রাজশাহীতে চাল ব্যবসায়ীদের কোটি টাকা নিয়ে উধাও প্রতারক চক্র
- আপডেট সময় : ০১:৪২:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহীতে অর্ধশতাধিক চাল ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় এক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে এক প্রতারক ও তার সহযোগী উধাও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের দাবি, জেলার নওহাটা, মৌগাছি ও কেশরহাট এলাকার ব্যবসায়ীরা এই চক্রের কাছে বিপুল পরিমাণ টাকা পাওনা রয়েছেন। এর মধ্যে কেবল নওহাটা এলাকার ২৮ জন ব্যবসায়ীর পাওনাই প্রায় ৬২ লাখ টাকা।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে পবা উপজেলার নওহাটা বাজারের তপন বাবুর চাউল মিলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় চাতাল ও চাল ব্যবসায়ীরা এই অভিযোগ তোলেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নওহাটা এলাকার চাল ব্যবসায়ী আব্দুর রব। এ সময় মোজাম্মেল হক ও আবু বকরসহ প্রায় ২০ জন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, রাজশাহীর নওহাটা এলাকার চাতালের চালের দীর্ঘদিনের সুনাম রয়েছে। প্রায় এক বছর ধরে ব্যবসায়ীরা রাজশাহী মহানগরীর মেহেরচণ্ডী (কড়াইতলা) এলাকার ওয়াহিদুজ্জামান শিশু ও তার ব্যবসায়িক সহযোগী মো. আজমীর রহমানের সঙ্গে চালের ব্যবসা করে আসছিলেন। শুরুতে আজমীর ও শিশু নিয়মিত লেনদেন করতেন এবং চাল নেওয়ার পর সময়মতো মূল্য পরিশোধ করে ব্যবসায়ীদের আস্থা অর্জন করেন। কিন্তু চলতি বছরের আগস্ট মাস থেকে তাদের লেনদেনে অনিয়ম দেখা দেয়। বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও তারা পাওনা টাকা পরিশোধ করেননি।
ব্যবসায়ীদের দাবি, সেপ্টেম্বর মাসে পাওনা টাকা পরিশোধের জন্য চাপ দেওয়া হলে গত ১৭ সেপ্টেম্বর তারা জানতে পারেন আজমীর রহমান এলাকায় নেই। তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটিও বন্ধ রয়েছে। পরে জানা যায়, আগের রাতেই আজমীর মেহেরচণ্ডীর বাসা থেকে চলে গেছেন। আজমীর রহমানের স্থায়ী বাড়ি রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার নন্দগাছি ভাটপাড়া এলাকায়। তার বাবার নাম মৃত ইদ্রিস আলী এবং মায়ের নাম মাজেদা বেগম।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, শুধু নওহাটা এলাকার ব্যবসায়ীদের ৬২ লাখ টাকা ছাড়াও মৌগাছি ও কেশরহাট এলাকার ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও ৪০ লাখ টাকার বেশি হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। কৌশলে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে একসঙ্গে চাল কেনার পর টাকা পরিশোধ না করেই আজমীর রহমান আত্মগোপন করেছেন। এদিকে তার ব্যবসায়িক সহযোগী ওয়াহিদুজ্জামান শিশু দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে ব্যবসায়ীরা জানতে পেরেছেন। পাওনা টাকা ফেরত চাইলে শিশু ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করছেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।
ব্যবসায়ীরা জানান, এই প্রতারণার প্রতিকার চেয়ে গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে ২৫ থেকে ৩০ জন ব্যবসায়ী নওহাটা পৌরসভার সাবেক মেয়র আলহাজ শেখ মো. মোকবুল হোসেনের চেম্বারে বৈঠক করেন। সাবেক মেয়র নিজে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ফোন করে ব্যবসায়ীদের সেখানে পাঠান। তবে চন্দ্রিমা থানায় গিয়ে অভিযোগ জানাতে চাইলে থানার সেকেন্ড অফিসার তাদের লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করেননি। পরবর্তীতে পবা থানায় গেলেও সেখানেও অভিযোগ নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন ব্যবসায়ীরা।
সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীরা বলেন, তারা আইন নিজের হাতে তুলে নিতে চান না। তারা শুধু কষ্টার্জিত টাকা ফেরত এবং আইনগত প্রতিকার চান। এ জন্য প্রশাসনের কাছে অভিযোগ গ্রহণ করে নিরপেক্ষ তদন্ত, আজমীর রহমানের অবস্থান শনাক্ত করে তাকে আইনের আওতায় আনা, ওয়াহিদুজ্জামান শিশুর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা এবং পাওনা টাকা উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে কেন তাদের অভিযোগ গ্রহণ করা হয়নি, তা খতিয়ে দেখতে আরএমপি কমিশনারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
এ বিষয়ে আরএমপির মুখপাত্র গাজিউর রহমান বলেন, “ব্যবসায়ীরা তাদের সঙ্গে লেনদেন করেছেন। তাদের বাকি দিয়েছেন। কিন্তু পুলিশের কাজ তো তাদের বাকি উঠিয়ে দেওয়া নয়। ব্যবসায়ীরা এ বিষয়ে সিভিল কোর্টে যেতে পারেন। তবে এখানে যদি কোনো ফৌজদারি অপরাধ হয়ে থাকে, তাহলে পুলিশ এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”




























