ঢাকা ০৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণমাধ্যম ও গণতন্ত্রের শক্তি নিয়ে বিশিষ্টজনদের মতামত ও জরিপ ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পরিকল্পিত নগরায়নে প্রতিমন্ত্রীর সহযোগিতার আশ্বাস পাকিস্তানি হাইকমিশনারের বাসভবনে অগ্নিকাণ্ড: রহস্য ও ধোঁয়াশা গুলশানে গোপন বৈঠককালে আটক আওয়ামী লীগের ৬ নেতাকর্মীর রিমান্ড মঞ্জুর ঈদে মিলাদুন্নবী: যেভাবে মিলবে টানা চার দিনের ছুটি শর্ত না মানলে খুলবে না হরমুজ প্রণালি, জানাল আইআরজিসি ১৭ সেনা নিহতের পর হুথিদের বিরুদ্ধে ইয়েমেনি বাহিনীর পাল্টা অভিযান ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের ওপর হামলার জবাবে শিবিরকে প্রতিহত করেছি : নাছির রাজধানীর মহাখালীতে ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ গেল তরুণের হবিগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধে কুপিয়ে যুবককে হত্যা

বগুড়ার প্রস্তাবিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়: স্থান পরিবর্তন নিয়ে নতুন বিতর্ক

নিজস্ব প্রতিবেদনঃ
  • আপডেট সময় : ১১:০১:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬ ৪৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

নিজস্ব প্রতিবেদনঃ দীর্ঘদিন ধরে উত্তরাঞ্চলের মানুষের অন্যতম প্রত্যাশিত শিক্ষা প্রকল্প হিসেবে আলোচিত বগুড়ার প্রস্তাবিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির স্থান নির্ধারণ, জমি অধিগ্রহণ এবং সম্ভাব্য স্থান পরিবর্তন নিয়ে স্থানীয় জনগণের মধ্যে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন, উদ্বেগ ও বিতর্ক।

সূত্র অনুযায়ী, ২০০১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এর সরকারের সময় বগুড়ায় একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই সময় বিশ্ববিদ্যালয়টির জন্য প্রাথমিকভাবে বগুড়া জেলার শাজাহানপুর উপজেলার নয় মাইল জামালপুর এলাকাকে উপযুক্ত স্থান হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছিল। ওই স্থানের ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত জমির সম্ভাবনার কারণে এটি একটি বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল।
পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের সরকারের আমলে জামালপুর এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের লক্ষ্যে জমি অধিগ্রহণের প্রস্তুতি ও পরিকল্পনার বিষয়টি সামনে আসে। স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো এই প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রাথমিক কিছু কার্যক্রম শুরু করার কথাও জানায়।
কিন্তু রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পরিস্থিতিতে নতুন মোড় আসে। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে অভিযোগ উঠেছে যে, বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের কিছু প্রভাবশালী মহল বিশ্ববিদ্যালয়টির পূর্বনির্ধারিত স্থান পরিবর্তনের চেষ্টা চালাচ্ছে। বিশেষ করে একটি প্রতিমন্ত্রীর নাম নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।
স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়টির সম্ভাব্য নতুন স্থান হিসেবে ঐতিহাসিক শিবগঞ্জ উপজেলার মহাস্থান এলাকায় বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। মহাস্থানগড় বাংলাদেশের প্রাচীনতম প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলোর একটি এবং এটি জাতীয় ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ ধরনের ঐতিহাসিক এলাকায় বড় ধরনের অবকাঠামোগত প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এছাড়া স্থানীয়দের মধ্যে আরেকটি বড় উদ্বেগ হচ্ছে, যদি সরকারি খাস জমি বা তথাকথিত ‘দেবোত্তর সম্পত্তি’র ওপর বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থাপন করা হয়, তাহলে পূর্বে জমি অধিগ্রহণের জন্য বরাদ্দ হওয়া অর্থের ব্যবহার ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান নির্ধারণে রাজনৈতিক বিবেচনার চেয়ে বেশি গুরুত্ব পাওয়া উচিত শিক্ষার্থীদের সহজ যাতায়াত, অবকাঠামোগত সুবিধা, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনাকে। একই সঙ্গে যেকোনো স্থান পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত জনগণের সামনে স্বচ্ছভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন।
বগুড়ার সচেতন মহল মনে করে, বিশ্ববিদ্যালয়টি যেখানে স্থাপন করা হোক না কেন, সেটি যেন জনগণের স্বার্থ, শিক্ষার উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক ভারসাম্য বজায় রেখে করা হয়। পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং ঐতিহাসিক স্থাপনার সুরক্ষা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
বর্তমানে পুরো বিষয়টি নিয়ে বগুড়াবাসীর মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির চূড়ান্ত অবস্থান কোথায় হবে এবং সরকার এ বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

বগুড়ার প্রস্তাবিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়: স্থান পরিবর্তন নিয়ে নতুন বিতর্ক

আপডেট সময় : ১১:০১:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
print news

নিজস্ব প্রতিবেদনঃ দীর্ঘদিন ধরে উত্তরাঞ্চলের মানুষের অন্যতম প্রত্যাশিত শিক্ষা প্রকল্প হিসেবে আলোচিত বগুড়ার প্রস্তাবিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির স্থান নির্ধারণ, জমি অধিগ্রহণ এবং সম্ভাব্য স্থান পরিবর্তন নিয়ে স্থানীয় জনগণের মধ্যে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন, উদ্বেগ ও বিতর্ক।

সূত্র অনুযায়ী, ২০০১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এর সরকারের সময় বগুড়ায় একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই সময় বিশ্ববিদ্যালয়টির জন্য প্রাথমিকভাবে বগুড়া জেলার শাজাহানপুর উপজেলার নয় মাইল জামালপুর এলাকাকে উপযুক্ত স্থান হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছিল। ওই স্থানের ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত জমির সম্ভাবনার কারণে এটি একটি বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল।
পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের সরকারের আমলে জামালপুর এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের লক্ষ্যে জমি অধিগ্রহণের প্রস্তুতি ও পরিকল্পনার বিষয়টি সামনে আসে। স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো এই প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রাথমিক কিছু কার্যক্রম শুরু করার কথাও জানায়।
কিন্তু রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পরিস্থিতিতে নতুন মোড় আসে। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে অভিযোগ উঠেছে যে, বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের কিছু প্রভাবশালী মহল বিশ্ববিদ্যালয়টির পূর্বনির্ধারিত স্থান পরিবর্তনের চেষ্টা চালাচ্ছে। বিশেষ করে একটি প্রতিমন্ত্রীর নাম নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।
স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়টির সম্ভাব্য নতুন স্থান হিসেবে ঐতিহাসিক শিবগঞ্জ উপজেলার মহাস্থান এলাকায় বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। মহাস্থানগড় বাংলাদেশের প্রাচীনতম প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলোর একটি এবং এটি জাতীয় ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ ধরনের ঐতিহাসিক এলাকায় বড় ধরনের অবকাঠামোগত প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এছাড়া স্থানীয়দের মধ্যে আরেকটি বড় উদ্বেগ হচ্ছে, যদি সরকারি খাস জমি বা তথাকথিত ‘দেবোত্তর সম্পত্তি’র ওপর বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থাপন করা হয়, তাহলে পূর্বে জমি অধিগ্রহণের জন্য বরাদ্দ হওয়া অর্থের ব্যবহার ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান নির্ধারণে রাজনৈতিক বিবেচনার চেয়ে বেশি গুরুত্ব পাওয়া উচিত শিক্ষার্থীদের সহজ যাতায়াত, অবকাঠামোগত সুবিধা, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনাকে। একই সঙ্গে যেকোনো স্থান পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত জনগণের সামনে স্বচ্ছভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন।
বগুড়ার সচেতন মহল মনে করে, বিশ্ববিদ্যালয়টি যেখানে স্থাপন করা হোক না কেন, সেটি যেন জনগণের স্বার্থ, শিক্ষার উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক ভারসাম্য বজায় রেখে করা হয়। পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং ঐতিহাসিক স্থাপনার সুরক্ষা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
বর্তমানে পুরো বিষয়টি নিয়ে বগুড়াবাসীর মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির চূড়ান্ত অবস্থান কোথায় হবে এবং সরকার এ বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।