ঢাকা ০৮:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অপরাধ নিয়ন্ত্রণে শাস্তির পাশাপাশি কাউন্সেলিং জরুরি: খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের ৫ নেতাকে সাংগঠনিক কারণে বহিষ্কার হামলার আশঙ্কায় পুলিশের নিরাপত্তা চাইল ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি চীনের অর্থনীতির রূপকার ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঝু রংজির পরলোকগমন তথ্য নিয়ে কোনো বিভ্রান্তি ছড়াবে না সরকার: আমির খসরু রাতে বাড়ছে মেট্রোরেল চলাচলের সময়, এ মাসেই যুক্ত হচ্ছে নতুন ট্রেন বাবার প্রয়াণে আবেগঘন বার্তায় মেসি: ‘শান্তিতে ঘুমাও বাবা’ জেলা পর্যায়ে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ চালুর ঘোষণা মাহদী আমিনের ট্রাইব্যুনালে ওবায়দুল কাদেরকে ‘রাজনৈতিক জোকার’ বললেন চিফ প্রসিকিউটর বিএমইউ’র বরিশাল বিভাগীয় কল্যাণ সমিতির সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

শিশুর গ্লুকোমা: লক্ষণ চিনে দ্রুত চিকিৎসায় বাঁচতে পারে দৃষ্টি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৩৭:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

গ্লুকোমা চোখের এমন একটি জটিল অবস্থা, যেখানে চোখের অভ্যন্তরীণ চাপ স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যায়। এই চাপের কারণে রেটিনাল নার্ভ বা অপটিক স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা শেষ পর্যন্ত স্থায়ী অন্ধত্বের দিকে নিয়ে যেতে পারে। গ্লুকোমা নিয়ে শিশুরা জন্মগতভাবেও আক্রান্ত হতে পারে।

শিশুর গ্লুকোমা শনাক্ত করার বেশ কিছু প্রাথমিক লক্ষণ রয়েছে। আক্রান্ত শিশুর চোখ স্বাভাবিকের চেয়ে বড় মনে হতে পারে, যা অনেকটা গরুর চোখের মতো ডাগর ও টানা দেখায়। চোখের মণি পুরো অংশ জুড়ে বিস্তৃত থাকতে পারে এবং কর্নিয়ার দিকে তাকালে চোখটি ভারী ও ভেজা ভেজা মনে হয়। এছাড়া শিশুর চোখ দিয়ে অনবরত পানি পড়া এবং আলোর প্রতি তীব্র সংবেদনশীলতা গ্লুকোমার অন্যতম বড় লক্ষণ। এমনকি নবজাতক শিশুও আলো সহ্য করতে পারে না এবং আলো দেখলেই অস্বস্তি প্রকাশ করে। সময়ের সঙ্গে সমস্যাটি বাড়তে থাকলে চোখের মণি ঘোলাটে হয়ে যায় এবং চোখ অস্বাভাবিক বড় হয়ে যেতে পারে।

শিশুদের ক্ষেত্রে গ্লুকোমা নির্ণয় ও চিকিৎসা বেশ চ্যালেঞ্জিং। অনেক অভিভাবক ঝামেলার ভয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন না হয়ে নিজেরাই বাজার থেকে ওষুধ কিনে প্রয়োগ করেন। বিশেষ করে স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধের অপব্যবহার শিশুদের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে; কারণ পাঁচ শতাংশ ক্ষেত্রে স্টেরয়েডের কারণে গ্লুকোমা হতে পারে। যখন শিশুটিকে শেষ পর্যায়ে ডাক্তারের কাছে আনা হয়, তখন তার দৃষ্টিশক্তি পুনরুদ্ধারের সুযোগ প্রায় থাকে না।

গ্লুকোমা শনাক্ত করার জন্য চক্ষু বিশেষজ্ঞরা ইন্ট্রাকুলার চাপ পরিমাপ, অপটিক নার্ভ ড্যামেজ পরীক্ষা, ডায়ালেট আই এক্সামিনেশন, ইমেজিং টেস্ট, ভিজ্যুয়াল ফিল্ড টেস্ট, কর্নিয়ার পুরুত্ব পরীক্ষা এবং ড্রেনেজ অ্যাঙ্গেল পরীক্ষা করে থাকেন।

চিকিৎসার ক্ষেত্রে দেরি করা উচিত নয়। লক্ষণ দেখা দেওয়া মাত্রই চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। গ্লুকোমার চিকিৎসায় ওষুধ প্রয়োগের পাশাপাশি লেজার থেরাপি, ফিল্টারিং সার্জারি, ড্রেনেজ টিউবস এবং মিনিমালি ইনভ্যাসিভ গ্লুকোমা সার্জারির মতো পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়। রোগীর শারীরিক অবস্থা ও পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে চিকিৎসক সঠিক পদ্ধতি নির্ধারণ করেন। প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা করালে গ্লুকোমা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব, তাই শিশুর চোখের যেকোনো অস্বাভাবিকতা অবহেলা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

