কলমাকান্দায় সাঁকোর বাঁশ ভেঙে পানিতে ডুবে মাদরাসাছাত্রের মৃত্যু
- আপডেট সময় : ০৯:২৯:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে

নেত্রকোণার কলমাকান্দায় মাদরাসা থেকে বাড়ি ফেরার পথে বাঁশের সাঁকো ভেঙে পানিতে পড়ে আরাফ নামের সাত বছরের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রোববার বিকেলে উপজেলার সদর ইউনিয়নের কয়রাখালী গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আরাফ ওই গ্রামের হৃদয় মিয়ার ছেলে এবং সে স্থানীয় একটি মাদরাসার শিক্ষার্থী ছিল।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিকেলে মাদরাসা ছুটি হওয়ার পর বাড়ি ফিরছিল আরাফ। বাড়ির কাছাকাছি এসে গ্রামের একটি বাঁশের সাঁকো পার হচ্ছিল সে। এ সময় শিশুটির মা কাছেই দাঁড়িয়ে ছেলের সাঁকো পার হওয়া দেখছিলেন। একপর্যায়ে মা বাড়ির দিকে পা বাড়ালে এর কিছুক্ষণ পরই সাঁকোর একটি বাঁশ ভেঙে যায়। এতে ভারসাম্য হারিয়ে পানিতে পড়ে যায় আরাফ।
পানিতে পড়ার শব্দ শুনে মা দ্রুত ছুটে এসে দেখেন তাঁর ছেলে পানিতে তলিয়ে গেছে। তাঁর চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে আসেন। পরে সবার সহযোগিতায় পানিতে তল্লাশি চালিয়ে আরাফকে উদ্ধার করা হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে দ্রুত কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। শিশুটি যখন সাঁকো পার হচ্ছিল, তখন তার মা কাছেই ছিলেন। সাঁকোর বাঁশ ভেঙে সে পানিতে পড়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে।
এদিকে আরাফের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্থানীয়দের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গ্রামাঞ্চলের অনেক এলাকাতেই এখনো ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো দিয়ে শিশু ও শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে যাতায়াত করতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় এসব সাঁকো দিয়ে পারাপার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই দুর্ঘটনার পর কয়রাখালী গ্রামের ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকোটি দ্রুত সংস্কার করার অথবা সেখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলার সদর ইউনিয়নের কয়রাখালী গ্রামে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।




























