সালমান শাহর মৃত্যুর খবর পেয়ে যেভাবে ভেঙে পড়েছিলেন মৌসুমী
- আপডেট সময় : ০২:৪৮:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের নিজ বাসায় মারা যান নব্বই দশকের তুমুল জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ। আজ তাঁর মৃত্যুর ৩০ বছর পূর্ণ হলো। দীর্ঘ সময় পার হলেও তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি এখনো আদালতে বিচারাধীন। এই বিশেষ দিনে তিন দশক আগের সেই মর্মান্তিক দিনটির স্মৃতিচারণ করেছেন পরিচালক মুশফিকুর রহমান গুলজার। সেদিন এফডিসিতে ‘সুখের ঘরে দুখের আগুন’ সিনেমার শুটিং করছিলেন চিত্রনায়িকা মৌসুমী, আর তখনই হঠাৎ আসে সালমান শাহর মৃত্যুর খবর।
পরিচালক ও প্রযোজক মুশফিকুর রহমান গুলজার তাঁর ফেসবুক পোস্টে জানান, সেদিন এফডিসির কড়ইতলায় একটি বস্তির সেট তৈরি করে শুটিংয়ের কাজ চলছিল। ছবির নায়িকা মৌসুমী ৩ নম্বর ফ্লোরের মেকআপ রুমে অপেক্ষা করছিলেন। এমন সময় একজন প্রোডাকশন বয় এসে খবর দেন, সালমান শাহ আর নেই। খবরটি শুনে মৌসুমী ও গুলজার কেউই প্রথমে বিশ্বাস করতে পারেননি। সত্যতা যাচাই করতে নিজের গাড়ি দিয়ে গুলজারকে সালমানের ইস্কাটনের বাসায় পাঠান মৌসুমী।
মৌসুমীর গাড়ি নিয়ে গুলজার দ্রুত ছুটে যান ইস্কাটনে। সেখানে গিয়ে দারোয়ানদের কাছ থেকে জানতে পারেন, সালমান শাহকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এরপর হাসপাতালে গিয়ে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হন গুলজার। এফডিসিতে ফিরে মৌসুমীকে এই দুঃসংবাদ দেওয়ার পর তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। সে সময় মৌসুমী পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন, তাঁর গর্ভে ছিল সন্তান ফারদিন। ফলে তাঁর জন্য পরিস্থিতি সামাল দেওয়া ছিল অত্যন্ত কঠিন।
খবর পেয়ে দ্রুত এফডিসিতে ছুটে আসেন মৌসুমীর স্বামী চিত্রনায়ক ওমর সানী। বিকেলের দিকে যখন সালমান শাহর মরদেহ এফডিসিতে আনা হয়, তখন গুলজার ও ওমর সানী মিলে কান্নায় ভেঙে পড়া মৌসুমীকে শেষবারের মতো দেখার জন্য মরদেহের কাছে নিয়ে যান।
সালমান শাহ ও মৌসুমীর ক্যারিয়ারের শুরুটা হয়েছিল একসঙ্গে। ১৯৯৩ সালের ২৫ মার্চ মুক্তিপ্রাপ্ত সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে এই জুটির। প্রথম ছবিতেই তাঁরা ব্যাপক সাড়া ফেলেন এবং রাতারাতি তারকাখ্যাতি পান। এরপর তাঁরা একসঙ্গে ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘স্নেহ’ ও ‘দেনমোহর’ সিনেমায় অভিনয় করেন। পরবর্তীতে শাবনূরের সঙ্গে সালমানের জুটি গড়ে উঠলে মৌসুমীর সঙ্গে আর নতুন কোনো সিনেমায় তাঁকে দেখা যায়নি। তবে তাঁদের মধ্যকার গভীর সম্পর্ক ও সেই দিনের স্মৃতি আজও অমলিন।





























