ঢাকা ০৭:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দেবিদ্বারে মাকে কুপিয়ে ও আট মাসের ভাতিজিকে আছড়ে হত্যা গুলশানে গ্রেফতার সন্দ্বীপের সাবেক আওয়ামী লীগ এমপি মিতা যশোর প্রেস ক্লাবের নবনির্বাচিত কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর জাতিসংঘে বিশেষ দূত জুলি বিশপের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাক্ষাৎ নিম্ন আয়ের দেশের ঋণঝুঁকি মূল্যায়নে নতুন কাঠামো আনছে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ বুধবার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহমের ছুটি গুলশান বিভাগের নতুন ডিসি হিসেবে দায়িত্ব পেলেন রুহুল কবীর খান মাদক সেবন ও কারবারে জড়িত মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কনস্টেবল কারাগারে চাঁদা দাবির অভিযোগে বহিষ্কৃত কৃষক দল নেতা ফয়সাল যবিপ্রবিতে আন্তঃবিভাগ ব্যাডমিন্টন ও টেবিল টেনিস প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ

নেপালে হিমবাহ ধসে ভয়াবহ বন্যা, ফের বিপর্যয়ের আশঙ্কায় স্থানীয়রা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১১:১৩:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬ ২৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



নেপালের ত্রিশূলী নদী উপত্যকায় ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়ে নিখোঁজ স্বজনদের হন্যে হয়ে খুঁজছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। চলতি সপ্তাহের এই বন্যায় তাদের পুরো গ্রাম ভেসে গেছে এবং প্রিয়জনদের কোনো খবরের আশায় তারা দিশেহারা হয়ে এদিক-সেদিক ছোটাছুটি করছেন।

বন্যার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে পর্বতারোহী সানজিত সিং বাল জানিয়েছেন, এটি মূলত একটি হিমবাহ ধসের ঘটনা। প্রায় ৫ হাজার মিটার উচ্চতায় প্রায় এক কিলোমিটার আয়তনের একটি হিমবাহ ধসে পড়ে এবং খাড়া ঢাল বেয়ে নিচে নামার সময় বিপুল পরিমাণ পাথর ও কাদামাটি সঙ্গে নিয়ে আসে। নেপাল হিমালয় ও পর্বত গবেষক ধনঞ্জয় রেগমি জানিয়েছেন, বন্যার পানির গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ৩০০ কিলোমিটার। বর্তমানে ওই এলাকায় তিনটি হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে, যা নতুন করে বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন করে পাথর ধসে পড়লে আবারও বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। এই পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় হিসেবে হ্রদে জমা পানি নিয়ন্ত্রিতভাবে বের করে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও এখনো তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষগুলোকে উঁচু স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ওপরই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বরফধসের পেছনে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ভূমিকা নিয়ে স্নোস্কেপসের ব্যবস্থাপনা অংশীদার আশুতোষ মিশ্র জানান, প্রাথমিকভাবে তিনটি হ্রদের একটিতে ভাঙনের কথা ভাবা হলেও কৃত্রিম উপগ্রহের চিত্র থেকে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। লাংটাং লেরুংয়ের ৭ হাজার মিটার উঁচু শৃঙ্গ থেকে প্রায় দুই বর্গকিলোমিটার আয়তনের একটি হিমবাহ ধসে পড়েছিল, যা এই বন্যার মূল কারণ।

এদিকে, বন্যার কারণ বা দ্বিতীয় দফা বন্যার ঝুঁকির চেয়েও স্থানীয়দের কাছে এখন বড় বিষয় নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজে পাওয়া। নিখোঁজ ভাইয়ের ছবি হাতে এক ব্যক্তি জানান, তাদের স্বজন বা অন্য কেউ, যিনিই আটকে আছেন তাকে বাঁচানোই এখন সবচেয়ে জরুরি। তিনি আরও বলেন, তার নিজের ভাই নিখোঁজ থাকলেও, অন্য সকল নেপালিও তাদের ভাইয়ের মতো।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

নেপালে হিমবাহ ধসে ভয়াবহ বন্যা, ফের বিপর্যয়ের আশঙ্কায় স্থানীয়রা

আপডেট সময় : ১১:১৩:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

নেপালের ত্রিশূলী নদী উপত্যকায় ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়ে নিখোঁজ স্বজনদের হন্যে হয়ে খুঁজছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। চলতি সপ্তাহের এই বন্যায় তাদের পুরো গ্রাম ভেসে গেছে এবং প্রিয়জনদের কোনো খবরের আশায় তারা দিশেহারা হয়ে এদিক-সেদিক ছোটাছুটি করছেন।

বন্যার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে পর্বতারোহী সানজিত সিং বাল জানিয়েছেন, এটি মূলত একটি হিমবাহ ধসের ঘটনা। প্রায় ৫ হাজার মিটার উচ্চতায় প্রায় এক কিলোমিটার আয়তনের একটি হিমবাহ ধসে পড়ে এবং খাড়া ঢাল বেয়ে নিচে নামার সময় বিপুল পরিমাণ পাথর ও কাদামাটি সঙ্গে নিয়ে আসে। নেপাল হিমালয় ও পর্বত গবেষক ধনঞ্জয় রেগমি জানিয়েছেন, বন্যার পানির গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ৩০০ কিলোমিটার। বর্তমানে ওই এলাকায় তিনটি হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে, যা নতুন করে বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন করে পাথর ধসে পড়লে আবারও বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। এই পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় হিসেবে হ্রদে জমা পানি নিয়ন্ত্রিতভাবে বের করে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও এখনো তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষগুলোকে উঁচু স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ওপরই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বরফধসের পেছনে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ভূমিকা নিয়ে স্নোস্কেপসের ব্যবস্থাপনা অংশীদার আশুতোষ মিশ্র জানান, প্রাথমিকভাবে তিনটি হ্রদের একটিতে ভাঙনের কথা ভাবা হলেও কৃত্রিম উপগ্রহের চিত্র থেকে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। লাংটাং লেরুংয়ের ৭ হাজার মিটার উঁচু শৃঙ্গ থেকে প্রায় দুই বর্গকিলোমিটার আয়তনের একটি হিমবাহ ধসে পড়েছিল, যা এই বন্যার মূল কারণ।

এদিকে, বন্যার কারণ বা দ্বিতীয় দফা বন্যার ঝুঁকির চেয়েও স্থানীয়দের কাছে এখন বড় বিষয় নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজে পাওয়া। নিখোঁজ ভাইয়ের ছবি হাতে এক ব্যক্তি জানান, তাদের স্বজন বা অন্য কেউ, যিনিই আটকে আছেন তাকে বাঁচানোই এখন সবচেয়ে জরুরি। তিনি আরও বলেন, তার নিজের ভাই নিখোঁজ থাকলেও, অন্য সকল নেপালিও তাদের ভাইয়ের মতো।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin