ঢাকা ০৯:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের কাছে সন্দেহজনক স্যুটকেস ঘিরে বোম আতঙ্ক পথঘাট পরিচ্ছন্ন রাখা ঈমানের দাবি ও সদকার সওয়াব গফরগাঁওয়ে প্রবাসীর স্ত্রীকে গণধর্ষণ: অভিযুক্তদের বাড়িঘরে ভাঙচুর বার্সেলোনায় ফিরল ‘এমএসএন’ যুগের স্মৃতি, রাফিনিয়া-ইয়ামালদের গোলবন্যা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লঞ্চ ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়ানোর দাবি মালিকদের যুদ্ধ জিতলে লুটের মালে বিজয়ীরই অধিকার, জাতিসংঘে ঘোষণা ট্রাম্পের বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের দুই প্রশাসনিক পদে সেনা কর্মকর্তাদের নিয়োগ জাতিসংঘের বিকল্প কেবলই কল্পনাতীত: ড. খলিলুর রহমান পুলিশের দাবি উন্নতি, বাস্তবে জনমনে নিরাপত্তাহীনতা ও উৎকণ্ঠা

২য় পর্ব: ধর্ষণের পেছনে দায়ী কে? সমাজ, নৈতিক অবক্ষয় নাকি বিচারহীনতা?

মাহের আহমেদ, সম্পাদক ও প্রকাশক
  • আপডেট সময় : ০৮:৩০:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬ ১৩৬ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি




প্রথম পর্বে আমরা দেখেছি, কীভাবে নারী ও শিশু ধর্ষণের ঘটনা সমাজে ভয় ও অনিরাপত্তা তৈরি করছে। এখন প্রশ্ন—এই ভয়াবহ অপরাধের পেছনে আসলে দায়ী কে?

ধর্ষণের ঘটনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একটি প্রশ্ন বারবার সামনে আসে—কেন এই অপরাধ থামছে না?
শুধু কঠোর আইন করলেই কি অপরাধ কমে? বাস্তবতা বলছে, না। কারণ অপরাধের পেছনে শুধু একজন ব্যক্তির বিকৃত মানসিকতা নয়, পুরো সামাজিক ব্যবস্থার দুর্বলতাও দায়ী।

আজ পরিবারে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার ঘাটতি স্পষ্ট। সন্তানদের ভালো স্কুলে ভর্তি করানো হচ্ছে, কিন্তু মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার শিক্ষা অনেক পরিবারেই কমে যাচ্ছে। ছেলে সন্তানকে নারীর প্রতি সম্মান শেখানো হচ্ছে না, বরং অনেক সময় “ছেলে মানুষ, একটু এমন হবেই” বলে ভুলকে প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, পর্নোগ্রাফি, মাদক ও অশ্লীল কনটেন্ট তরুণ সমাজের মানসিকতায় ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে। দিন দিন লজ্জাশীলতা কমছে, অশ্লীলতা স্বাভাবিক হয়ে যাচ্ছে।

সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিষয় হলো—অপরাধীরা অনেক সময় রাজনৈতিক, সামাজিক বা অর্থনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে পার পেয়ে যায়। যখন একজন অপরাধী দেখে আইনের ফাঁক গলে বের হওয়া সম্ভব, তখন তার ভয় কমে যায়।

আমাদের সমাজে আরেকটি বড় সমস্যা হলো ভুক্তভোগীকেই প্রশ্ন করা। ধর্ষকের বিচার চাওয়ার বদলে অনেক মানুষ নারীর পোশাক, চলাফেরা বা চরিত্র নিয়ে আলোচনা শুরু করে। এটি শুধু অন্যায় নয়, বরং অপরাধীদের পরোক্ষভাবে উৎসাহ দেয়।

আজ প্রয়োজন একটি নৈতিক জাগরণ। কারণ আইন ভয় দেখাতে পারে, কিন্তু নৈতিকতা মানুষকে অপরাধ থেকে বিরত রাখে।

চলবে…
পরবর্তী পর্বে: “ইসলাম, পর্দা ও নারীর নিরাপত্তা—বাস্তবতা কী বলে?”

মাহের আহমেদ
সম্পাদক ও প্রকাশক
দৈনিক যখন সময়

সূত্র:
১. আইন ও সালিশ কেন্দ্র (ASK)
২. বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ
৩. ইউনিসেফ বাংলাদেশ – শিশু সুরক্ষা বিষয়ক তথ্য
৪. বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিবেদন

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

২য় পর্ব: ধর্ষণের পেছনে দায়ী কে? সমাজ, নৈতিক অবক্ষয় নাকি বিচারহীনতা?

আপডেট সময় : ০৮:৩০:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

প্রথম পর্বে আমরা দেখেছি, কীভাবে নারী ও শিশু ধর্ষণের ঘটনা সমাজে ভয় ও অনিরাপত্তা তৈরি করছে। এখন প্রশ্ন—এই ভয়াবহ অপরাধের পেছনে আসলে দায়ী কে?

ধর্ষণের ঘটনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একটি প্রশ্ন বারবার সামনে আসে—কেন এই অপরাধ থামছে না?
শুধু কঠোর আইন করলেই কি অপরাধ কমে? বাস্তবতা বলছে, না। কারণ অপরাধের পেছনে শুধু একজন ব্যক্তির বিকৃত মানসিকতা নয়, পুরো সামাজিক ব্যবস্থার দুর্বলতাও দায়ী।

আজ পরিবারে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার ঘাটতি স্পষ্ট। সন্তানদের ভালো স্কুলে ভর্তি করানো হচ্ছে, কিন্তু মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার শিক্ষা অনেক পরিবারেই কমে যাচ্ছে। ছেলে সন্তানকে নারীর প্রতি সম্মান শেখানো হচ্ছে না, বরং অনেক সময় “ছেলে মানুষ, একটু এমন হবেই” বলে ভুলকে প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, পর্নোগ্রাফি, মাদক ও অশ্লীল কনটেন্ট তরুণ সমাজের মানসিকতায় ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে। দিন দিন লজ্জাশীলতা কমছে, অশ্লীলতা স্বাভাবিক হয়ে যাচ্ছে।

সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিষয় হলো—অপরাধীরা অনেক সময় রাজনৈতিক, সামাজিক বা অর্থনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে পার পেয়ে যায়। যখন একজন অপরাধী দেখে আইনের ফাঁক গলে বের হওয়া সম্ভব, তখন তার ভয় কমে যায়।

আমাদের সমাজে আরেকটি বড় সমস্যা হলো ভুক্তভোগীকেই প্রশ্ন করা। ধর্ষকের বিচার চাওয়ার বদলে অনেক মানুষ নারীর পোশাক, চলাফেরা বা চরিত্র নিয়ে আলোচনা শুরু করে। এটি শুধু অন্যায় নয়, বরং অপরাধীদের পরোক্ষভাবে উৎসাহ দেয়।

আজ প্রয়োজন একটি নৈতিক জাগরণ। কারণ আইন ভয় দেখাতে পারে, কিন্তু নৈতিকতা মানুষকে অপরাধ থেকে বিরত রাখে।

চলবে…
পরবর্তী পর্বে: “ইসলাম, পর্দা ও নারীর নিরাপত্তা—বাস্তবতা কী বলে?”

মাহের আহমেদ
সম্পাদক ও প্রকাশক
দৈনিক যখন সময়

সূত্র:
১. আইন ও সালিশ কেন্দ্র (ASK)
২. বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ
৩. ইউনিসেফ বাংলাদেশ – শিশু সুরক্ষা বিষয়ক তথ্য
৪. বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিবেদন