ঢাকা ১২:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দালাল ও টেস্ট বাণিজ্য বন্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সিলেটে এনসিপির পদযাত্রা ঘিরে ৫ উপজেলায় বিজিবি মোতায়েনের আবেদন ঢাকা সফরে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত সার্জিও গোর বীর মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক কিসমত খন্দকার আর নেই বিদেশের মাটিতে টেস্টে টানা অষ্টম হারের লজ্জায় পাকিস্তান একীভূত ৫ ব্যাংকের গ্রাহকদের টাকা তোলার নিয়ম আরও সহজ খিলগাঁও ও মুগদা থানার দুই হত্যাচেষ্টা মামলায় ব্যারিস্টার সুমনের জামিন এনসিপি নেতাদের ওপর হামলা ও পুলিশি বাধার নিন্দা ১১ দলীয় ঐক্যের কুষ্টিয়ায় পুনর্বাসন ছাড়া রেলওয়ের উচ্ছেদ অভিযানে বিএনপির বিক্ষোভ রাবিতে শিক্ষার্থী নির্যাতনের ঘটনায় শাস্তির দাবিতে শিক্ষকদের স্মারকলিপি

২য় পর্ব: ধর্ষণের পেছনে দায়ী কে? সমাজ, নৈতিক অবক্ষয় নাকি বিচারহীনতা?

মাহের আহমেদ, সম্পাদক ও প্রকাশক
  • আপডেট সময় : ০৮:৩০:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬ ১২১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

প্রথম পর্বে আমরা দেখেছি, কীভাবে নারী ও শিশু ধর্ষণের ঘটনা সমাজে ভয় ও অনিরাপত্তা তৈরি করছে। এখন প্রশ্ন—এই ভয়াবহ অপরাধের পেছনে আসলে দায়ী কে?

ধর্ষণের ঘটনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একটি প্রশ্ন বারবার সামনে আসে—কেন এই অপরাধ থামছে না?
শুধু কঠোর আইন করলেই কি অপরাধ কমে? বাস্তবতা বলছে, না। কারণ অপরাধের পেছনে শুধু একজন ব্যক্তির বিকৃত মানসিকতা নয়, পুরো সামাজিক ব্যবস্থার দুর্বলতাও দায়ী।

আজ পরিবারে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার ঘাটতি স্পষ্ট। সন্তানদের ভালো স্কুলে ভর্তি করানো হচ্ছে, কিন্তু মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার শিক্ষা অনেক পরিবারেই কমে যাচ্ছে। ছেলে সন্তানকে নারীর প্রতি সম্মান শেখানো হচ্ছে না, বরং অনেক সময় “ছেলে মানুষ, একটু এমন হবেই” বলে ভুলকে প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, পর্নোগ্রাফি, মাদক ও অশ্লীল কনটেন্ট তরুণ সমাজের মানসিকতায় ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে। দিন দিন লজ্জাশীলতা কমছে, অশ্লীলতা স্বাভাবিক হয়ে যাচ্ছে।

সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিষয় হলো—অপরাধীরা অনেক সময় রাজনৈতিক, সামাজিক বা অর্থনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে পার পেয়ে যায়। যখন একজন অপরাধী দেখে আইনের ফাঁক গলে বের হওয়া সম্ভব, তখন তার ভয় কমে যায়।

আমাদের সমাজে আরেকটি বড় সমস্যা হলো ভুক্তভোগীকেই প্রশ্ন করা। ধর্ষকের বিচার চাওয়ার বদলে অনেক মানুষ নারীর পোশাক, চলাফেরা বা চরিত্র নিয়ে আলোচনা শুরু করে। এটি শুধু অন্যায় নয়, বরং অপরাধীদের পরোক্ষভাবে উৎসাহ দেয়।

আজ প্রয়োজন একটি নৈতিক জাগরণ। কারণ আইন ভয় দেখাতে পারে, কিন্তু নৈতিকতা মানুষকে অপরাধ থেকে বিরত রাখে।

চলবে…
পরবর্তী পর্বে: “ইসলাম, পর্দা ও নারীর নিরাপত্তা—বাস্তবতা কী বলে?”

মাহের আহমেদ
সম্পাদক ও প্রকাশক
দৈনিক যখন সময়

সূত্র:
১. আইন ও সালিশ কেন্দ্র (ASK)
২. বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ
৩. ইউনিসেফ বাংলাদেশ – শিশু সুরক্ষা বিষয়ক তথ্য
৪. বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিবেদন

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

২য় পর্ব: ধর্ষণের পেছনে দায়ী কে? সমাজ, নৈতিক অবক্ষয় নাকি বিচারহীনতা?

আপডেট সময় : ০৮:৩০:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬
print news

প্রথম পর্বে আমরা দেখেছি, কীভাবে নারী ও শিশু ধর্ষণের ঘটনা সমাজে ভয় ও অনিরাপত্তা তৈরি করছে। এখন প্রশ্ন—এই ভয়াবহ অপরাধের পেছনে আসলে দায়ী কে?

ধর্ষণের ঘটনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একটি প্রশ্ন বারবার সামনে আসে—কেন এই অপরাধ থামছে না?
শুধু কঠোর আইন করলেই কি অপরাধ কমে? বাস্তবতা বলছে, না। কারণ অপরাধের পেছনে শুধু একজন ব্যক্তির বিকৃত মানসিকতা নয়, পুরো সামাজিক ব্যবস্থার দুর্বলতাও দায়ী।

আজ পরিবারে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার ঘাটতি স্পষ্ট। সন্তানদের ভালো স্কুলে ভর্তি করানো হচ্ছে, কিন্তু মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার শিক্ষা অনেক পরিবারেই কমে যাচ্ছে। ছেলে সন্তানকে নারীর প্রতি সম্মান শেখানো হচ্ছে না, বরং অনেক সময় “ছেলে মানুষ, একটু এমন হবেই” বলে ভুলকে প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, পর্নোগ্রাফি, মাদক ও অশ্লীল কনটেন্ট তরুণ সমাজের মানসিকতায় ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে। দিন দিন লজ্জাশীলতা কমছে, অশ্লীলতা স্বাভাবিক হয়ে যাচ্ছে।

সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিষয় হলো—অপরাধীরা অনেক সময় রাজনৈতিক, সামাজিক বা অর্থনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে পার পেয়ে যায়। যখন একজন অপরাধী দেখে আইনের ফাঁক গলে বের হওয়া সম্ভব, তখন তার ভয় কমে যায়।

আমাদের সমাজে আরেকটি বড় সমস্যা হলো ভুক্তভোগীকেই প্রশ্ন করা। ধর্ষকের বিচার চাওয়ার বদলে অনেক মানুষ নারীর পোশাক, চলাফেরা বা চরিত্র নিয়ে আলোচনা শুরু করে। এটি শুধু অন্যায় নয়, বরং অপরাধীদের পরোক্ষভাবে উৎসাহ দেয়।

আজ প্রয়োজন একটি নৈতিক জাগরণ। কারণ আইন ভয় দেখাতে পারে, কিন্তু নৈতিকতা মানুষকে অপরাধ থেকে বিরত রাখে।

চলবে…
পরবর্তী পর্বে: “ইসলাম, পর্দা ও নারীর নিরাপত্তা—বাস্তবতা কী বলে?”

মাহের আহমেদ
সম্পাদক ও প্রকাশক
দৈনিক যখন সময়

সূত্র:
১. আইন ও সালিশ কেন্দ্র (ASK)
২. বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ
৩. ইউনিসেফ বাংলাদেশ – শিশু সুরক্ষা বিষয়ক তথ্য
৪. বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিবেদন