ঢাকা ০৯:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শহিদ ডা. কবিরুলের মেয়ের এসএসসি সাফল্যে পাশে দাঁড়ালেন ডা. রফিকূল পরিবর্তনহীন পুলিশ: এখনো ঘুস ও বদলি বাণিজ্যের পুরোনো বৃত্তেই ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে মার্কিন বিনিয়োগের আহ্বান শিল্পমন্ত্রীর ঘুষ না পেয়ে ঠিকাদারের হাত ভাঙার অভিযোগ সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে কোনো আপস নয়: নুরুন্নিসা সিদ্দিকা ঘুমের ওষুধ খাইয়ে দুই সন্তানকে হাওরে ফেলে হত্যা, ঘাতক বাবা গ্রেপ্তার রাষ্ট্রপতি প্রার্থী চূড়ান্ত করতে বৃহস্পতিবার বৈঠকে বসছে বিএনপি ১২ বছরে ১১৭ কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন পেল সরকার ফ্যাসিবাদের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশে কোকোর মৃত্যু: রিজভী বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে শপিংমল ও দোকানপাট রাত ৮টার মধ্যে বন্ধের নির্দেশ

হামের চিকিৎসায় ঋণগ্রস্ত ৮৯ শতাংশ পরিবার, সঞ্চয় হারিয়েছে ৬১ শতাংশ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:১৯:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাবের ফলে আক্রান্ত পরিবারগুলো তীব্র আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (বিডিআরসিএস) এবং আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ফেডারেশনের (আইএফআরসি) যৌথ জরিপে দেখা গেছে, হামে আক্রান্ত প্রতি ১০টি পরিবারের প্রায় ৯টিই—অর্থাৎ ৮৯ শতাংশ—চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে ঋণ নিতে বাধ্য হয়েছে। এছাড়া ৬১ শতাংশ পরিবার তাদের জমানো সঞ্চয় পুরোপুরি শেষ করে ফেলেছে। চলতি বছরের মে-জুন মাসে ২ হাজার ৭৪৬টি পরিবারের ওপর এই জরিপটি পরিচালনা করা হয়।

জরিপে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি পরিবারই আর্থিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছে। তাদের চাহিদার তালিকায় ৩৫ শতাংশ ওষুধ, ৩৩ শতাংশ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি এবং ২২ শতাংশ খাদ্য সহায়তাকে সবচেয়ে জরুরি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এছাড়া চার শতাংশ পরিবার চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে সম্পদ বিক্রি করেছে এবং তিন শতাংশ অনুদানের ওপর নির্ভরশীল। জরিপের মূল লক্ষ্য ছিল হামের সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়ন করা এবং সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ২ হাজার ৪০০টি পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে জরুরি নগদ সহায়তা প্রদান করা।

জরিপে দেখা গেছে, আক্রান্তদের মধ্যে ৭৫ শতাংশের বয়স চার বছরের নিচে, ১৯ শতাংশের বয়স পাঁচ থেকে ১৭ বছর এবং ছয় শতাংশের বয়স ১৮ বছরের বেশি। চিকিৎসা ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতে প্রতিটি পরিবার গড়ে প্রায় ১৬ হাজার টাকা ব্যয় করেছে। অনেক অভিভাবক জানিয়েছেন, হাসপাতালে দীর্ঘ সময় অবস্থানের কারণে তারা আয় হারিয়েছেন, এমনকি অনেকের চাকরিও চলে গেছে। রংপুরের হাজেরা খাতুন জানান, তার ১১ মাস বয়সি মেয়ের চিকিৎসার জন্য ঢাকা এসে তাদের পরিবার ৭০ হাজার টাকার বেশি খরচ করেছে। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা বিনামূল্যে হলেও অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও খাবারসহ অন্যান্য দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে তাদের আত্মীয়দের কাছে ঋণ নিতে হয়েছে। তার স্বামী সৌদি আরবে কর্মরত থাকলেও বেতন না পাওয়ায় পরিবারটি চরম সংকটে পড়েছে।

জরিপে অংশগ্রহণকারী পরিবারগুলোর মধ্যে ৭৮ শতাংশই অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত। তাদের মাসিক আয় ৬ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদী অসুস্থতা তাদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সেক্রেটারি জেনারেল ড. কবির এম. আশরাফ আলম জানান, সংস্থাটি ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে নগদ সহায়তার পাশাপাশি সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আইএফআরসির হেড অব ডেলিগেশন আলবার্তো বোকানেগ্রা বলেন, অসুস্থ সদস্যের পরিচর্যায় পরিবারগুলো কঠিন আর্থিক চাপে পড়ছে, তাই জনস্বাস্থ্য জরুরি পরিস্থিতিতে মানবিক সহায়তা ও সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি। বিডিআরসিএস সরকারের টিকাদান কর্মসূচিতে সহায়তা করছে এবং এক হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবক মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন।

এদিকে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে ৯৬৭ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে সোমবার পর্যন্ত মোট সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৩১ হাজার ৫০ এবং নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ১৬ হাজার ৪০৮ জনের শরীরে। এর মধ্যে ১ লাখ ১৩ হাজার ৫২৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল এবং ১ লাখ ৯ হাজার ১৮৯ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor

নিউজটি শেয়ার করুন

হামের চিকিৎসায় ঋণগ্রস্ত ৮৯ শতাংশ পরিবার, সঞ্চয় হারিয়েছে ৬১ শতাংশ

আপডেট সময় : ০১:১৯:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
print news

বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাবের ফলে আক্রান্ত পরিবারগুলো তীব্র আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (বিডিআরসিএস) এবং আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ফেডারেশনের (আইএফআরসি) যৌথ জরিপে দেখা গেছে, হামে আক্রান্ত প্রতি ১০টি পরিবারের প্রায় ৯টিই—অর্থাৎ ৮৯ শতাংশ—চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে ঋণ নিতে বাধ্য হয়েছে। এছাড়া ৬১ শতাংশ পরিবার তাদের জমানো সঞ্চয় পুরোপুরি শেষ করে ফেলেছে। চলতি বছরের মে-জুন মাসে ২ হাজার ৭৪৬টি পরিবারের ওপর এই জরিপটি পরিচালনা করা হয়।

জরিপে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি পরিবারই আর্থিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছে। তাদের চাহিদার তালিকায় ৩৫ শতাংশ ওষুধ, ৩৩ শতাংশ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি এবং ২২ শতাংশ খাদ্য সহায়তাকে সবচেয়ে জরুরি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এছাড়া চার শতাংশ পরিবার চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে সম্পদ বিক্রি করেছে এবং তিন শতাংশ অনুদানের ওপর নির্ভরশীল। জরিপের মূল লক্ষ্য ছিল হামের সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়ন করা এবং সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ২ হাজার ৪০০টি পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে জরুরি নগদ সহায়তা প্রদান করা।

জরিপে দেখা গেছে, আক্রান্তদের মধ্যে ৭৫ শতাংশের বয়স চার বছরের নিচে, ১৯ শতাংশের বয়স পাঁচ থেকে ১৭ বছর এবং ছয় শতাংশের বয়স ১৮ বছরের বেশি। চিকিৎসা ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতে প্রতিটি পরিবার গড়ে প্রায় ১৬ হাজার টাকা ব্যয় করেছে। অনেক অভিভাবক জানিয়েছেন, হাসপাতালে দীর্ঘ সময় অবস্থানের কারণে তারা আয় হারিয়েছেন, এমনকি অনেকের চাকরিও চলে গেছে। রংপুরের হাজেরা খাতুন জানান, তার ১১ মাস বয়সি মেয়ের চিকিৎসার জন্য ঢাকা এসে তাদের পরিবার ৭০ হাজার টাকার বেশি খরচ করেছে। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা বিনামূল্যে হলেও অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও খাবারসহ অন্যান্য দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে তাদের আত্মীয়দের কাছে ঋণ নিতে হয়েছে। তার স্বামী সৌদি আরবে কর্মরত থাকলেও বেতন না পাওয়ায় পরিবারটি চরম সংকটে পড়েছে।

জরিপে অংশগ্রহণকারী পরিবারগুলোর মধ্যে ৭৮ শতাংশই অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত। তাদের মাসিক আয় ৬ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদী অসুস্থতা তাদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সেক্রেটারি জেনারেল ড. কবির এম. আশরাফ আলম জানান, সংস্থাটি ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে নগদ সহায়তার পাশাপাশি সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আইএফআরসির হেড অব ডেলিগেশন আলবার্তো বোকানেগ্রা বলেন, অসুস্থ সদস্যের পরিচর্যায় পরিবারগুলো কঠিন আর্থিক চাপে পড়ছে, তাই জনস্বাস্থ্য জরুরি পরিস্থিতিতে মানবিক সহায়তা ও সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি। বিডিআরসিএস সরকারের টিকাদান কর্মসূচিতে সহায়তা করছে এবং এক হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবক মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন।

এদিকে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে ৯৬৭ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে সোমবার পর্যন্ত মোট সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৩১ হাজার ৫০ এবং নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ১৬ হাজার ৪০৮ জনের শরীরে। এর মধ্যে ১ লাখ ১৩ হাজার ৫২৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল এবং ১ লাখ ৯ হাজার ১৮৯ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor