সিলেটের ৬ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, বন্যা পরিস্থিতির অবনতি
- আপডেট সময় : ০৬:৪৪:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

টানা বৃষ্টিপাত এবং ভারতের মেঘালয়, আসাম ও ত্রিপুরা থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেট বিভাগের নদ-নদীগুলোর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল থেকে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার ছয়টি নদীর অন্তত নয়টি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, সিলেট বিভাগের প্রধান নদীগুলোর পানি দ্রুত বাড়ায় সীমান্ত এলাকায় স্বল্পমেয়াদি আকস্মিক বন্যার (ফ্ল্যাশ ফ্লাড) ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। আবহাওয়া পূর্বাভাস বলছে, আগামী ৭২ ঘণ্টা সিলেট বিভাগে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে, যা পাহাড় ও টিলা ধসের ঝুঁকিও বাড়িয়ে দিয়েছে।
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের তিনটি স্থান ভেঙে যাওয়ায় পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এতে উপজেলার সীমান্তবর্তী ইসলামপুর ইউনিয়নসহ অন্তত ২৫টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। ইসলামপুর ইউনিয়নের ভান্ডারিগাঁও, গঙ্গানগর, শ্রীপুর, মোকাবিল, কোণাগাঁও ও বেড়িগাঁওসহ ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া আদমপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ঘোড়ামারা, বন্দেরগাঁও, ভানুবিল, উত্তরভাগ ও জালালপুরসহ ১০টি গ্রাম তলিয়ে গেছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবদাল হোসেন জানান, ফসলি জমি ৩-৪ ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে এবং পুকুর ও ফিশারির মাছ ভেসে গেছে। পানিবন্দি মানুষ গবাদিপশুসহ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। একটি মাধ্যমিক ও তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি ওঠায় সেগুলোতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পাউবোর তথ্যমতে, মনু নদীর পানি বিপৎসীমার ৫৫ সেন্টিমিটার এবং ধলাই নদীর পানি ৩৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে।
হবিগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় ৬১.৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। খোয়াই নদীর পানি বিপজ্জনকভাবে বাড়ায় শহর রক্ষা বাঁধ সংলগ্ন বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। হবিগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইদুর রহমান জানান, হাওরগুলো প্রায় পূর্ণ থাকায় পানি ধীরগতিতে নিষ্কাশিত হচ্ছে, যা খোয়াই নদীর ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। এদিকে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, টানা বৃষ্টিতে জেলার নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, যা জনজীবনে ভোগান্তি বাড়াচ্ছে।
সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় বৃহস্পতিবার ভোরে টিলা ধসের ঘটনা ঘটেছে। লক্ষ্মণাবন্দ ইউনিয়নের পূর্বভাগ গ্রামে ময়না মিয়ার বসতঘরের একাংশ ভেঙে যায়। পরিবারের সদস্যরা সময়মতো সরে যাওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছেন। সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ জানিয়েছেন, উজানের পানি দ্রুত নেমে যাওয়ার সুযোগ থাকায় বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে সুরমা ও কুশিয়ারাসহ অন্যান্য নদীর পানি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় চার জেলায় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সিলেট জেলা প্রশাসন ৫৩৭টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে এবং ১৬০টি ঝুঁকিপূর্ণ টিলার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে। সিলেটের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক পিংকি সাহা জানান, সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে এবং পর্যাপ্ত শুকনো খাবার মজুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজন হলে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হবে।


























