নোয়াখালী লক্ষীপুর চন্দ্রগঞ্জ পশ্চিম বাজারে ফোর লেনের গর্তে মাইক্রোবাস দুর্ঘটনা, চরম জনদুর্ভোগ

- আপডেট সময় : ১১:০৩:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

হাফিজুর রহমান নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ পশ্চিম বাজারে চলমান ফোর লেন মহাসড়ক নির্মাণকাজের খননকৃত গর্তে পড়ে একটি ওষুধ কোম্পানির মাইক্রোবাস দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। দুর্ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও গাড়িটি রাস্তার পাশে কাত হয়ে পড়ে দীর্ঘ সময় আটকে থাকে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্মাণকাজে নিরাপত্তাহীনতা ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী, পথচারী ও পরিবহন চালকরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাজার এলাকায় সড়কের পাশে খনন করে রাখা অংশে মাইক্রোবাসটির একটি চাকা ঢুকে গেলে সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একপাশে হেলে পড়ে। পরে স্থানীয় লোকজন ও পথচারীদের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় গাড়িটি উদ্ধার করা হয়।
অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ফোর লেন নির্মাণকাজের অংশ হিসেবে বাজার এলাকায় দীর্ঘদিন আগে খনন করা হলেও অনেক স্থানে এখনো বালু দিয়ে ভরাট, ইটের খোয়া ফেলা কিংবা যথাযথ রোলিং সম্পন্ন করা হয়নি। ফলে সড়কের বিভিন্ন অংশে তৈরি হয়েছে বিপজ্জনক গর্ত। বর্ষাকালে এসব গর্ত বৃষ্টির পানিতে ঢেকে যাওয়ায় কোথায় রাস্তা আর কোথায় গভীর গর্ত—তা বুঝে ওঠা কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে প্রতিনিয়ত জীবন ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে যানবাহন ও সাধারণ মানুষকে।
থমকে আছে কাজের গতি
স্থানীয়রা জানান, চন্দ্রগঞ্জ পশ্চিম বাজার অংশে ফোর লেন নির্মাণকাজকে ঘিরে বিভিন্ন জটিলতা ও বাধার কারণে কাজের গতি চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে বাজার এলাকায় অর্ধসমাপ্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করছে, যা ব্যবসা-বাণিজ্য, যান চলাচল এবং পথচারীদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।
নেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা
ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের ভাষ্য, প্রতিদিন ছোট-বড় যানবাহন, শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ এবং দূরপাল্লার পরিবহন এই ব্যস্ততম সড়কটি ব্যবহার করে। কিন্তু নির্মাণাধীন অংশে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা, সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড, ব্যারিকেড ও রাতে চলাচলের জন্য আলোর কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানির মতো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
দ্রুত সমাধানের দাবি
এলাকাবাসী অবিলম্বে বাজার এলাকার খননকৃত গর্তগুলো বালু ও উপযুক্ত নির্মাণসামগ্রী দিয়ে ভরাট, দ্রুত রোলিং সম্পন্ন এবং নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা গ্রহণের জোরালো দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ এবং জেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তাদের মতে, উন্নয়ন প্রকল্প অবশ্যই জনস্বার্থে হওয়া উচিত। কিন্তু নির্মাণকাজের নামে সাধারণ মানুষের জীবন ও নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বড় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটার আগেই দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।




























