ঢাকা ০৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গোমস্তাপুরে কৃষক দলের বার্ষিক বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত পিরোজপুরে মাছ ধরার বোটে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি জব্দ মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও আলতাফ মাহমুদ বলেছিলেন, ‘দেশ স্বাধীন হবেই’ সরবরাহ কমিয়ে বোতলজাত সয়াবিনের কৃত্রিম সংকট, বাজারে বাড়তি দাম মানুষ কষ্টে আছে, দেশে নিরাপত্তা নেই: জামায়াত আমীর নেশনস লিগে স্পেনের টানা তৃতীয় জয়, আবারও ঝলক ইয়ামালের চাঁপাইনবাবগঞ্জে সৎ ছেলের ছুরিকাঘাতে গৃহবধূর মৃত্যু ঢাকার গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরানোর উদ্যোগ ব্যর্থ: চাঁদাবাজি ও ভুল পরিকল্পনায় জিম্মি সড়ক শেখ হাসিনাকে অবতরণের অনুমতি দেওয়া ছাড়া বিকল্প ছিল না: ভারতীয় হাইকমিশনার গাজীপুরে পোশাক কারখানায় আগুন, ছাদে আটকা পড়া ৭০ জন উদ্ধার

২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল শহর হতে পারে ঢাকা: জাতিসংঘ

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০২:২৭:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



জাতিসংঘের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল নগরী বা মেগাসিটিতে পরিণত হতে পারে। ২০০০ সালে এই তালিকায় ঢাকার অবস্থান নবম থাকলেও, ২০২৫ সালে তা দ্বিতীয় এবং ২০৫০ সালে শীর্ষ অবস্থানে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জাতিসংঘের ‘ওয়ার্ল্ড আরবানাইজেশন প্রসপেক্টস ২০২৫’ অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বৃহত্তর ঢাকা নগর সমষ্টির জনসংখ্যা দাঁড়াবে ৩ কোটি ৬৫ লাখ ৮৫ হাজারে, যা ২০৫০ সালে ৪২ শতাংশ বেড়ে ৫ কোটি ২১ লাখ ২৩ হাজারে পৌঁছাতে পারে। অর্থাৎ আগামী ২৫ বছরে এই মহানগরে আরও প্রায় ১ কোটি ৫৫ লাখ মানুষ যুক্ত হবে। ২০৫০ সালে ঢাকার পরেই থাকবে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা (৫ কোটি ১৭ লাখ ৮৪ হাজার) এবং জাপানের টোকিও (৩ কোটি ৬ লাখ ৫৮ হাজার)।

বর্তমানে ঢাকার প্রকৃত জনসংখ্যা নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য না থাকলেও পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মোট জনসংখ্যা প্রায় ১ কোটি ২৮ লাখ। এর মধ্যে উত্তরে ৫৯ লাখ ৭৯ হাজার ৫৩৭ জন এবং দক্ষিণে ৪২ লাখ ৯৯ হাজার ৩৪৫ জন বাস করেন। তবে জাতিসংঘের নতুন নগরায়ণ পদ্ধতিতে শহরের চারপাশের বিস্তৃত অঞ্চলকেও হিসাব করা হয়েছে। জনশুমারি অনুযায়ী, উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৩০ হাজার ৪৭৪ জন এবং দক্ষিণে ৩৯,৩৫৩ জন বাস করেন। দুই সিটি মিলিয়ে গড় জনঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে প্রায় ৩৩ হাজার ৬০০ জন। লালবাগ, বংশাল, গেন্ডারিয়া ও সবুজবাগের মতো অতি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় প্রতি একরে ৭০০ থেকে ৮০০ জন এবং কিছু বস্তিতে প্রতি বর্গকিলোমিটারে ২ লাখ ২০ হাজার মানুষ বসবাস করছেন।

বিবিএস ও জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ৭০০ নতুন মানুষ ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় যুক্ত হচ্ছে। রাজধানীমুখী এই স্রোতের একটি বাস্তব উদাহরণ পাওয়া যায় ২০১৪ সালে ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের তথ্যে। দুটি সেশনে ভর্তি হওয়া মোট ৫২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪৭ জনই এসেছিলেন ঢাকার বাইরে থেকে। ২০১৮ সালে অনার্স শেষ করার পর তাঁদের মধ্যে মাত্র ৭ জন নিজ এলাকায় ফিরে গেছেন এবং ২ জন অন্য শহরে চাকরি করছেন। বাকিদের মধ্যে ১২ জন বিদেশে চলে গেলেও বড় একটি অংশ স্থায়ীভাবে ঢাকায় থেকে গেছেন।

অস্ট্রেলিয়ায় ‘মেগাসিটি পপুলেশন গ্রোথ ও আরবান প্ল্যানিং’ নিয়ে গবেষণারত আতিউর রহমান সৃজন মনে করেন, ঢাকার মূল সমস্যা কেবল জনসংখ্যা বৃদ্ধি নয়, বরং ধারণক্ষমতার সঙ্গে অবকাঠামোগত অসামঞ্জস্য। জনসংখ্যা বৃদ্ধির অনুপাতে আবাসন, যাতায়াত, পানি, পয়ঃনিষ্কাশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে উঠছে না। ফলে যানজট, দূষণ ও জীবনযাত্রার মানের ওপর চাপ বাড়ছে। এই সংকট কাটাতে ঢাকাকে আরও সম্প্রসারিত না করে ‘পলিসেন্ট্রিক আরবান ডেভেলপমেন্ট’ বা বহুকেন্দ্রীক নগর উন্নয়নের ওপর জোর দেন তিনি। তাঁর মতে, ঢাকার বাইরে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক হাব তৈরি করে কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে। একই সঙ্গে বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকি বিবেচনায় ঢাকাকে কিছুটা স্বস্তি দিতে তৈরি পোশাকশিল্পসহ বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো ধীরে ধীরে ঢাকার বাইরে সরিয়ে নেওয়া জরুরি।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. তাজুল ইসলাম চৌধুরী জনসংখ্যা বৃদ্ধির পরিবেশগত ও কৃষি খাতের ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, সীমিত জমিতে বাড়তি খাদ্যের চাহিদা মেটাতে ঢাকার চারপাশের কৃষি জমিতে বছরে ৩ থেকে ৪ বার ফসল ফলানো হচ্ছে। এই অতিরিক্ত ফলনের আশায় জমিতে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ও রাসায়নিক ব্যবহারের ফলে প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস হচ্ছে এবং পানি দূষিত হচ্ছে। এছাড়া পতিত জমি ও বন কেটে চাষাবাদ করায় দেশের মোট বনভূমির পরিমাণ ১০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে, যা পরিবেশের ভারসাম্যকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শাম্মী আক্তার সেতু বলেন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও উন্নত চিকিৎসার সুযোগ ঢাকাকেন্দ্রিক হওয়ার কারণেই মানুষ শহরমুখী হচ্ছে। এই চাপ কমাতে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বিকেন্দ্রীকরণের কোনো বিকল্প নেই। জেলা পর্যায়ে পর্যাপ্ত চিকিৎসক, উন্নত হাসপাতাল ও রোগনির্ণয় সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে ঢাকার ওপর স্বাস্থ্যসেবার অতিরিক্ত চাপ কমবে। পাশাপাশি জেলাগুলোতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করলে কাজের সন্ধানে ঢাকায় এসে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে যুক্ত হওয়া মানুষের একটি বড় অংশকে নিজ এলাকাতেই ধরে রাখা সম্ভব হবে।

নগরপরিকল্পনাবিদ স্থপতি ইকবাল হাবিব সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ঢাকাকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বিনোদনের এককেন্দ্রিক শহরে পরিণত করার কারণেই হকার ও অবৈধ যানবাহনের আধিক্য, ছিনতাই এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণ বাড়ছে। দেশের সুষম উন্নয়নকে অবহেলা করে ঢাকার চারপাশের খাল ও জলাশয়গুলো দখল ও ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কোনো সরকারই তাদের নির্বাচনী ইশতেহারের বাইরে গিয়ে বিকেন্দ্রীকরণের প্রতিশ্রুতি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করেনি। জলাধার ও প্রাকৃতিক জলপ্রবাহ ধ্বংসের কারণে ঢাকা ভবিষ্যতে ভয়াবহ জনস্বাস্থ্য সংকটে পড়বে এবং এটি আগামী দিনে ‘বিকলাঙ্গ প্রজন্ম তৈরির কারখানা’ হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল শহর হতে পারে ঢাকা: জাতিসংঘ

আপডেট সময় : ০২:২৭:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

জাতিসংঘের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল নগরী বা মেগাসিটিতে পরিণত হতে পারে। ২০০০ সালে এই তালিকায় ঢাকার অবস্থান নবম থাকলেও, ২০২৫ সালে তা দ্বিতীয় এবং ২০৫০ সালে শীর্ষ অবস্থানে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জাতিসংঘের ‘ওয়ার্ল্ড আরবানাইজেশন প্রসপেক্টস ২০২৫’ অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বৃহত্তর ঢাকা নগর সমষ্টির জনসংখ্যা দাঁড়াবে ৩ কোটি ৬৫ লাখ ৮৫ হাজারে, যা ২০৫০ সালে ৪২ শতাংশ বেড়ে ৫ কোটি ২১ লাখ ২৩ হাজারে পৌঁছাতে পারে। অর্থাৎ আগামী ২৫ বছরে এই মহানগরে আরও প্রায় ১ কোটি ৫৫ লাখ মানুষ যুক্ত হবে। ২০৫০ সালে ঢাকার পরেই থাকবে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা (৫ কোটি ১৭ লাখ ৮৪ হাজার) এবং জাপানের টোকিও (৩ কোটি ৬ লাখ ৫৮ হাজার)।

বর্তমানে ঢাকার প্রকৃত জনসংখ্যা নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য না থাকলেও পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মোট জনসংখ্যা প্রায় ১ কোটি ২৮ লাখ। এর মধ্যে উত্তরে ৫৯ লাখ ৭৯ হাজার ৫৩৭ জন এবং দক্ষিণে ৪২ লাখ ৯৯ হাজার ৩৪৫ জন বাস করেন। তবে জাতিসংঘের নতুন নগরায়ণ পদ্ধতিতে শহরের চারপাশের বিস্তৃত অঞ্চলকেও হিসাব করা হয়েছে। জনশুমারি অনুযায়ী, উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৩০ হাজার ৪৭৪ জন এবং দক্ষিণে ৩৯,৩৫৩ জন বাস করেন। দুই সিটি মিলিয়ে গড় জনঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে প্রায় ৩৩ হাজার ৬০০ জন। লালবাগ, বংশাল, গেন্ডারিয়া ও সবুজবাগের মতো অতি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় প্রতি একরে ৭০০ থেকে ৮০০ জন এবং কিছু বস্তিতে প্রতি বর্গকিলোমিটারে ২ লাখ ২০ হাজার মানুষ বসবাস করছেন।

বিবিএস ও জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ৭০০ নতুন মানুষ ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় যুক্ত হচ্ছে। রাজধানীমুখী এই স্রোতের একটি বাস্তব উদাহরণ পাওয়া যায় ২০১৪ সালে ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের তথ্যে। দুটি সেশনে ভর্তি হওয়া মোট ৫২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪৭ জনই এসেছিলেন ঢাকার বাইরে থেকে। ২০১৮ সালে অনার্স শেষ করার পর তাঁদের মধ্যে মাত্র ৭ জন নিজ এলাকায় ফিরে গেছেন এবং ২ জন অন্য শহরে চাকরি করছেন। বাকিদের মধ্যে ১২ জন বিদেশে চলে গেলেও বড় একটি অংশ স্থায়ীভাবে ঢাকায় থেকে গেছেন।

অস্ট্রেলিয়ায় ‘মেগাসিটি পপুলেশন গ্রোথ ও আরবান প্ল্যানিং’ নিয়ে গবেষণারত আতিউর রহমান সৃজন মনে করেন, ঢাকার মূল সমস্যা কেবল জনসংখ্যা বৃদ্ধি নয়, বরং ধারণক্ষমতার সঙ্গে অবকাঠামোগত অসামঞ্জস্য। জনসংখ্যা বৃদ্ধির অনুপাতে আবাসন, যাতায়াত, পানি, পয়ঃনিষ্কাশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে উঠছে না। ফলে যানজট, দূষণ ও জীবনযাত্রার মানের ওপর চাপ বাড়ছে। এই সংকট কাটাতে ঢাকাকে আরও সম্প্রসারিত না করে ‘পলিসেন্ট্রিক আরবান ডেভেলপমেন্ট’ বা বহুকেন্দ্রীক নগর উন্নয়নের ওপর জোর দেন তিনি। তাঁর মতে, ঢাকার বাইরে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক হাব তৈরি করে কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে। একই সঙ্গে বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকি বিবেচনায় ঢাকাকে কিছুটা স্বস্তি দিতে তৈরি পোশাকশিল্পসহ বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো ধীরে ধীরে ঢাকার বাইরে সরিয়ে নেওয়া জরুরি।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. তাজুল ইসলাম চৌধুরী জনসংখ্যা বৃদ্ধির পরিবেশগত ও কৃষি খাতের ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, সীমিত জমিতে বাড়তি খাদ্যের চাহিদা মেটাতে ঢাকার চারপাশের কৃষি জমিতে বছরে ৩ থেকে ৪ বার ফসল ফলানো হচ্ছে। এই অতিরিক্ত ফলনের আশায় জমিতে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ও রাসায়নিক ব্যবহারের ফলে প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস হচ্ছে এবং পানি দূষিত হচ্ছে। এছাড়া পতিত জমি ও বন কেটে চাষাবাদ করায় দেশের মোট বনভূমির পরিমাণ ১০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে, যা পরিবেশের ভারসাম্যকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শাম্মী আক্তার সেতু বলেন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও উন্নত চিকিৎসার সুযোগ ঢাকাকেন্দ্রিক হওয়ার কারণেই মানুষ শহরমুখী হচ্ছে। এই চাপ কমাতে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বিকেন্দ্রীকরণের কোনো বিকল্প নেই। জেলা পর্যায়ে পর্যাপ্ত চিকিৎসক, উন্নত হাসপাতাল ও রোগনির্ণয় সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে ঢাকার ওপর স্বাস্থ্যসেবার অতিরিক্ত চাপ কমবে। পাশাপাশি জেলাগুলোতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করলে কাজের সন্ধানে ঢাকায় এসে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে যুক্ত হওয়া মানুষের একটি বড় অংশকে নিজ এলাকাতেই ধরে রাখা সম্ভব হবে।

নগরপরিকল্পনাবিদ স্থপতি ইকবাল হাবিব সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ঢাকাকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বিনোদনের এককেন্দ্রিক শহরে পরিণত করার কারণেই হকার ও অবৈধ যানবাহনের আধিক্য, ছিনতাই এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণ বাড়ছে। দেশের সুষম উন্নয়নকে অবহেলা করে ঢাকার চারপাশের খাল ও জলাশয়গুলো দখল ও ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কোনো সরকারই তাদের নির্বাচনী ইশতেহারের বাইরে গিয়ে বিকেন্দ্রীকরণের প্রতিশ্রুতি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করেনি। জলাধার ও প্রাকৃতিক জলপ্রবাহ ধ্বংসের কারণে ঢাকা ভবিষ্যতে ভয়াবহ জনস্বাস্থ্য সংকটে পড়বে এবং এটি আগামী দিনে ‘বিকলাঙ্গ প্রজন্ম তৈরির কারখানা’ হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin