চরফ্যাশনে ৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে সড়ক সবুজ করলেন ইমাম রেজাউল
- আপডেট সময় : ০৪:১০:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নে মসজিদের ইমামতির পাশাপাশি গত তিন দশক ধরে সড়কের পাশে গাছ লাগিয়ে চলেছেন মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। তাঁর এই মহৎ উদ্যোগে গ্রামের সড়কগুলো এখন পরিণত হয়েছে নয়নাভিরাম সবুজ করিডোরে। বিশেষ করে সারি সারি তালগাছের ছায়ায় বদলে গেছে গ্রামীণ সড়কের চিরচেনা চিত্র।
রেজাউল কিবরিয়া স্থানীয় কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ইমামতির অবসর সময়টুকু তিনি ব্যয় করেন গাছ লাগানো ও সেগুলোর পরিচর্যায়। তাঁর এই বৃক্ষরোপণ অভিযানের সূচনা হয় ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে। সে সময় নিজের পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন তিনি। সেই নার্সারিতে উৎপাদিত ও সংগৃহীত বিভিন্ন জাতের চারা তিনি এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করা শুরু করেন। শুধু নিজে গাছ লাগিয়েই ক্ষান্ত হননি, স্থানীয় বাসিন্দাদেরও মাইকিং করে বৃক্ষরোপণে উদ্বুদ্ধ করেছেন।
ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুপাশে প্রায় দুই দশক আগে তাঁর লাগানো তালগাছগুলো এখন বিশাল আকার ধারণ করেছে। সবুজে ঘেরা এই সড়ক দেখতে এখন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসেন। স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুপাশের শত শত তালগাছ এলাকাটির সৌন্দর্য বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিকেল বা সন্ধ্যায় স্থানীয়রা এখানে সময় কাটাতে পছন্দ করেন। রেজাউল কিবরিয়ার এই দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা দেখে এলাকার অনেকেই এখন নিজেদের জমিতে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হচ্ছেন।
নিজের এই উদ্যোগ সম্পর্কে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যেই তিনি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগাচ্ছেন। এ পর্যন্ত তিনি বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা রোপণ করেছেন, যার মধ্যে ২৫ থেকে ৩০ হাজারই হলো তালগাছের বীজ ও চারা। ঝড়ের দিনে বজ্রপাতের হাত থেকে রক্ষা পেতে তিনি বন বিভাগের পরামর্শ নিয়ে তালগাছ রোপণে বেশি জোর দিয়েছেন। বর্তমানে নিজের নার্সারিতে চারা তৈরির সময় না পাওয়ায় তিনি ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন জাতের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।
গাছ লাগানোকে ‘সদকায়ে জারিয়া’ বা স্থায়ী কল্যাণ হিসেবে গণ্য করেন এই ইমাম। আজীবন এই কাজ চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে তিনি তরুণদের মাদক ও অন্যান্য খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান। এদিকে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ এই মহতী উদ্যোগের প্রশংসা করে জানান, রেজাউল কিবরিয়ার এই দীর্ঘদিনের কাজের বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। তবে তিনি খোঁজখবর নিয়ে এই বৃক্ষপ্রেমী ইমামের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন।




























