নড়িয়ায় তালাবদ্ধ বসতঘরে আগুন, সাড়ে ৯ লাখ টাকার ক্ষতির অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০২:৪০:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর ইউনিয়নের পাচক এলাকায় জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে একটি তালাবদ্ধ বসতঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, এই অগ্নিকাণ্ডে তাদের প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ৫০ মিনিটের দিকে এই ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী সোনিয়া আফরোজ জানান, পাচক এলাকায় তাদের মায়ের নামে ২৫ শতাংশ জমি রয়েছে, যার দখল নিয়ে প্রতিবেশী রাজিয়া বেগমের সাথে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। সোনিয়া অভিযোগ করেন, রাজিয়া বেগম ওই জমির প্রায় ১৪ শতাংশ জোরপূর্বক দখল করে দেয়াল নির্মাণ করেছেন, যা নিয়ে বর্তমানে আদালতে দেওয়ানি ও উচ্ছেদ মামলা চলমান।
পরিবারটি দীর্ঘ ১৩ মাস ধরে শরীয়তপুর সদর এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করায় বসতঘরটি তালাবদ্ধ ছিল। সোনিয়ার ভাষ্যমতে, তালাবদ্ধ থাকার সুযোগ নিয়ে গভীর রাতে কয়েকজন ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে ঘরটিতে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে ঘরের তিনটি সেগুন কাঠের খাট, ড্রেসিং টেবিল, পানির মোটর, দুটি সিলিং ফ্যান, জিএমএস ড্রপ ও সোফাসেটসহ মূল্যবান আসবাবপত্র পুড়ে যায়। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ঘটনার পর ভোজেশ্বর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা করছেন। সোনিয়া আফরোজ অভিযোগ করেন, ঘটনার পর তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে গেলেও পুলিশ তা গ্রহণ করেনি। তার দাবি, অভিযুক্ত রাজিয়া বেগমের মেয়ের জামাই পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হওয়ায় অভিযোগ গ্রহণে গড়িমসি করা হয়েছে। পরে তিনি পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করেন।
তবে ভোজেশ্বর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জুবায়ের হোসেন লিখিত অভিযোগ না নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে আমরা সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে আমাদের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” অভিযুক্ত রাজিয়া বেগমের বাড়িতে তার বক্তব্য জানতে গিয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।



























