
জর্জিয়ার পিয়ানোবাদক খাতিয়া বুনিয়াতিশভিলির সংগীতপ্রতিভা তার মা খুব ছোটবেলাতেই বুঝতে পেরেছিলেন। সংগীতের প্রতি মায়ের ছিল গভীর অনুরাগ। মাত্র ছয় বছর বয়সেই অর্কেস্ট্রার সঙ্গে একক শিল্পী হিসেবে মঞ্চে অভিষেক হয় খাতিয়ার। এর চার বছর পর অর্থাৎ দশ বছর বয়সেই তিনি সুইজারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, ফ্রান্স, জার্মানি, বেলজিয়াম, ইতালি, অস্ট্রিয়া, রাশিয়া, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রে বাজানোর আমন্ত্রণ পান। তার বাজনায় প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি আবেগের গভীরতা ও এক ধরনের নাটকীয়তা বিদ্যমান। মঞ্চে তার উপস্থিতি এমন, যেন শরীরের ভেতর থেকেই সংগীতকে তিনি বাইরে নিয়ে আসছেন।
সংগীত ও আর্ট বিষয়ক পোর্টাল ক্লাসিকপয়েন্ট-এর জন্য ফ্লরিনা সার্চারের সঙ্গে আলাপচারিতায় খাতিয়া নিজের শৈশবকে জাদুময় হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি জানান, সেই সময়ে প্রচুর অনুশীলন ও পড়াশোনার মাঝে তিনি বাইরের পৃথিবী থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন ছিলেন। এটি তার কাছে কঠিন মনে হয়নি, বরং মনে হতো তিনি কোনো বিশেষ জাদুময় জগতের বাসিন্দা। এখনো তার সেই সময়ের বই ও শিট মিউজিকের পাতার গন্ধ মনে পড়ে। পরবর্তী সময়ে ভিয়েনায় ওলেগ মাইসেনবার্গের কাছে প্রশিক্ষণের সুযোগ তার শিল্পীজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনে নতুন মোড় এনে দেয়। এই পরিবর্তনকে তিনি একজন মানুষ ও শিল্পী হিসেবে স্বাধীন জীবনের শুরু বলে মনে করেন।
মঞ্চে নিজের শারীরিক উপস্থিতির তীব্রতা নিয়ে খাতিয়া জানান, পিয়ানোর সঙ্গে শরীরের সরাসরি যোগাযোগ সীমিত হলেও আঙুলের ডগার মাধ্যমে তিনি সমস্ত শক্তি শব্দে রূপান্তর করেন। যন্ত্রের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে তিনি প্রতিটি পিয়ানোর নিজস্ব সত্তাকে সম্মান জানান। তিনি বলেন, আমি বরং নতুন যন্ত্রের সঙ্গে পরিচিত হতে ভালোবাসি। প্রতিটি পিয়ানোরই আমার কাছে আলাদা একটি আত্মা আছে। প্রথম দেখাতেই তাকে বিচার না করে তিনি নিজেকে খোলা রাখেন এবং যন্ত্রটি তাকে কী বলতে চায় তা শোনার চেষ্টা করেন।
সংগীত ও সাহিত্যের প্রতি তার গভীর অনুরাগ শৈশব থেকেই। মাত্র আট বছর বয়সে তিনি চেখভের সব গল্প এবং দশ বছর বয়সে দস্তয়েভস্কির 'দ্য গ্যাম্বলার' ও 'দ্য ইডিয়ট' পড়েছিলেন। তিনি সংগীত এবং সাহিত্যকে আলাদা করে দেখতে নারাজ। তার 'মাদারল্যান্ড' সিডিটি তিনি মাকে উৎসর্গ করেছেন, যিনি তার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। একাকিত্ব প্রসঙ্গে তার অভিমত, একাকিত্বের মধ্যেও স্বাধীনতা খুঁজে পাওয়া সম্ভব এবং পিয়ানো তার কাছে সেই একাকিত্বেরই প্রতীক।
নিজের জর্জিয়ান পরিচয়কে তিনি তার স্বভাব, আবেগ ও স্বপ্নের একটি বড় অংশ বলে মনে করেন। তিনি কেবল কনসার্ট হল নয়, প্রকৃতির মাঝেও সংগীত চর্চা করেছেন। বনের মধ্যে গ্র্যান্ড পিয়ানো বসিয়ে কনসার্ট করার অভিজ্ঞতাকে তিনি অবিশ্বাস্য বলে উল্লেখ করেন। তিনি দেখতে চেয়েছিলেন, কৃত্রিম নিয়ন্ত্রণ ছাড়া প্রকৃতির মাঝে শব্দ কেমন হয়। বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম উজ্জ্বল এই শিল্পী কনসার্টের পাশাপাশি পাহাড়ের নীরবতা ও প্রকৃতির সান্নিধ্য উপভোগ করতে ভালোবাসেন। ভেরবিয়ে ফেস্টিভ্যালে ছয় দিনে তিনটি কনসার্ট থাকলেও তিনি পাহাড়ের নীরবতায় সময় কাটানোর পরিকল্পনা করেন।
জর্জিয়ান-ফরাসি পিয়ানোবাদক খাতিয়া বুনিয়াতিশভিলি ১৯৮৭ সালের ২১ জুন জর্জিয়ার বাতুমিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিন বছর বয়সে পিয়ানো শেখা শুরু করা খাতিয়া ২০০৮ সালে তেল আবিবে অনুষ্ঠিত আর্থার রুবিনস্টাইন আন্তর্জাতিক পিয়ানো মাস্টার্স প্রতিযোগিতায় তৃতীয় পুরস্কার অর্জনের পর আন্তর্জাতিক পরিচিতি পান। একই বছর নিউইয়র্কের কার্নেগি হলে তার অভিষেক ঘটে। লিস্ট, শোপাঁ, মাদারল্যান্ড এবং ক্যালাইডোস্কোপ তার উল্লেখযোগ্য অ্যালবাম।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২