ঢাকা ০৯:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
লঞ্চ ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়ানোর দাবি মালিকদের যুদ্ধ জিতলে লুটের মালে বিজয়ীরই অধিকার, জাতিসংঘে ঘোষণা ট্রাম্পের বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের দুই প্রশাসনিক পদে সেনা কর্মকর্তাদের নিয়োগ জাতিসংঘের বিকল্প কেবলই কল্পনাতীত: ড. খলিলুর রহমান পুলিশের দাবি উন্নতি, বাস্তবে জনমনে নিরাপত্তাহীনতা ও উৎকণ্ঠা পাকিস্তানে অনলাইনে যৌন নিপীড়নের ফাঁদে ১৫ লাখ শিশু গাজায় বিশ্ববাসীর নিষ্ক্রিয়তা লজ্জাজনক: জাতিসংঘে ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ গাইবান্ধা সরকারি কলেজে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন বরণ অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগ নৈরাজ্য সৃষ্টি করলে স্থানীয়ভাবে প্রতিহত করার আহ্বান প্রিন্সের স্ত্রীর মৃত্যুর তদন্তে ঘুষ: অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি নাগরিক গ্রেপ্তার

নেপালে পরিচয়হীন মরদেহ দাফন শুরু, ভবিষ্যতে শনাক্তে ডিএনএ সংগ্রহ

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৫:২৫:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় উদ্ধার হওয়া পরিচয়হীন ও বেওয়ারিশ মরদেহগুলো মাটিতে দাফন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বুধবার থেকে শুরু হওয়া প্রবল বর্ষণ ও বন্যার স্রোতে নেপালের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হওয়ার পর এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৭৫০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ভারতের সীমান্তবর্তী জেলা চিতওয়ানেই সবচেয়ে বেশি, অর্থাৎ ২৩৩টি মরদেহ পাওয়া গেছে। মরদেহ দ্রুত পচে যাওয়া এবং এর ফলে দুর্গন্ধ ও সংক্রমণের ঝুঁকি বৃদ্ধির আশঙ্কায় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে জেলা প্রশাসন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

চিতওয়ান জেলায় পর্যাপ্ত হাসপাতাল সুবিধা ও মরদেহ সংরক্ষণের জায়গা না থাকায় পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, মরদেহ রাখার জন্য একটি বাড়িকে অস্থায়ী শীতলীকরণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল, কিন্তু সেখানেও জায়গা ফুরিয়ে যাওয়ায় দাফন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। তবে ভবিষ্যতে স্বজনরা যেন তাদের প্রিয়জনকে শনাক্ত করে ফিরিয়ে নিতে পারেন, সেজন্য কঠোর সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

দাফনের আগে প্রতিটি মরদেহের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং প্রতিটি মরদেহকে একটি স্বতন্ত্র রেফারেন্স নম্বর দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া উদ্ধারের স্থানও নথিবদ্ধ করা হচ্ছে। শনিবার বিকেল পর্যন্ত ১০০টিরও বেশি মরদেহের ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি করা হয়েছে। দাফনের ক্ষেত্রে প্রতিটি মরদেহের জন্য প্রায় দেড় মিটার গভীর গর্ত এবং প্রতিটি কবরের মাঝে ৪০ সেন্টিমিটার দূরত্ব বজায় রাখা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হলে নির্দিষ্ট মরদেহটি সহজে উত্তোলন করা যায়।

প্রতিটি মরদেহ নম্বরযুক্ত ব্যাগে রাখার পাশাপাশি দাফনস্থলে কংক্রিটের প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে সেখানে শনাক্তকরণ নম্বরের সাইনবোর্ড বসানো হচ্ছে। এছাড়া দাফন প্রক্রিয়ার ভিডিও ও ছবি সংরক্ষণের পাশাপাশি প্রতিটি কবরের অবস্থান জিও-ট্যাগ করার পরিকল্পনা রয়েছে। নেপাল পুলিশ পরিচয়হীন মরদেহগুলোর তথ্য একটি ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করেছে। নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজছেন এমন ব্যক্তিদের নির্ধারিত কেন্দ্রে ডিএনএ নমুনা জমা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, যা পরবর্তীতে সংরক্ষিত নমুনার সাথে মিলিয়ে দেখা হবে। ডিএনএ মিলে গেলে পুলিশ তাদের রেকর্ড থেকে সংশ্লিষ্ট মরদেহের দাফনস্থল শনাক্ত করে তা কবর থেকে উত্তোলন করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করবে। নেপালে এখনো প্রায় ২ হাজার ৫০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যার মধ্যে কয়েকশ বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

