ঢাকা ০১:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩য় পর্ব: ইসলাম, পর্দা ও নারীর নিরাপত্তা: আমরা কি সত্যিই বুঝতে পেরেছি?

মাহের আহমেদ, সম্পাদক ও প্রকাশক
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৯:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬ ৪৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

আগের পর্বে আমরা ধর্ষণের পেছনের সামাজিক ও নৈতিক কারণগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি। এবার প্রশ্ন—ইসলাম যে পর্দা ও শালীনতার শিক্ষা দিয়েছে, তা কি শুধু ধর্মীয় বিধান, নাকি সমাজের নিরাপত্তার সঙ্গেও জড়িত?

বাংলাদেশে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পর্দা ও শালীনতা নিয়েও আলোচনা সামনে আসে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এই আলোচনাকে অনেক সময় ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়।

প্রথমেই স্পষ্ট করতে হবে—ধর্ষণের দায় সবসময় ধর্ষকের। কোনো নারীর পোশাক কখনোই অপরাধের বৈধতা হতে পারে না। একটি শিশুও যখন ধর্ষণের শিকার হয়, তখন স্পষ্ট হয়ে যায় সমস্যা মানুষের বিকৃত মানসিকতায়।
তবে এটাও বাস্তবতা যে, ইসলাম নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য শালীনতা, সংযম ও পর্দার শিক্ষা দিয়েছে। ইসলাম নারীকে অসম্মান করেনি; বরং তাকে মর্যাদা ও নিরাপত্তা দিয়েছে।

আজ “আধুনিকতা”র নামে অশ্লীলতা ও বেহায়াপনা সমাজে স্বাভাবিক করে তোলা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিনোদনের বড় একটি অংশ তরুণ সমাজকে শালীনতা থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা নারী-পুরুষ উভয়কেই দৃষ্টি সংযত রাখতে বলেছেন। কারণ ইসলাম জানে, সমাজে যখন লজ্জাশীলতা কমে যায়, তখন নৈতিক অবক্ষয় বাড়তে থাকে।

পর্দা শুধু কাপড় নয়; এটি একটি মানসিকতা, একটি আত্মসম্মান ও নিরাপত্তার বার্তা। একজন পর্দাশীল নারী অনেক ক্ষেত্রেই অনাকাঙ্ক্ষিত দৃষ্টি ও সামাজিক ঝুঁকি থেকে তুলনামূলক বেশি নিরাপদ থাকেন।
আজ প্রয়োজন ধর্মীয় মূল্যবোধকে উপহাস না করে সঠিকভাবে বোঝা।

চলবে…
পরবর্তী পর্বে: “ধর্ষণের বিচার কেন দীর্ঘ হয় এবং কীভাবে অপরাধীরা পার পেয়ে যায়?”

মাহের আহমেদ
সম্পাদক ও প্রকাশক
দৈনিক যখন সময়

সূত্র:
১. পবিত্র কুরআন – সূরা আন-নূর
২. পবিত্র কুরআন – সূরা আহযাব
৩. ইসলামিক স্কলারদের সামাজিক ও নৈতিকতা বিষয়ক আলোচনা
৪. সামাজিক ও মানবাধিকারভিত্তিক বিভিন্ন গবেষণা

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

৩য় পর্ব: ইসলাম, পর্দা ও নারীর নিরাপত্তা: আমরা কি সত্যিই বুঝতে পেরেছি?

আপডেট সময় : ০৮:৫৯:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
print news

আগের পর্বে আমরা ধর্ষণের পেছনের সামাজিক ও নৈতিক কারণগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি। এবার প্রশ্ন—ইসলাম যে পর্দা ও শালীনতার শিক্ষা দিয়েছে, তা কি শুধু ধর্মীয় বিধান, নাকি সমাজের নিরাপত্তার সঙ্গেও জড়িত?

বাংলাদেশে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পর্দা ও শালীনতা নিয়েও আলোচনা সামনে আসে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এই আলোচনাকে অনেক সময় ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়।

প্রথমেই স্পষ্ট করতে হবে—ধর্ষণের দায় সবসময় ধর্ষকের। কোনো নারীর পোশাক কখনোই অপরাধের বৈধতা হতে পারে না। একটি শিশুও যখন ধর্ষণের শিকার হয়, তখন স্পষ্ট হয়ে যায় সমস্যা মানুষের বিকৃত মানসিকতায়।
তবে এটাও বাস্তবতা যে, ইসলাম নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য শালীনতা, সংযম ও পর্দার শিক্ষা দিয়েছে। ইসলাম নারীকে অসম্মান করেনি; বরং তাকে মর্যাদা ও নিরাপত্তা দিয়েছে।

আজ “আধুনিকতা”র নামে অশ্লীলতা ও বেহায়াপনা সমাজে স্বাভাবিক করে তোলা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিনোদনের বড় একটি অংশ তরুণ সমাজকে শালীনতা থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা নারী-পুরুষ উভয়কেই দৃষ্টি সংযত রাখতে বলেছেন। কারণ ইসলাম জানে, সমাজে যখন লজ্জাশীলতা কমে যায়, তখন নৈতিক অবক্ষয় বাড়তে থাকে।

পর্দা শুধু কাপড় নয়; এটি একটি মানসিকতা, একটি আত্মসম্মান ও নিরাপত্তার বার্তা। একজন পর্দাশীল নারী অনেক ক্ষেত্রেই অনাকাঙ্ক্ষিত দৃষ্টি ও সামাজিক ঝুঁকি থেকে তুলনামূলক বেশি নিরাপদ থাকেন।
আজ প্রয়োজন ধর্মীয় মূল্যবোধকে উপহাস না করে সঠিকভাবে বোঝা।

চলবে…
পরবর্তী পর্বে: “ধর্ষণের বিচার কেন দীর্ঘ হয় এবং কীভাবে অপরাধীরা পার পেয়ে যায়?”

মাহের আহমেদ
সম্পাদক ও প্রকাশক
দৈনিক যখন সময়

সূত্র:
১. পবিত্র কুরআন – সূরা আন-নূর
২. পবিত্র কুরআন – সূরা আহযাব
৩. ইসলামিক স্কলারদের সামাজিক ও নৈতিকতা বিষয়ক আলোচনা
৪. সামাজিক ও মানবাধিকারভিত্তিক বিভিন্ন গবেষণা