ঢাকা ০১:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতান্ত্রিক ও শোষণমুক্ত রাষ্ট্র গঠনে সরকার কাজ করছে: মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে গুজবে বিশ্বাস নেই মির্জা ফখরুলের নাইজেরিয়ায় রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ল এনুগু এয়ার, রক্ষা পেলেন ৬৮ যাত্রী কৈশোর স্বাস্থ্যসেবায় ভলান্টিয়ার পিয়ার লিডার মডেলের সুপারিশ ১২টি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানে নতুন চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাজারে পেঁয়াজ, ডিম ও সবজির দাম আরও বেড়েছে ২৪ জুলাই ২০২৪: কারফিউ ও চিরুনি অভিযানে সারা দেশে ব্যাপক গ্রেপ্তার ৮০টিরও বেশি দেশে নতুন শুল্ক আরোপ করল মার্কিন প্রশাসন নৌযান শুমারি ২০২৬: ডাটাবেজ তৈরিতে রংপুরে অবহিতকরণ সেমিনার দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমালো বাজুস, নতুন দর কার্যকর

সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তি সই

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১৬:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব একটি ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তিতে সই করেছে, যার মাধ্যমে উপসাগরীয় দেশটি বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি গড়ে তোলার সুযোগ পাবে। ‘শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি’ হিসেবে পরিচিত এই চুক্তির ফলে সৌদি আরবের পারমাণবিক জ্বালানি কর্মসূচিতে মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য বড় ধরনের সুযোগ তৈরি হবে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে একটি দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা সুরক্ষা চুক্তিও সই হয়েছে, যা কয়েক দশকব্যাপী বহু বিলিয়ন ডলারের অংশীদারিত্বের আইনি ভিত্তি তৈরি করবে।

চুক্তির পূর্ণাঙ্গ শর্তাবলি প্রকাশ না করা হলেও মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভবিষ্যতে সৌদি আরবকে নিজস্ব ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি দেওয়া হতে পারে। যদি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের বিধান এই চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত থাকে, তাহলে এটি ২০০৯ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের করা চুক্তি থেকে আলাদা হবে। ওই চুক্তিতে আমিরাত নিজস্ব জ্বালানি উৎপাদন করে না এবং আরও নানা ধরনের বিধিনিষেধ মেনে চলে। এই বিষয়টি নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হলেও তা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতেও ব্যবহার করা সম্ভব। ডিফেন্স প্রায়োরিটিজের মধ্যপ্রাচ্য কর্মসূচি বিষয়ক পরিচালক রোজমেরি কেলানিক বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আগে কখনও কোনো দেশকে নিজস্ব মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে সহায়তা করেনি, কারণ এতে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তারের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।

সৌদি সরকার জানিয়েছে, এই চুক্তি দুই দেশের জ্বালানি খাতে বিদ্যমান সহযোগিতারই সম্প্রসারণ। গত নভেম্বরে সৌদি নেতার ওয়াশিংটন সফরের পরই এই চুক্তির পথ প্রশস্ত হয়। হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের দায়িত্ব পালনকালে সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে সৌদি আরবের পারমাণবিক সহযোগিতার আলোচনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র এই প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে থাকতে চায়নি বলেও বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট দাবি করেছেন, এই চুক্তি পারমাণবিক নিরাপত্তা ও অস্ত্র বিস্তার রোধে সর্বোচ্চ মান বজায় রাখবে। তবে ইসরাইলের কয়েকজন পারমাণবিক বিশেষজ্ঞ ও সাবেক কর্মকর্তা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এর মাধ্যমে সৌদি আরব ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। ২০১৮ সালে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সিবিএস নিউজকে বলেছিলেন, ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরি করলে সৌদি আরবও যত দ্রুত সম্ভব একই পথ অনুসরণ করবে।

চুক্তিটি অনুমোদনের জন্য মার্কিন কংগ্রেসে পাঠানো হবে। সেখানে ডেমোক্রেট ও রিপাবলিকান উভয় দলের আইনপ্রণেতাদের বিরোধিতার সম্ভাবনা রয়েছে। ম্যাসাচুসেটসের ডেমোক্রেট সিনেটর এডওয়ার্ড মার্কি এই চুক্তির কঠোর সমালোচনা করেছেন। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সমালোচকদের উদ্বেগ নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন কোনো চুক্তি করবে না যা পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তারের ঝুঁকি তৈরি করে। এদিকে, ইয়েমেনে ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের সমুদ্র অবরোধ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তি সই

আপডেট সময় : ১০:১৬:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
print news

যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব একটি ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তিতে সই করেছে, যার মাধ্যমে উপসাগরীয় দেশটি বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি গড়ে তোলার সুযোগ পাবে। ‘শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি’ হিসেবে পরিচিত এই চুক্তির ফলে সৌদি আরবের পারমাণবিক জ্বালানি কর্মসূচিতে মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য বড় ধরনের সুযোগ তৈরি হবে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে একটি দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা সুরক্ষা চুক্তিও সই হয়েছে, যা কয়েক দশকব্যাপী বহু বিলিয়ন ডলারের অংশীদারিত্বের আইনি ভিত্তি তৈরি করবে।

চুক্তির পূর্ণাঙ্গ শর্তাবলি প্রকাশ না করা হলেও মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভবিষ্যতে সৌদি আরবকে নিজস্ব ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি দেওয়া হতে পারে। যদি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের বিধান এই চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত থাকে, তাহলে এটি ২০০৯ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের করা চুক্তি থেকে আলাদা হবে। ওই চুক্তিতে আমিরাত নিজস্ব জ্বালানি উৎপাদন করে না এবং আরও নানা ধরনের বিধিনিষেধ মেনে চলে। এই বিষয়টি নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হলেও তা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতেও ব্যবহার করা সম্ভব। ডিফেন্স প্রায়োরিটিজের মধ্যপ্রাচ্য কর্মসূচি বিষয়ক পরিচালক রোজমেরি কেলানিক বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আগে কখনও কোনো দেশকে নিজস্ব মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে সহায়তা করেনি, কারণ এতে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তারের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।

সৌদি সরকার জানিয়েছে, এই চুক্তি দুই দেশের জ্বালানি খাতে বিদ্যমান সহযোগিতারই সম্প্রসারণ। গত নভেম্বরে সৌদি নেতার ওয়াশিংটন সফরের পরই এই চুক্তির পথ প্রশস্ত হয়। হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের দায়িত্ব পালনকালে সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে সৌদি আরবের পারমাণবিক সহযোগিতার আলোচনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র এই প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে থাকতে চায়নি বলেও বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট দাবি করেছেন, এই চুক্তি পারমাণবিক নিরাপত্তা ও অস্ত্র বিস্তার রোধে সর্বোচ্চ মান বজায় রাখবে। তবে ইসরাইলের কয়েকজন পারমাণবিক বিশেষজ্ঞ ও সাবেক কর্মকর্তা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এর মাধ্যমে সৌদি আরব ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। ২০১৮ সালে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সিবিএস নিউজকে বলেছিলেন, ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরি করলে সৌদি আরবও যত দ্রুত সম্ভব একই পথ অনুসরণ করবে।

চুক্তিটি অনুমোদনের জন্য মার্কিন কংগ্রেসে পাঠানো হবে। সেখানে ডেমোক্রেট ও রিপাবলিকান উভয় দলের আইনপ্রণেতাদের বিরোধিতার সম্ভাবনা রয়েছে। ম্যাসাচুসেটসের ডেমোক্রেট সিনেটর এডওয়ার্ড মার্কি এই চুক্তির কঠোর সমালোচনা করেছেন। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সমালোচকদের উদ্বেগ নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন কোনো চুক্তি করবে না যা পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তারের ঝুঁকি তৈরি করে। এদিকে, ইয়েমেনে ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের সমুদ্র অবরোধ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin