একীভূত ৫ ব্যাংকের গ্রাহকদের টাকা তোলার নিয়ম আরও সহজ
- আপডেট সময় : ১১:২৯:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬ ২৮ বার পড়া হয়েছে

একীভূত হওয়া পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য অর্থ উত্তোলনের নিয়ম আরও শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে কেবল নিজের চিকিৎসা নয়, বরং পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা ও অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনে গ্রাহকরা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলন করতে পারবেন। বুধবার (২৯ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে এই নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে বিশেষ স্কিমের আওতায় আমানতকারীরা শুধুমাত্র নিজেদের চিকিৎসার প্রয়োজনে অর্থ উত্তোলনের সুযোগ পেতেন। সংশোধিত নতুন নীতিমালায় সেই সুযোগের পরিধি বাড়িয়ে বাবা-মা, স্বামী বা স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে এবং ভাই-বোনের চিকিৎসার পাশাপাশি পারিবারিক বিভিন্ন জরুরি প্রয়োজনে অর্থ তোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মেয়ের বিয়ে বা আকস্মিক কোনো পারিবারিক সংকটের মতো জরুরি আর্থিক চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে এই শর্ত সহজ করা হয়েছে।
যে পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করা হয়েছে সেগুলো হলো ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংক। অন্তর্বর্তী সরকার গত বছর এসব ব্যাংককে একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠন করে। নতুন এই ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা মূলধন দিয়েছে এবং অবশিষ্ট ১৫ হাজার কোটি টাকার বিপরীতে সাধারণ আমানতকারীদের শেয়ার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
বর্তমানে আমানত বীমা তহবিল থেকে ১২ হাজার কোটি টাকার সহায়তায় ২ লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত পরিশোধের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক একটি বিশেষ স্কিমের মাধ্যমে অবশিষ্ট অর্থ পর্যায়ক্রমে গ্রাহকদের ফেরত দিচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৮ লাখ ২২ হাজার আমানতকারীকে মোট ৩ হাজার ৮৮৭ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ৩ লাখ ৫০ হাজার গ্রাহক পেয়েছেন প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।
উল্লেখ্য, সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনিয়ম ও জামানতবিহীন ঋণ বিতরণের ফলে এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে থাকা ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং সাবেক বিএবি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের নিয়ন্ত্রণে থাকা এক্সিম ব্যাংক তীব্র তারল্য সংকটে পড়েছিল। এর ফলে ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ হয়।





























