সৌদির হয়ে হুথিদের বিরুদ্ধে হামলা চালাবে না তুরস্ক
- আপডেট সময় : ১০:০৭:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান স্পষ্ট করেছেন যে, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে অংশ নিতে সৌদি আরবে কোনো সেনা পাঠাবে না আঙ্কারা। বৃহস্পতিবার আঙ্কারায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, এই চুক্তিটি কোনোভাবেই আক্রমণাত্মক নয় এবং অন্য কোনো দেশের ভূখণ্ডে হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে তুরস্ক সেখানে সেনা মোতায়েন করবে না।
ফিদান আরও বলেন, সৌদি আরবে তুরস্কের সম্ভাব্য সেনা মোতায়েনের বিষয়টি কেবল দেশটির প্রতিরক্ষামূলক কার্যক্রমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। চলতি সপ্তাহে তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তান যৌথভাবে সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েনের বিষয়ে যে সমঝোতায় পৌঁছেছে, তার মূল উদ্দেশ্য হলো সৌদি আরবের প্রতি সংহতি প্রকাশ এবং দেশটির নিরাপত্তা জোরদার করা।
তুরস্কের এই মন্ত্রী জানান, সৌদি আরবের প্রতিরক্ষার জন্য ঠিক কী ধরনের সামরিক সহায়তা প্রয়োজন, তা নির্ধারণে তিন দেশের সামরিক প্রতিনিধিরা কাজ করছেন। এই মূল্যায়নের ভিত্তিতেই আঙ্কারা ও ইসলামাবাদ পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে। এ বিষয়ে তুরস্কের পার্লামেন্টে প্রস্তাব উপস্থাপনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে এবং যত দ্রুত সম্ভব তা পার্লামেন্টে পাঠানো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষায় অতিরিক্ত জনবল, পাইলট ও উড়োজাহাজ পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে তুরস্কের। গত বছর থেকেই দেশটিতে তুর্কি কারিগরি দল, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম মোতায়েন রয়েছে। এছাড়া ২০১০ সালের সামরিক প্রশিক্ষণ চুক্তির আওতায় সীমিত পরিসরে সেনা পাঠানোর সুযোগ থাকলেও, অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের জন্য তুরস্কের সংবিধান অনুযায়ী পার্লামেন্টের অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
তুরস্কের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পার্লামেন্টের অনুমোদন সাপেক্ষে সৌদি আরবের এক বা একাধিক সামরিক ঘাঁটিতে তুর্কি সেনা মোতায়েন করা হতে পারে। তবে এই সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম ইয়েমেনের হুথিদের ছোড়া ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় এবং জ্বালানি স্থাপনাসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষায় ব্যবহৃত হবে। তুরস্কের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিপুলসংখ্যক সেনা পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই এবং আঙ্কারা এখনো কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে সংকট সমাধানের আশা করছে।


























