ঢাকা ০৮:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আরেকটি অনিবার্য বিপ্লব আসন্ন, প্রস্তুতির আহ্বান জামায়াত আমীরের যুক্তরাজ্যের চিভনিং স্কলারশিপ: ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষের আবেদনের সুযোগ হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনার খবরে বিশ্ববাজারে কমল তেলের দাম প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মঞ্চে আসন পেলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস জড়তা কাটাতে শুটিংয়ের আগে গালিগালাজের অনুশীলন করেছিলেন দীপিকা দেশের প্রথম রাষ্ট্রীয় ভেঞ্চার ক্যাপিটাল এক্সিট সম্পন্ন করল স্টার্টআপ বাংলাদেশ ইরানের সঙ্গে সমঝোতা চান ট্রাম্প, ‘মানুষ হত্যা করতে চান না’ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮৫তম প্রয়াণবার্ষিকী আজ সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনই আনসার বাহিনীর প্রধান কর্তব্য: ডিজি গ্যাস সংকটে লোকসানের মুখে সিএনজি স্টেশন, চাকরি হারানোর শঙ্কায় কর্মীরা

বরগুনার তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ আদালতের

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৫০:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

বরগুনার বেতাগী থানার এক তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে বরগুনার বেতাগী জি.আর. আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনোয়ার হোসেন এ আদেশ দেন। এছাড়া এই আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে আগামী ২৯ আগস্টের মধ্যে আদালতকে অবহিত করতে বরগুনার পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালতের নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, জি.আর.-১৬/২০২৫ (বেতাগী) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. নজরুল ইসলাম আসামি মো. সাইফুল ইসলাম বনি আমিনকে (৪১) ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। কিন্তু মামলার ঘটনার তারিখ ছিল ২০২৫ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি। অথচ আসামি অন্য একটি মামলায় ওই বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০ মে পর্যন্ত টানা জেলহাজতে ছিলেন। কারাগারে থাকা অবস্থায় কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ছাড়া তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৭ (ক) ধারার বিধান লঙ্ঘন বলে আদালত উল্লেখ করেন।

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, এটি একজন নাগরিকের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার চরম অপব্যবহার। এছাড়া ওই আসামি হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মিস কেস নং-৩১৫৮৩/২০২৫-এর মাধ্যমে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিনপ্রাপ্ত ছিলেন।

এর আগে গত ২৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে আদালতে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এসআই নজরুল ইসলাম তার জবাবে জানান, গোপন সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে তিনি সরল বিশ্বাসে আবেদনটি করেছিলেন এবং ভুল তথ্যের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। তিনি নিজের অজ্ঞতা স্বীকার করে আদালতের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং ভবিষ্যতে আরও সতর্ক থাকার অঙ্গীকার করেন।

তবে আদালত তার এই ব্যাখ্যা গ্রহণ করেননি। আদেশে বলা হয়, একজন দায়িত্বশীল তদন্তকারী কর্মকর্তা কেবল গোপন সূত্রের তথ্যের ওপর অন্ধভাবে নির্ভর করতে পারেন না। তথ্য যাচাই করা তার পেশাগত দায়িত্ব। আসামি কারাগারে থাকা সত্ত্বেও বিষয়টি নিশ্চিত না করে আদালতে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা তদন্ত কর্মকর্তার চরম গাফিলতি, দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও পেশাগত অদক্ষতার পরিচায়ক। এ কারণে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

বরগুনার তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ আদালতের

আপডেট সময় : ০৬:৫০:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
print news

বরগুনার বেতাগী থানার এক তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে বরগুনার বেতাগী জি.আর. আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনোয়ার হোসেন এ আদেশ দেন। এছাড়া এই আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে আগামী ২৯ আগস্টের মধ্যে আদালতকে অবহিত করতে বরগুনার পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালতের নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, জি.আর.-১৬/২০২৫ (বেতাগী) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. নজরুল ইসলাম আসামি মো. সাইফুল ইসলাম বনি আমিনকে (৪১) ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। কিন্তু মামলার ঘটনার তারিখ ছিল ২০২৫ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি। অথচ আসামি অন্য একটি মামলায় ওই বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০ মে পর্যন্ত টানা জেলহাজতে ছিলেন। কারাগারে থাকা অবস্থায় কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ছাড়া তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৭ (ক) ধারার বিধান লঙ্ঘন বলে আদালত উল্লেখ করেন।

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, এটি একজন নাগরিকের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার চরম অপব্যবহার। এছাড়া ওই আসামি হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মিস কেস নং-৩১৫৮৩/২০২৫-এর মাধ্যমে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিনপ্রাপ্ত ছিলেন।

এর আগে গত ২৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে আদালতে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এসআই নজরুল ইসলাম তার জবাবে জানান, গোপন সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে তিনি সরল বিশ্বাসে আবেদনটি করেছিলেন এবং ভুল তথ্যের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। তিনি নিজের অজ্ঞতা স্বীকার করে আদালতের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং ভবিষ্যতে আরও সতর্ক থাকার অঙ্গীকার করেন।

তবে আদালত তার এই ব্যাখ্যা গ্রহণ করেননি। আদেশে বলা হয়, একজন দায়িত্বশীল তদন্তকারী কর্মকর্তা কেবল গোপন সূত্রের তথ্যের ওপর অন্ধভাবে নির্ভর করতে পারেন না। তথ্য যাচাই করা তার পেশাগত দায়িত্ব। আসামি কারাগারে থাকা সত্ত্বেও বিষয়টি নিশ্চিত না করে আদালতে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা তদন্ত কর্মকর্তার চরম গাফিলতি, দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও পেশাগত অদক্ষতার পরিচায়ক। এ কারণে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin