ঢাকা ১০:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
লালমনিরহাট কারাগারে ধারণক্ষমতার তিন গুণ বন্দি, তীব্র স্বাস্থ্যঝুঁকি ইরানের বিমান চলাচলের ওপর সর্বাত্মক মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের সংশোধনী ও হিন্দু পরিবারের মেয়েদের অধিকার জাতিসংঘে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের ৩ ঘণ্টার বৈঠক, নতুন আলোচনার ইঙ্গিত ট্রাম্পের ডিএসইর ১ কোটি ৪০ লাখ টাকার জরিমানা মওকুফ চায় প্রাইম ফাইন্যান্স সচিবদের চেয়ে কম বেতন পাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী, সম্মানি বাড়ানোর উদ্যোগ টাঙ্গাইলে ভবঘুরে নারীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেপ্তার অবসরের ইঙ্গিত দিলেন মেসির দীর্ঘদিনের সতীর্থ নিকোলাস তালিয়াফিকো নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের কাছে সন্দেহজনক স্যুটকেস ঘিরে বোম আতঙ্ক পথঘাট পরিচ্ছন্ন রাখা ঈমানের দাবি ও সদকার সওয়াব

শৈশব ছিল আমার কাছে জাদুর মতো: খাতিয়া বুনিয়াতিশভিলি

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৪:২৯:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



জর্জিয়ার পিয়ানোবাদক খাতিয়া বুনিয়াতিশভিলির সংগীতপ্রতিভা তার মা খুব ছোটবেলাতেই বুঝতে পেরেছিলেন। সংগীতের প্রতি মায়ের ছিল গভীর অনুরাগ। মাত্র ছয় বছর বয়সেই অর্কেস্ট্রার সঙ্গে একক শিল্পী হিসেবে মঞ্চে অভিষেক হয় খাতিয়ার। এর চার বছর পর অর্থাৎ দশ বছর বয়সেই তিনি সুইজারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, ফ্রান্স, জার্মানি, বেলজিয়াম, ইতালি, অস্ট্রিয়া, রাশিয়া, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রে বাজানোর আমন্ত্রণ পান। তার বাজনায় প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি আবেগের গভীরতা ও এক ধরনের নাটকীয়তা বিদ্যমান। মঞ্চে তার উপস্থিতি এমন, যেন শরীরের ভেতর থেকেই সংগীতকে তিনি বাইরে নিয়ে আসছেন।

সংগীত ও আর্ট বিষয়ক পোর্টাল ক্লাসিকপয়েন্ট-এর জন্য ফ্লরিনা সার্চারের সঙ্গে আলাপচারিতায় খাতিয়া নিজের শৈশবকে জাদুময় হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি জানান, সেই সময়ে প্রচুর অনুশীলন ও পড়াশোনার মাঝে তিনি বাইরের পৃথিবী থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন ছিলেন। এটি তার কাছে কঠিন মনে হয়নি, বরং মনে হতো তিনি কোনো বিশেষ জাদুময় জগতের বাসিন্দা। এখনো তার সেই সময়ের বই ও শিট মিউজিকের পাতার গন্ধ মনে পড়ে। পরবর্তী সময়ে ভিয়েনায় ওলেগ মাইসেনবার্গের কাছে প্রশিক্ষণের সুযোগ তার শিল্পীজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনে নতুন মোড় এনে দেয়। এই পরিবর্তনকে তিনি একজন মানুষ ও শিল্পী হিসেবে স্বাধীন জীবনের শুরু বলে মনে করেন।

মঞ্চে নিজের শারীরিক উপস্থিতির তীব্রতা নিয়ে খাতিয়া জানান, পিয়ানোর সঙ্গে শরীরের সরাসরি যোগাযোগ সীমিত হলেও আঙুলের ডগার মাধ্যমে তিনি সমস্ত শক্তি শব্দে রূপান্তর করেন। যন্ত্রের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে তিনি প্রতিটি পিয়ানোর নিজস্ব সত্তাকে সম্মান জানান। তিনি বলেন, আমি বরং নতুন যন্ত্রের সঙ্গে পরিচিত হতে ভালোবাসি। প্রতিটি পিয়ানোরই আমার কাছে আলাদা একটি আত্মা আছে। প্রথম দেখাতেই তাকে বিচার না করে তিনি নিজেকে খোলা রাখেন এবং যন্ত্রটি তাকে কী বলতে চায় তা শোনার চেষ্টা করেন।

সংগীত ও সাহিত্যের প্রতি তার গভীর অনুরাগ শৈশব থেকেই। মাত্র আট বছর বয়সে তিনি চেখভের সব গল্প এবং দশ বছর বয়সে দস্তয়েভস্কির 'দ্য গ্যাম্বলার' ও 'দ্য ইডিয়ট' পড়েছিলেন। তিনি সংগীত এবং সাহিত্যকে আলাদা করে দেখতে নারাজ। তার 'মাদারল্যান্ড' সিডিটি তিনি মাকে উৎসর্গ করেছেন, যিনি তার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। একাকিত্ব প্রসঙ্গে তার অভিমত, একাকিত্বের মধ্যেও স্বাধীনতা খুঁজে পাওয়া সম্ভব এবং পিয়ানো তার কাছে সেই একাকিত্বেরই প্রতীক।

নিজের জর্জিয়ান পরিচয়কে তিনি তার স্বভাব, আবেগ ও স্বপ্নের একটি বড় অংশ বলে মনে করেন। তিনি কেবল কনসার্ট হল নয়, প্রকৃতির মাঝেও সংগীত চর্চা করেছেন। বনের মধ্যে গ্র্যান্ড পিয়ানো বসিয়ে কনসার্ট করার অভিজ্ঞতাকে তিনি অবিশ্বাস্য বলে উল্লেখ করেন। তিনি দেখতে চেয়েছিলেন, কৃত্রিম নিয়ন্ত্রণ ছাড়া প্রকৃতির মাঝে শব্দ কেমন হয়। বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম উজ্জ্বল এই শিল্পী কনসার্টের পাশাপাশি পাহাড়ের নীরবতা ও প্রকৃতির সান্নিধ্য উপভোগ করতে ভালোবাসেন। ভেরবিয়ে ফেস্টিভ্যালে ছয় দিনে তিনটি কনসার্ট থাকলেও তিনি পাহাড়ের নীরবতায় সময় কাটানোর পরিকল্পনা করেন।

জর্জিয়ান-ফরাসি পিয়ানোবাদক খাতিয়া বুনিয়াতিশভিলি ১৯৮৭ সালের ২১ জুন জর্জিয়ার বাতুমিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিন বছর বয়সে পিয়ানো শেখা শুরু করা খাতিয়া ২০০৮ সালে তেল আবিবে অনুষ্ঠিত আর্থার রুবিনস্টাইন আন্তর্জাতিক পিয়ানো মাস্টার্স প্রতিযোগিতায় তৃতীয় পুরস্কার অর্জনের পর আন্তর্জাতিক পরিচিতি পান। একই বছর নিউইয়র্কের কার্নেগি হলে তার অভিষেক ঘটে। লিস্‌ট, শোপাঁ, মাদারল্যান্ড এবং ক্যালাইডোস্কোপ তার উল্লেখযোগ্য অ্যালবাম।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

শৈশব ছিল আমার কাছে জাদুর মতো: খাতিয়া বুনিয়াতিশভিলি

আপডেট সময় : ০৪:২৯:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জর্জিয়ার পিয়ানোবাদক খাতিয়া বুনিয়াতিশভিলির সংগীতপ্রতিভা তার মা খুব ছোটবেলাতেই বুঝতে পেরেছিলেন। সংগীতের প্রতি মায়ের ছিল গভীর অনুরাগ। মাত্র ছয় বছর বয়সেই অর্কেস্ট্রার সঙ্গে একক শিল্পী হিসেবে মঞ্চে অভিষেক হয় খাতিয়ার। এর চার বছর পর অর্থাৎ দশ বছর বয়সেই তিনি সুইজারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, ফ্রান্স, জার্মানি, বেলজিয়াম, ইতালি, অস্ট্রিয়া, রাশিয়া, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রে বাজানোর আমন্ত্রণ পান। তার বাজনায় প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি আবেগের গভীরতা ও এক ধরনের নাটকীয়তা বিদ্যমান। মঞ্চে তার উপস্থিতি এমন, যেন শরীরের ভেতর থেকেই সংগীতকে তিনি বাইরে নিয়ে আসছেন।

