ঢাকা ১২:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেন বিএনপি নেতা সরোয়ার আলমগীর অসদাচরণ ও দীর্ঘ অনুপস্থিতি: চার পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করল সরকার মাশহাদে পৌঁছাল প্রয়াত আয়াতুল্লাহ খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যদের লাশ জাতীয় পরিবেশ পদক পেলেন ৩ ব্যক্তি ও ৩ প্রতিষ্ঠান ইসলামি শরিয়তে মৃতদেহ দাফনের সময়সীমা ও করণীয় হরমুজ প্রণালি ঘিরে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের প্রস্তুতি হোয়াইট হাউসের ঝিনাইদহে শিক্ষার্থীদের চুল কাটালেন স্কুল সভাপতি, অভিভাবকদের সঙ্গে হাতাহাতি জন্মদিনে ৩০০ ম্যানগ্রোভ গাছ লাগিয়ে ব্যতিক্রমী নজির গড়লেন চমক ফ্রান্সকে হারিয়ে প্রতিশোধ নিতে মরিয়া মরক্কো বরিশালে আসামির মৃত্যুর গুজবে থানায় হামলা, আহত ১২

দেশের পাঁচটি রাডারের চারটিই অচল, ব্যাহত আবহাওয়ার নির্ভুল পূর্বাভাস

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:১৪:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগাম সতর্কবার্তা পেতে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষসহ সাধারণ নাগরিকরা আবহাওয়া অধিদপ্তরের ওপর নির্ভরশীল। তবে বর্তমানে অধিদপ্তরের পাঁচটি ডপলার ওয়েদার রাডারের মধ্যে চারটিই অচল থাকায় নির্ভুল আবহাওয়ার পূর্বাভাস প্রদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। অধিদপ্তর এখন নিজস্ব রাডারের পরিবর্তে অন্যান্য সংস্থার তথ্যের ওপর নির্ভর করে দৈনন্দিন পূর্বাভাস তৈরি করছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের অধীনে ঢাকা, কক্সবাজার, খেপুপাড়া, রংপুর ও মৌলভীবাজারে পাঁচটি রাডার রয়েছে। এর মধ্যে কক্সবাজার, খেপুপাড়া ও মৌলভীবাজারের রাডারগুলো প্রযুক্তিগত ত্রুটি ও যন্ত্রাংশের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে অচল। রংপুরের রাডারটি ১৭ জুন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ হলেও বর্তমানে সচল হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, ঢাকার রাডারটি গত শনিবার রাত থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহজনিত কারণে অচল হয়ে পড়ে। আবহয়াবিদ তারিফুল কবির নওয়াজ জানান, রংপুরের রাডারটি অটোমেটিক ভোল্টেজ রেগুলেটরের ত্রুটির কারণে বন্ধ ছিল এবং জাপানি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞরা এটি মেরামতে সহায়তা করেছেন। তবে পুরোনো রাডারগুলোর স্পেয়ার পার্টস সংকট ও দক্ষ জনবলের অভাব পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন স্বীকার করেছেন যে, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়হীনতা ও চুক্তিগত জটিলতার কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সরকার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত ও বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হয়েছে। নতুন রাডার ক্রয় ও বিদ্যমানগুলো মেরামতের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বিশেষ তহবিল গঠনের কাজ চলছে, যার লক্ষ্য আগামী বছরের প্রথমার্ধের মধ্যে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাকে আধুনিক ও সচল করা। আবদুল মান্নান বলেন, ১৯৭০ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের পর থেকে বাংলাদেশ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, একটি ডপলার রাডার ৪০০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে বৃষ্টির তীব্রতা ও ঝড়ের গতিবিধি নির্ভুলভাবে শনাক্ত করতে পারে। রাডার অচল থাকায় উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের ল্যান্ডফলের ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টা আগে নির্ভুল তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। কানাডার ইউনিভার্সিটি অব সাসকাচুয়ানের গবেষক মুস্তফা কামাল পলাশ জানান, বর্তমানে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না। সিএপিএস-এর চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার আগের সরকারের আমলে রক্ষণাবেক্ষণে অবহেলা ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো. মমিনুল ইসলাম জানান, ঢাকার রাডার দ্রুত মেরামত করা হবে এবং অন্যগুলোর আপগ্রেডেশন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এদিকে, বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিমের তথ্য অনুযায়ী, ‘ধারা’ নামের একটি রেইন ব্যান্ড ৫ থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত দেশের ওপর সক্রিয় থাকবে, যার প্রভাবে ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ ড. মো. আবদুল মান্নান সতর্ক করেছেন যে, মৌলিক যন্ত্রপাতির অভাবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হতে পারে, তাই দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

নিউজটি শেয়ার করুন

দেশের পাঁচটি রাডারের চারটিই অচল, ব্যাহত আবহাওয়ার নির্ভুল পূর্বাভাস

আপডেট সময় : ০৯:১৪:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
print news

প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগাম সতর্কবার্তা পেতে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষসহ সাধারণ নাগরিকরা আবহাওয়া অধিদপ্তরের ওপর নির্ভরশীল। তবে বর্তমানে অধিদপ্তরের পাঁচটি ডপলার ওয়েদার রাডারের মধ্যে চারটিই অচল থাকায় নির্ভুল আবহাওয়ার পূর্বাভাস প্রদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। অধিদপ্তর এখন নিজস্ব রাডারের পরিবর্তে অন্যান্য সংস্থার তথ্যের ওপর নির্ভর করে দৈনন্দিন পূর্বাভাস তৈরি করছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের অধীনে ঢাকা, কক্সবাজার, খেপুপাড়া, রংপুর ও মৌলভীবাজারে পাঁচটি রাডার রয়েছে। এর মধ্যে কক্সবাজার, খেপুপাড়া ও মৌলভীবাজারের রাডারগুলো প্রযুক্তিগত ত্রুটি ও যন্ত্রাংশের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে অচল। রংপুরের রাডারটি ১৭ জুন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ হলেও বর্তমানে সচল হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, ঢাকার রাডারটি গত শনিবার রাত থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহজনিত কারণে অচল হয়ে পড়ে। আবহয়াবিদ তারিফুল কবির নওয়াজ জানান, রংপুরের রাডারটি অটোমেটিক ভোল্টেজ রেগুলেটরের ত্রুটির কারণে বন্ধ ছিল এবং জাপানি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞরা এটি মেরামতে সহায়তা করেছেন। তবে পুরোনো রাডারগুলোর স্পেয়ার পার্টস সংকট ও দক্ষ জনবলের অভাব পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন স্বীকার করেছেন যে, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়হীনতা ও চুক্তিগত জটিলতার কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সরকার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত ও বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হয়েছে। নতুন রাডার ক্রয় ও বিদ্যমানগুলো মেরামতের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বিশেষ তহবিল গঠনের কাজ চলছে, যার লক্ষ্য আগামী বছরের প্রথমার্ধের মধ্যে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাকে আধুনিক ও সচল করা। আবদুল মান্নান বলেন, ১৯৭০ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের পর থেকে বাংলাদেশ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, একটি ডপলার রাডার ৪০০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে বৃষ্টির তীব্রতা ও ঝড়ের গতিবিধি নির্ভুলভাবে শনাক্ত করতে পারে। রাডার অচল থাকায় উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের ল্যান্ডফলের ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টা আগে নির্ভুল তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। কানাডার ইউনিভার্সিটি অব সাসকাচুয়ানের গবেষক মুস্তফা কামাল পলাশ জানান, বর্তমানে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না। সিএপিএস-এর চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার আগের সরকারের আমলে রক্ষণাবেক্ষণে অবহেলা ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো. মমিনুল ইসলাম জানান, ঢাকার রাডার দ্রুত মেরামত করা হবে এবং অন্যগুলোর আপগ্রেডেশন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এদিকে, বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিমের তথ্য অনুযায়ী, ‘ধারা’ নামের একটি রেইন ব্যান্ড ৫ থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত দেশের ওপর সক্রিয় থাকবে, যার প্রভাবে ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ ড. মো. আবদুল মান্নান সতর্ক করেছেন যে, মৌলিক যন্ত্রপাতির অভাবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হতে পারে, তাই দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।