সীতাকুণ্ডে হিমাগারের অভাবে পচছে ৩০-৪০ শতাংশ সবজি, লোকসানে কৃষক
- আপডেট সময় : ০২:৩৯:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

সীতাকুণ্ডে মৌসুমি সবজির বাম্পার ফলন হলেও সংরক্ষণের অভাবে তা কৃষকদের জন্য কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে কোনো আধুনিক হিমাগার বা কোল্ড স্টোরেজ না থাকায় প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ উৎপাদিত পচনশীল সবজি নষ্ট হচ্ছে। মৌসুমের সময় বাজারে সবজির সরবরাহ বাড়লে দাম কমে যায়, যার ফলে কৃষকেরা নামমাত্র মূল্যে ফসল বিক্রি করতে বাধ্য হন। অনেক সময় ক্রেতা বা পরিবহনের অভাবে খেতেই ফসল পচে নষ্ট হয়ে যায়।
উপজেলার মুরাদপুর, বাড়বকুণ্ড, সৈয়দপুর ও কুমিরা এলাকার মাঠগুলোতে বর্তমানে টমেটো, ফুলকপি, বাঁধাকপি ও শসাসহ বিভিন্ন মৌসুমি শাকসবজির প্রচুর ফলন দেখা গেছে। তবে সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় চোখের সামনেই ফসল নষ্ট হতে দেখছেন কৃষকেরা। সরকারি কোনো হিমাগার না থাকায় প্রান্তিক চাষিদের অনেকেই চড়া সুদে ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করে শেষ পর্যন্ত লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে বাড়ি ফিরছেন।
কৃষকদের অভিযোগ, মধ্যস্বত্বভোগী ও সিন্ডিকেটের কারসাজির কারণে তারা ফসলের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। কম দামে কেনা এই সবজিই পরে সাধারণ ভোক্তাদের কাছে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, হিমাগার না থাকায় সীতাকুণ্ডে প্রতি বছর উৎপাদিত সবজির প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশই অপচয় হয়। এই বিপুল অপচয় শুধু কৃষকদেরই নয়, সামগ্রিক কৃষি অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
মুরাদপুর এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মো. আবদুল মালেক নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তিনি এ বছর দুই বিঘা জমিতে টমেটো চাষ করে বেশ ভালো ফলন পেয়েছেন। কিন্তু সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় কম দামে সব বিক্রি করে দিতে হচ্ছে। তিনি বলেন, পাইকাররা সিন্ডিকেট করে দাম কমিয়ে দেয়। সরকার যদি এলাকায় একটি সরকারি হিমাগার তৈরি করে দিত, তবে এই দুর্ভোগ পোহাতে হতো না। অবহেলা আর লোকসানের কারণে অনেক ঐতিহ্যবাহী কৃষক পরিবার এখন কৃষিকাজ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।
কৃষিপণ্যের অপচয় রোধ ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যায়ে হিমাগার স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন কৃষক ও কৃষি বিশেষজ্ঞরা। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কল্পনা রহমান জানান, সীতাকুণ্ডে সবজির উৎপাদন ভালো হলেও হিমাগার না থাকায় কৃষকদের লোকসানের বিষয়টি তারা অবগত আছেন। কৃষকদের এই সংকট দূর করতে ঊর্ধ্বতন মহলে আলোচনা চলছে এবং সরকারিভাবে কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণের একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। দ্রুতই এই সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।




























