জাল সনদ ও অনিয়মের অভিযোগে ৯ মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মকর্তাকে শোকজ
- আপডেট সময় : ০২:৪৫:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

জাল শিক্ষক নিবন্ধন সনদ ব্যবহার, সরকারি নথি জালিয়াতি, সহকর্মীকে মারধর এবং বিধিবহির্ভূত নিয়োগের অভিযোগে দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসার ৯ জন শিক্ষক ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। গত ৩০ সেপ্টেম্বর পৃথক প্রজ্ঞাপন ও কারণ দর্শানোর নোটিশের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে এমপিও স্থগিত ও ইনডেক্স কর্তনসহ প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা কেন নেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের তিন কার্যদিবসের মধ্যে নোটিশের জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের গোপালনগর মহিলা আলিম মাদ্রাসার ইবতেদায়ী শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্ধে সহকর্মী খাইরুল ইসলামকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধরের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। এই ঘটনায় ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৬’-এর ১৮.২ (ক) ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একই ঘটনায় মাদ্রাসাটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. শাহ আলমকেও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে, যেখানে তার বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অদক্ষতা ও জালিয়াতির যোগসাজশের অভিযোগ আনা হয়েছে। এদিকে, কুমিল্লার দাউদকান্দির মদিনাতুল উলুম ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. রুহুল আমীনকে হাইকোর্টের নির্দেশনা ও সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ব্যর্থতার অভিযোগে শোকজ করা হয়েছে।
ভোলার চরফ্যাশনের দক্ষিণ চরআইচা রাব্বানিয়া আলিম মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মো. জাকির হোসেনের নিয়োগের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তার নিয়োগে বিধিলঙ্ঘন হয়েছে কি না তা যাচাই করা হচ্ছে এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার এমপিও স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, নীলফামারীর জলঢাকার গোলনা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক মাহবুবুর রহমানের নিয়োগে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় ১৯৯০ সাল থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত নেওয়া সকল বেতন-ভাতা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি তার এমপিও বাতিলের প্রক্রিয়া চলছে। একই মাদ্রাসার প্রভাষক হোসাইন আহমেদের বিরুদ্ধে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহণ ও সরকারি কাগজপত্র জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তার এমপিও স্থগিত ও ফৌজদারি মামলা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, গাজীপুর ও ময়মনসিংহের আরও তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে জাল নিবন্ধন সনদ ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) প্রতিবেদনে তাদের সনদ ভুয়া প্রমাণিত হওয়ায় ইনডেক্স কর্তনের বিষয়ে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে গাজীপুরের কাপাসিয়ার বিবাদীয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার ইবতেদায়ী শিক্ষক মো. আফজাল হোসেনের (১৬তম নিবন্ধন) ও সহকারী শিক্ষক লুৎফুন নাহারের (১৩তম নিবন্ধন) সনদ এবং ময়মনসিংহের ত্রিশালের বীররামপুর জান্নাতুল উলুম আলিম মাদ্রাসার ইবতেদায়ী প্রধান শামিমা নাছরিনের (ষষ্ঠ নিবন্ধন) সনদ ভুয়া হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। নোটিশের জবাব পাওয়ার পর তদন্ত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা করে অধিদপ্তর পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।



