সংগীত ও আর্ট বিষয়ক পোর্টাল ক্লাসিকপয়েন্ট-এর জন্য ফ্লরিনা সার্চারের সঙ্গে আলাপচারিতায় খাতিয়া নিজের শৈশবকে জাদুময় হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি জানান, সেই সময়ে প্রচুর অনুশীলন ও পড়াশোনার মাঝে তিনি বাইরের পৃথিবী থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন ছিলেন। এটি তার কাছে কঠিন মনে হয়নি, বরং মনে হতো তিনি কোনো বিশেষ জাদুময় জগতের বাসিন্দা। এখনো তার সেই সময়ের বই ও শিট মিউজিকের পাতার গন্ধ মনে পড়ে। পরবর্তী সময়ে ভিয়েনায় ওলেগ মাইসেনবার্গের কাছে প্রশিক্ষণের সুযোগ তার শিল্পীজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনে নতুন মোড় এনে দেয়। এই পরিবর্তনকে তিনি একজন মানুষ ও শিল্পী হিসেবে স্বাধীন জীবনের শুরু বলে মনে করেন।

মঞ্চে নিজের শারীরিক উপস্থিতির তীব্রতা নিয়ে খাতিয়া জানান, পিয়ানোর সঙ্গে শরীরের সরাসরি যোগাযোগ সীমিত হলেও আঙুলের ডগার মাধ্যমে তিনি সমস্ত শক্তি শব্দে রূপান্তর করেন। যন্ত্রের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে তিনি প্রতিটি পিয়ানোর নিজস্ব সত্তাকে সম্মান জানান। তিনি বলেন, আমি বরং নতুন যন্ত্রের সঙ্গে পরিচিত হতে ভালোবাসি। প্রতিটি পিয়ানোরই আমার কাছে আলাদা একটি আত্মা আছে। প্রথম দেখাতেই তাকে বিচার না করে তিনি নিজেকে খোলা রাখেন এবং যন্ত্রটি তাকে কী বলতে চায় তা শোনার চেষ্টা করেন।

সংগীত ও সাহিত্যের প্রতি তার গভীর অনুরাগ শৈশব থেকেই। মাত্র আট বছর বয়সে তিনি চেখভের সব গল্প এবং দশ বছর বয়সে দস্তয়েভস্কির 'দ্য গ্যাম্বলার' ও 'দ্য ইডিয়ট' পড়েছিলেন। তিনি সংগীত এবং সাহিত্যকে আলাদা করে দেখতে নারাজ। তার 'মাদারল্যান্ড' সিডিটি তিনি মাকে উৎসর্গ করেছেন, যিনি তার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। একাকিত্ব প্রসঙ্গে তার অভিমত, একাকিত্বের মধ্যেও স্বাধীনতা খুঁজে পাওয়া সম্ভব এবং পিয়ানো তার কাছে সেই একাকিত্বেরই প্রতীক।

নিজের জর্জিয়ান পরিচয়কে তিনি তার স্বভাব, আবেগ ও স্বপ্নের একটি বড় অংশ বলে মনে করেন। তিনি কেবল কনসার্ট হল নয়, প্রকৃতির মাঝেও সংগীত চর্চা করেছেন। বনের মধ্যে গ্র্যান্ড পিয়ানো বসিয়ে কনসার্ট করার অভিজ্ঞতাকে তিনি অবিশ্বাস্য বলে উল্লেখ করেন। তিনি দেখতে চেয়েছিলেন, কৃত্রিম নিয়ন্ত্রণ ছাড়া প্রকৃতির মাঝে শব্দ কেমন হয়। বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম উজ্জ্বল এই শিল্পী কনসার্টের পাশাপাশি পাহাড়ের নীরবতা ও প্রকৃতির সান্নিধ্য উপভোগ করতে ভালোবাসেন। ভেরবিয়ে ফেস্টিভ্যালে ছয় দিনে তিনটি কনসার্ট থাকলেও তিনি পাহাড়ের নীরবতায় সময় কাটানোর পরিকল্পনা করেন।

জর্জিয়ান-ফরাসি পিয়ানোবাদক খাতিয়া বুনিয়াতিশভিলি ১৯৮৭ সালের ২১ জুন জর্জিয়ার বাতুমিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিন বছর বয়সে পিয়ানো শেখা শুরু করা খাতিয়া ২০০৮ সালে তেল আবিবে অনুষ্ঠিত আর্থার রুবিনস্টাইন আন্তর্জাতিক পিয়ানো মাস্টার্স প্রতিযোগিতায় তৃতীয় পুরস্কার অর্জনের পর আন্তর্জাতিক পরিচিতি পান। একই বছর নিউইয়র্কের কার্নেগি হলে তার অভিষেক ঘটে। লিস্‌ট, শোপাঁ, মাদারল্যান্ড এবং ক্যালাইডোস্কোপ তার উল্লেখযোগ্য অ্যালবাম।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin