সংস্কারের অভাবে মরণফাঁদ খাগড়াছড়ির স্বর্গের সিঁড়ি
- আপডেট সময় : ০৯:৪৯:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা সহজ করতে এবং পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ২০১৫ সালে খাগড়াছড়িতে নির্মিত হয়েছিল ‘স্বর্গের সিঁড়ি’। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১ হাজার ২০৮ ফুট উচ্চতার ‘মায়ুং কপাল’ বা হাতিমাথা পাহাড়ে যাতায়াতের সুবিধার্থে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ৩০০ ধাপের এই লোহার সিঁড়িটি তৈরি করে। নির্মাণের পর থেকে এটি ১৫টি ত্রিপুরা পাড়ার মানুষের যাতায়াতের প্রধান পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল এবং স্থানীয় কৃষিপণ্য বাজারে আনা সহজ করে তুলেছিল। এছাড়া পর্যটকদের কাছেও এটি জেলার অন্যতম আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত হয়েছিল।
তবে পরিতাপের বিষয় হলো, গত এক দশকে কোনো ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার না করায় স্থানীয়দের আশার প্রতীক এই সিঁড়িটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। ৩০৮ ফুট দীর্ঘ এই লোহার কাঠামোতে বর্তমানে ব্যাপক মরিচা ধরেছে, অনেক ধাপ ভেঙে গেছে এবং দুই পাশের রেলিং নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। সিঁড়ির অবস্থা এতটাই ভয়াবহ যে, কোথাও কোথাও লোহার ধাপ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এর ফলে পাড়াবাসীরা নিজেদের উদ্যোগে কাঠ বেঁধে বিপজ্জনকভাবে চলাচলের ব্যবস্থা করেছেন। বর্তমানে বর্ষা মৌসুমে এই পিচ্ছিল ও ভাঙা সিঁড়ি ব্যবহার করে শিক্ষার্থী, নারী ও বয়োবৃদ্ধদের প্রতিদিন চরম জীবনঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। বিকল্প কোনো পথ না থাকায় তাঁরা একবুক আতঙ্ক নিয়ে এই সিঁড়ি পার হতে বাধ্য হচ্ছেন।
এই যাতায়াত দুর্ভোগ স্থানীয় পাহাড়ি অর্থনীতির ওপরও বড় ধরনের আঘাত হেনেছে। সিঁড়িটি জরাজীর্ণ হওয়ায় পাইকারি ব্যবসায়ীরা এখন আর পাহাড়ে গিয়ে কৃষিপণ্য কিনছেন না এবং পর্যটকদের আগমনও উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। ফলে স্থানীয় জুমচাষি ও বাগানমালিকেরা অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে জরুরি তৎপরতার প্রয়োজন থাকলেও তা আমলাতান্ত্রিক ধীরগতির বৃত্তে আটকে আছে। জেলা প্রশাসক বিষয়টি পরিদর্শনের পর উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করলেও, উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর পক্ষ থেকে কেবল আগামী শুষ্ক মৌসুমে সংস্কারের পরিকল্পনার কথা শোনা গেছে।
বর্ষার ভরা মৌসুমে যখন প্রতিদিন বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে, তখন শীতকাল পর্যন্ত এই জনগুরুত্বপূর্ণ কাঠামোটিকে ফেলে রাখা চরম দায়িত্বহীনতার শামিল। কোনো বড় প্রাণহানি বা দুর্ঘটনার পর প্রশাসনের ঘুম ভাঙবে—এমনটা কখনোই কাম্য নয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের উচিত আর কালক্ষেপণ না করে অনতিবিলম্বে এই সিঁড়ি সংস্কারের কাজ শুরু করা।





