নেপালে পরিচয়হীন মরদেহ দাফন শুরু, ভবিষ্যতে শনাক্তে ডিএনএ সংগ্রহ

আপডেট সময় : ০৫:২৫:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় উদ্ধার হওয়া পরিচয়হীন ও বেওয়ারিশ মরদেহগুলো মাটিতে দাফন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বুধবার থেকে শুরু হওয়া প্রবল বর্ষণ ও বন্যার স্রোতে নেপালের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হওয়ার পর এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৭৫০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ভারতের সীমান্তবর্তী জেলা চিতওয়ানেই সবচেয়ে বেশি, অর্থাৎ ২৩৩টি মরদেহ পাওয়া গেছে। মরদেহ দ্রুত পচে যাওয়া এবং এর ফলে দুর্গন্ধ ও সংক্রমণের ঝুঁকি বৃদ্ধির আশঙ্কায় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে জেলা প্রশাসন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

চিতওয়ান জেলায় পর্যাপ্ত হাসপাতাল সুবিধা ও মরদেহ সংরক্ষণের জায়গা না থাকায় পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, মরদেহ রাখার জন্য একটি বাড়িকে অস্থায়ী শীতলীকরণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল, কিন্তু সেখানেও জায়গা ফুরিয়ে যাওয়ায় দাফন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। তবে ভবিষ্যতে স্বজনরা যেন তাদের প্রিয়জনকে শনাক্ত করে ফিরিয়ে নিতে পারেন, সেজন্য কঠোর সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

দাফনের আগে প্রতিটি মরদেহের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং প্রতিটি মরদেহকে একটি স্বতন্ত্র রেফারেন্স নম্বর দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া উদ্ধারের স্থানও নথিবদ্ধ করা হচ্ছে। শনিবার বিকেল পর্যন্ত ১০০টিরও বেশি মরদেহের ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি করা হয়েছে। দাফনের ক্ষেত্রে প্রতিটি মরদেহের জন্য প্রায় দেড় মিটার গভীর গর্ত এবং প্রতিটি কবরের মাঝে ৪০ সেন্টিমিটার দূরত্ব বজায় রাখা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হলে নির্দিষ্ট মরদেহটি সহজে উত্তোলন করা যায়।

প্রতিটি মরদেহ নম্বরযুক্ত ব্যাগে রাখার পাশাপাশি দাফনস্থলে কংক্রিটের প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে সেখানে শনাক্তকরণ নম্বরের সাইনবোর্ড বসানো হচ্ছে। এছাড়া দাফন প্রক্রিয়ার ভিডিও ও ছবি সংরক্ষণের পাশাপাশি প্রতিটি কবরের অবস্থান জিও-ট্যাগ করার পরিকল্পনা রয়েছে। নেপাল পুলিশ পরিচয়হীন মরদেহগুলোর তথ্য একটি ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করেছে। নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজছেন এমন ব্যক্তিদের নির্ধারিত কেন্দ্রে ডিএনএ নমুনা জমা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, যা পরবর্তীতে সংরক্ষিত নমুনার সাথে মিলিয়ে দেখা হবে। ডিএনএ মিলে গেলে পুলিশ তাদের রেকর্ড থেকে সংশ্লিষ্ট মরদেহের দাফনস্থল শনাক্ত করে তা কবর থেকে উত্তোলন করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করবে। নেপালে এখনো প্রায় ২ হাজার ৫০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যার মধ্যে কয়েকশ বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin