলোনার তারকা লামিনে ইয়ামাল এবং ম্যানচেস্টার সিটির সাবেক কোচ পেপ গার্দিওলার মতো ব্যক্তিত্বদের এসব পদক্ষেপ ফিলিস্তিনিদের কাছে ফুটবলের গণ্ডি পেরিয়ে এক প্রতীকী গুরুত্ব পেয়েছে।

গাজার পঙ্গুদের ফুটবল দল ‘গাজা আল ইরাদা’ (গাজা ডিটারমিনেশন)-এর প্রধান কোচ হাতেম আল মাগরিবি বলেন, ‘পুরো ফিলিস্তিনি জাতি চায় স্পেন বিশ্বকাপ জিতুক।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘এই খেলোয়াড়রা তাদের পা বা হাত হারিয়েছে, কিন্তু যারা ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়িয়েছে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা, ভালোবাসা ও সম্মান প্রকাশ করার শক্তি তারা হারায়নি।’ এ সময় তিনি বিশ্বকাপ চলাকালীন প্রকাশ্যে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে সমর্থন জানানোর জন্য মিসরের কোচ হোসাম হাসানকেও বিশেষ ধন্যবাদ জানান।

তবে দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা ইসরাইলি হামলার কারণে গাজাবাসীর জন্য বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো উপভোগ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। সাবেক ফুটবলার ও স্টেডিয়াম ব্যবস্থাপক আদনান আল আফিফি বলেন, ‘বিদ্যুৎ থাকলেই কেবল মানুষ খেলা দেখতে পারে। কিন্তু জ্বালানির তীব্র সংকট ও অতিরিক্ত দামের কারণে জেনারেটরও চালানো যাচ্ছে না। এর চরম মূল্য দিতে হচ্ছে সাধারণ ফিলিস্তিনিদের।’

যুদ্ধের মাঝেও হারিয়ে যাওয়া ক্রীড়া পরিবেশ কিছুটা ফিরিয়ে আনতে গাজা সিটির প্যালেস্টাইন স্পোর্টস ক্লাবে বিশ্বকাপ উপলক্ষে প্রদর্শনী ম্যাচের আয়োজন করেন আদনান আল আফিফি। এটিই বর্তমানে গাজা উপত্যকার একমাত্র সচল ফুটবল ক্লাব যেখানে খেলোয়াড়রা অনুশীলন ও খেলার সুযোগ পান। গত বৃহস্পতিবার ও শনিবার সেখানে ফিলিস্তিন ও স্পেনের প্রতীকী দলের মধ্যে বিশ্বকাপ অনুকরণে দুটি প্রদর্শনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক ম্যাচের অনুভূতি দিতে রেফারি ছাড়াও সেখানে প্রতীকী ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) ব্যবস্থার আয়োজন করা হয়েছিল।

৩৭ বছর বয়সী আল-আফিফি বলেন, ‘পুরো পরিবেশ ছিল আবেগ ও ইতিবাচকতায় ভরা। স্পেন জাতীয় দলের প্রতি আমাদের সমর্থনের এটিই ছিল সবচেয়ে বড় প্রকাশ।’ একই সুর শোনা গেল ৩৩ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি আহমেদ আল বোজমের কণ্ঠেও। তিনি বলেন, ‘আমি পুরোপুরি স্পেনের পক্ষে। কারণ তারা ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়িয়েছে।’

এদিকে, এই মহা-লড়াইয়ের আগে আর্জেন্টিনার প্রতি প্রকাশ্যে নিজের সমর্থন ব্যক্ত করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। টাইমস অব ইসরাইলের বরাতে জানা গেছে, ইসরাইলে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত রাব্বি শিমন অ্যাক্সেল ওয়ানিশের সঙ্গে এক বৈঠকে নেতানিয়াহু এই সমর্থনের কথা জানান।

বৈঠকে রাষ্ট্রদূত আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইর পক্ষ থেকে নেতানিয়াহুর কাছে একটি বিশেষ বার্তা পৌঁছে দেন। এর জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, ‘হাভিয়ের, আপনি একজন সত্যিকারের বন্ধু। আপনি আমাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আমরা আর্জেন্টিনার পাশে আছি এবং নানা ক্ষেত্রেই তাদের সমর্থন করি। আগামীকালের (রোববার) ম্যাচের জন্যও শুভকামনা রইল। শুভকামনা আর্জেন্টিনার জন্য।’

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor

নিউজটি শেয়ার করুন

গাজায় স্পেনের পক্ষে ফুটবলপ্রেমীদের জোয়ার, আর্জেন্টিনার পাশে নেতানিয়াহু

আপডেট সময় : ০৯:২৭:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
print news

বিশ্বফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট কার মাথায় উঠছে, তা নির্ধারণে আজ নিউ জার্সিতে মুখোমুখি হচ্ছে স্পেন ও আর্জেন্টিনা। এই হাইভোল্টেজ ম্যাচকে ঘিরে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে দেখা গেছে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা। গাজার সিংহভাগ সমর্থকই স্পেনের পক্ষ নিয়েছেন। তাদের এই সমর্থনের পেছনে রয়েছে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রতি স্পেনের রাজনৈতিক ও মানবিক অবস্থান।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের মে মাসে স্পেন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়। সেই সময় স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ জানিয়েছিলেন, এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য ছিল ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাতের দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানকে এগিয়ে নেওয়া, গাজার মানবিক সংকট দূর করা, যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা এবং সেখানে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া।

রাজনৈতিক অবস্থানের পাশাপাশি স্প্যানিশ জাতীয় দলের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় ও কোচও গাজার মানুষের প্রতি বিভিন্ন সময়ে সংহতি জানিয়েছেন। বার্সেলোনার তারকা লামিনে ইয়ামাল এবং ম্যানচেস্টার সিটির সাবেক কোচ পেপ গার্দিওলার মতো ব্যক্তিত্বদের এসব পদক্ষেপ ফিলিস্তিনিদের কাছে ফুটবলের গণ্ডি পেরিয়ে এক প্রতীকী গুরুত্ব পেয়েছে।

গাজার পঙ্গুদের ফুটবল দল ‘গাজা আল ইরাদা’ (গাজা ডিটারমিনেশন)-এর প্রধান কোচ হাতেম আল মাগরিবি বলেন, ‘পুরো ফিলিস্তিনি জাতি চায় স্পেন বিশ্বকাপ জিতুক।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘এই খেলোয়াড়রা তাদের পা বা হাত হারিয়েছে, কিন্তু যারা ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়িয়েছে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা, ভালোবাসা ও সম্মান প্রকাশ করার শক্তি তারা হারায়নি।’ এ সময় তিনি বিশ্বকাপ চলাকালীন প্রকাশ্যে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে সমর্থন জানানোর জন্য মিসরের কোচ হোসাম হাসানকেও বিশেষ ধন্যবাদ জানান।

তবে দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা ইসরাইলি হামলার কারণে গাজাবাসীর জন্য বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো উপভোগ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। সাবেক ফুটবলার ও স্টেডিয়াম ব্যবস্থাপক আদনান আল আফিফি বলেন, ‘বিদ্যুৎ থাকলেই কেবল মানুষ খেলা দেখতে পারে। কিন্তু জ্বালানির তীব্র সংকট ও অতিরিক্ত দামের কারণে জেনারেটরও চালানো যাচ্ছে না। এর চরম মূল্য দিতে হচ্ছে সাধারণ ফিলিস্তিনিদের।’

যুদ্ধের মাঝেও হারিয়ে যাওয়া ক্রীড়া পরিবেশ কিছুটা ফিরিয়ে আনতে গাজা সিটির প্যালেস্টাইন স্পোর্টস ক্লাবে বিশ্বকাপ উপলক্ষে প্রদর্শনী ম্যাচের আয়োজন করেন আদনান আল আফিফি। এটিই বর্তমানে গাজা উপত্যকার একমাত্র সচল ফুটবল ক্লাব যেখানে খেলোয়াড়রা অনুশীলন ও খেলার সুযোগ পান। গত বৃহস্পতিবার ও শনিবার সেখানে ফিলিস্তিন ও স্পেনের প্রতীকী দলের মধ্যে বিশ্বকাপ অনুকরণে দুটি প্রদর্শনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক ম্যাচের অনুভূতি দিতে রেফারি ছাড়াও সেখানে প্রতীকী ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) ব্যবস্থার আয়োজন করা হয়েছিল।

৩৭ বছর বয়সী আল-আফিফি বলেন, ‘পুরো পরিবেশ ছিল আবেগ ও ইতিবাচকতায় ভরা। স্পেন জাতীয় দলের প্রতি আমাদের সমর্থনের এটিই ছিল সবচেয়ে বড় প্রকাশ।’ একই সুর শোনা গেল ৩৩ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি আহমেদ আল বোজমের কণ্ঠেও। তিনি বলেন, ‘আমি পুরোপুরি স্পেনের পক্ষে। কারণ তারা ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়িয়েছে।’

এদিকে, এই মহা-লড়াইয়ের আগে আর্জেন্টিনার প্রতি প্রকাশ্যে নিজের সমর্থন ব্যক্ত করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। টাইমস অব ইসরাইলের বরাতে জানা গেছে, ইসরাইলে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত রাব্বি শিমন অ্যাক্সেল ওয়ানিশের সঙ্গে এক বৈঠকে নেতানিয়াহু এই সমর্থনের কথা জানান।

বৈঠকে রাষ্ট্রদূত আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইর পক্ষ থেকে নেতানিয়াহুর কাছে একটি বিশেষ বার্তা পৌঁছে দেন। এর জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, ‘হাভিয়ের, আপনি একজন সত্যিকারের বন্ধু। আপনি আমাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আমরা আর্জেন্টিনার পাশে আছি এবং নানা ক্ষেত্রেই তাদের সমর্থন করি। আগামীকালের (রোববার) ম্যাচের জন্যও শুভকামনা রইল। শুভকামনা আর্জেন্টিনার জন্য।’

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor