ডেলিভারি রাইডারের কাব্যপ্রতিভা: লু শুন পুরস্কার পেলেন ওয়াং জিবিং

- আপডেট সময় : ০১:১৫:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

খাবার সরবরাহ করার ফাঁকে ফাঁকে কবিতা লিখে চীনের অন্যতম শীর্ষ সাহিত্য পুরস্কার ‘লু শুন সাহিত্য পুরস্কার’ অর্জন করেছেন ডেলিভারি রাইডার ওয়াং জিবিং। আধুনিক চীনা সাহিত্যের জনক লু শুনের নামে প্রবর্তিত এই পুরস্কারটি দেশটির সর্বোচ্চ সাহিত্য সম্মানগুলোর একটি। নিজের কাব্য সংকলন ‘লো ফ্লাইট’-এর জন্য তিনি এই স্বীকৃতি পেলেন।
৫৬ বছর বয়সী ওয়াং জিবিং ২০১৯ সাল থেকে ফুড ডেলিভারি রাইডার হিসেবে কাজ করছেন। জিয়াংসু প্রদেশে জন্ম নেওয়া ওয়াং পারিবারিক আর্থিক সংকটের কারণে কিশোর বয়সেই পড়াশোনা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। দীর্ঘ জীবনে তিনি নির্মাণশ্রমিক, বর্জ্য সংগ্রহকারী ও ফুটপাতে পণ্য বিক্রেতাসহ নানা পেশায় কাজ করেছেন। তবে কঠিন জীবনসংগ্রামের মধ্যেও বই পড়ার অভ্যাস ও লেখালেখি তিনি কখনো ছাড়েননি।
গত এক দশক ধরে তিনি নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের কবিতা ও প্রবন্ধ প্রকাশ করে আসছেন। ২০১৯ সালে এক গ্রাহকের ভুল ঠিকানার কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভোগান্তির শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতায় লেখা তার ‘ম্যান ইন অ্যা হারি’ কবিতাটি ২০২২ সালে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সালে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ম্যান ইন অ্যা হারি: পোয়েমস অব আ ফুড ডেলিভারি রাইডার’ প্রকাশিত হয়।
সর্বশেষ ২০২৪ সালে প্রকাশিত ‘লো ফ্লাইট’ কাব্যগ্রন্থটি প্রায় ২০০ ডেলিভারি রাইডারের সাক্ষাৎকার ও জরিপের ভিত্তিতে সংকলিত। বইটির একটি জনপ্রিয় পঙক্তিতে তিনি লিখেছেন, ‘ডানা মেললেই যে উঁচুতে উড়তে হবে, এমন নয়। নিচুতে উড়েও তো উড়ে যাওয়া যায়।’
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় ওয়াং জানান, পুরস্কারের ঘোষণার আগ পর্যন্ত তিনি ভীষণ স্নায়ুচাপে ছিলেন। তবে এই বড় সাফল্যের পরও তিনি ডেলিভারি রাইডারের কাজ ছাড়ার কোনো পরিকল্পনা করছেন না। তিনি অন্তত ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত এই কাজ চালিয়ে যেতে চান। তার ভাষ্যমতে, জীবিকার জন্য এখন এই কাজের প্রয়োজন না থাকলেও, কাজের পরিবেশ এবং শারীরিক সক্রিয়তা তাকে এই পেশার প্রতি অনুরাগী করে রেখেছে।
ওয়াং জিবিংয়ের এই সাফল্য চীনে শ্রমজীবী মানুষের সাহিত্যচর্চার ক্রমবর্ধমান স্বীকৃতির একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। এর আগে ২০২৩ সালে সাবেক কুরিয়ার কর্মী হু আনইয়ানের আত্মজীবনী ‘আই ডেলিভার পার্সেলস ইন বেইজিং’ এবং ২০১৭ সালে অভিবাসী শ্রমিক ফান ইউসুর প্রবন্ধ ‘আই অ্যাম ফান ইউসু’ চীনে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।



