তাই শিশুর চোখ স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বড় মনে হলেই শিশু চক্ষু গ্লুকোমা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।লেখক : চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ এবং অধ্যাপক; পরিচালক ও সিনিয়র কনসালট্যান্ট, বাংলাদেশ আই হসপিটাল, মালিবাগ, ঢাকাহটলাইন : ০৯৬১৩৯৬৬৯৬৬

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy

নিউজটি শেয়ার করুন

শিশুর গ্লুকোমা: লক্ষণ চিনে দ্রুত চিকিৎসায় বাঁচতে পারে দৃষ্টি

আপডেট সময় : ০১:৩৭:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
print news

গ্লুকোমা চোখের এমন একটি জটিল অবস্থা, যেখানে চোখের অভ্যন্তরীণ চাপ স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যায়। এই চাপের কারণে রেটিনাল নার্ভ বা অপটিক স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা শেষ পর্যন্ত স্থায়ী অন্ধত্বের দিকে নিয়ে যেতে পারে। গ্লুকোমা নিয়ে শিশুরা জন্মগতভাবেও আক্রান্ত হতে পারে।

শিশুর গ্লুকোমা শনাক্ত করার বেশ কিছু প্রাথমিক লক্ষণ রয়েছে। আক্রান্ত শিশুর চোখ স্বাভাবিকের চেয়ে বড় মনে হতে পারে, যা অনেকটা গরুর চোখের মতো ডাগর ও টানা দেখায়। চোখের মণি পুরো অংশ জুড়ে বিস্তৃত থাকতে পারে এবং কর্নিয়ার দিকে তাকালে চোখটি ভারী ও ভেজা ভেজা মনে হয়। এছাড়া শিশুর চোখ দিয়ে অনবরত পানি পড়া এবং আলোর প্রতি তীব্র সংবেদনশীলতা গ্লুকোমার অন্যতম বড় লক্ষণ। এমনকি নবজাতক শিশুও আলো সহ্য করতে পারে না এবং আলো দেখলেই অস্বস্তি প্রকাশ করে। সময়ের সঙ্গে সমস্যাটি বাড়তে থাকলে চোখের মণি ঘোলাটে হয়ে যায় এবং চোখ অস্বাভাবিক বড় হয়ে যেতে পারে।

শিশুদের ক্ষেত্রে গ্লুকোমা নির্ণয় ও চিকিৎসা বেশ চ্যালেঞ্জিং। অনেক অভিভাবক ঝামেলার ভয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন না হয়ে নিজেরাই বাজার থেকে ওষুধ কিনে প্রয়োগ করেন। বিশেষ করে স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধের অপব্যবহার শিশুদের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে; কারণ পাঁচ শতাংশ ক্ষেত্রে স্টেরয়েডের কারণে গ্লুকোমা হতে পারে। যখন শিশুটিকে শেষ পর্যায়ে ডাক্তারের কাছে আনা হয়, তখন তার দৃষ্টিশক্তি পুনরুদ্ধারের সুযোগ প্রায় থাকে না।

গ্লুকোমা শনাক্ত করার জন্য চক্ষু বিশেষজ্ঞরা ইন্ট্রাকুলার চাপ পরিমাপ, অপটিক নার্ভ ড্যামেজ পরীক্ষা, ডায়ালেট আই এক্সামিনেশন, ইমেজিং টেস্ট, ভিজ্যুয়াল ফিল্ড টেস্ট, কর্নিয়ার পুরুত্ব পরীক্ষা এবং ড্রেনেজ অ্যাঙ্গেল পরীক্ষা করে থাকেন।

চিকিৎসার ক্ষেত্রে দেরি করা উচিত নয়। লক্ষণ দেখা দেওয়া মাত্রই চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। গ্লুকোমার চিকিৎসায় ওষুধ প্রয়োগের পাশাপাশি লেজার থেরাপি, ফিল্টারিং সার্জারি, ড্রেনেজ টিউবস এবং মিনিমালি ইনভ্যাসিভ গ্লুকোমা সার্জারির মতো পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়। রোগীর শারীরিক অবস্থা ও পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে চিকিৎসক সঠিক পদ্ধতি নির্ধারণ করেন। প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা করালে গ্লুকোমা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব, তাই শিশুর চোখের যেকোনো অস্বাভাবিকতা অবহেলা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

তাই শিশুর চোখ স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বড় মনে হলেই শিশু চক্ষু গ্লুকোমা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।লেখক : চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ এবং অধ্যাপক; পরিচালক ও সিনিয়র কনসালট্যান্ট, বাংলাদেশ আই হসপিটাল, মালিবাগ, ঢাকাহটলাইন : ০৯৬১৩৯৬৬৯৬৬

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy